সার শুনানির আতঙ্ক, বছরের প্রথম দিনেই মৃত ২

Must read

প্রতিবেদন : দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। আগেও ভোট দিয়েছেন। তবুও ফের প্রমাণ করতে হচ্ছে নাগরিকত্ব। বাংলার মানুষের উপর এভাবেই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এসআইআর। আর বছরের প্রথম দিনেই সেই চাপের বলি হলেন রাজ্যের আরও দুই নাগরিক। কারও নথির সমস্যা, কারও বা ২০০২-এর তালিকায় নাম না থাকা, সেই আতঙ্কেই (SIR) বছরের শুরুতে মৃত্যু হল বাঁকুড়ার এক বৃদ্ধা ও উত্তর চব্বিশ পরগনার এক বৃদ্ধের। উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের স্বরূপনগর থানার স্বরূপদা গ্রামের বাসিন্দা বছর ষাটেকের সুলতান সর্দার। পরিযায়ী শ্রমিক হওয়ায় কারণে ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। পরিবারের সকলের নাম রয়েছে।
২৭ ডিসেম্বর বিডিও অফিসে শুনানিতে গিয়েছিলেন সুলতান। পরিবারের অভিযোগ, সেই থেকে তিনি আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন এবং বিছানা নেন। হামেশাই বলতেন, ছেলেপুলেকে ছেড়ে কি চলে যেতে হবে? দুশ্চিন্তা থেকে প্রেশার হাই হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের ছেলে ওসমান সর্দারের দাবি, এসআইআর-এর (SIR) কারণেই বাবার মৃত্যু হয়েছে। এর জন্যই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, বুধবার রাতে মৃত্যু হয় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের লেদার ঘাট গ্রামের রহিমা বিবির। ৬৫ বছরের রহিমার নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় ছিল না। বৈবাহিক কারণে নাম তোলার সমস্যা ছিল। তাঁর ভোটার ও আধার কার্ড দুই-ই ছিল। কিন্তু ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় শুনানিতে ডাক পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, তিনি সেদিন থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গত ২ জানুয়ারি এসআইআর শুনানিতে ডাক পড়েছিল রহিমার। লোকমুখে ডিটেনশন ক্যাম্প ও পুশব্যাকের কথা শুনে আতঙ্ক আরও চেপে বসেছিল। সুরাহা খুঁজতে বারবার ছুটে যান স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে। সাধ্যমতো সাহায্যের আশ্বাসও দেন পঞ্চায়েত সদস্য। কিন্তু তাতেও আতঙ্ক কাটেনি রহিমার। বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

আরও পড়ুন- পাটশিল্প নিয়ে কেন্দ্রকে পাল্টা দিল তৃণমূল! চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি

Latest article