দিল্লিতে মধ্যরাতে উচ্ছেদ অভিযানে মসজিদের কাছে সংঘর্ষে জখম ৫ পুলিশকর্মী

দিল্লি বিস্ফোরণের আগে এই মসজিদে গিয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত উমর উন নবি। তবে এই মসজিদের চারপাশে বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছে।

Must read

মধ্যরাতে উচ্ছেদ অভিযান! মসজিদের পাশে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। নিমেষের মধ্যেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। বুধবার ভোরে দিল্লির তুর্কমান গেটের কাছে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে বলে অভিযোগ। পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। এদিনের এই ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন ৫ পুলিশকর্মী। আপাতত তাদের উদ্ধার করে তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাফ।

আরও পড়ুন-নেতাই এর অমর শহিদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য মুখ্যমন্ত্রীর

জানা গিয়েছে, দিল্লির রামলীলা ময়দানের কাছে তুর্কমান গেট এলাকায় শতাব্দী প্রাচীন ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদ আছে। দিল্লি বিস্ফোরণের আগে এই মসজিদে গিয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত উমর উন নবি। তবে এই মসজিদের চারপাশে বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছে। এই নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলাও হয়। তারপরেই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার মাঝরাতে দিল্লি পুরসভা এবং পুলিশ বুলডোজ়ার নিয়ে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার অবৈধ নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। অভিযোগ উঠে আসে মসজিদের একাংশও ভেঙে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকে নামানো হয়।

আরও পড়ুন-নেতাই এর অমর শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

পুলিশ সূত্রে খবর, ‘মৃদু বলপ্রয়োগ’ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার কথা পুলিশ মানতে নারাজ। যদিও ভিডিওতে গ্যাস ছুড়তে দেখা গিয়েছে। সেন্ট্রাল রেঞ্জের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মধুর ভার্মা এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন অবৈধ নির্মাণ ভাঙার সময়ে কিছু দুষ্কৃতী অশান্তি করার চেষ্টা করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন-আজ শহরে শুরু দাবা যুদ্ধ চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আনন্দ

প্রসঙ্গত, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দিল্লি পুরসভা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয় মসজিদের পরিচালন কমিটি বা দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড (DWB) ওই জমির মালিকানা বা বৈধ দখলের কোনও নথি পেশ করতে পারেনি। তাই ০.১৯৫ একরের বেশি জায়গায় থাকা নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে। এবার ওই ০.১৯৫ একর জমির মধ্যেই মূল মসজিদটিও আছে। গত রবিবার এলাকা চিহ্নিত করতে গেলে পুলিশ বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। তারপরে সেখানে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়। তবে আপাতত সিসিটিভি ও বডিক্যাম ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Latest article