পারিবারিক বিবাদ? ট্যাংরায় তিনজনই খুন

কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই তিনজনের ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তাতে স্পষ্ট বাড়ির দুই বউ ও এক মেয়েকে খুন করা হয়েছে।

Must read

প্রতিবেদন : ট্যাংরায় একই পরিবারের তিনজনের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, তিনজনকেই ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় ধৃত পরিবারের দুই কর্তা পুলিশকে জানিয়েছিলেন আর্থিক কারণে তাঁরা সপরিবারে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই তিনজনের ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তাতে স্পষ্ট বাড়ির দুই বউ ও এক মেয়েকে খুন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন-অসম তৃণমূল কংগ্রেসের নয়া কমিটি ঘোষণা দলের

দুই জায়ের হাতের শিরা কাটা ও গলার নলি কাটা ছিল। এছাড়াও শরীরে আরও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত কিশোরীর শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। যা দেখে প্রাথমিক ধারণা, তিনজনকেই খুন করা হয়েছে। ট্যাংরার ওই বাড়ির তিনটি আলাদা ঘর থেকে গত বুধবার সকালে উদ্ধার হয় ২ মহিলার হাতের শিরাকাটা রক্তাক্ত দেহ। পাশের ঘরে এক কিশোরীর নিথর দেহ। মৃতা সুদেষ্ণা দে-র পরিবাররের তরফে লিখিতভাবে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। ওইদিন গড়ফা থানা এলাকায় মেট্রোর পিলারে ধাক্কা মারে একটি গাড়ি। জখম হন গাড়িতে থাকা দুজন এবং এক শিশুও। জখম দু’জনের নাম প্রসূন দে ও প্রণয় দে। তাঁরা সম্পর্কে দুই ভাই। তাঁদের সঙ্গেই ছিল প্রণয়ের ছেলে প্রতীপ। ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হতেই রহস্য ঘনীভূত হয়। দুই ভাই জানায়, তাঁদের চামড়ার ব্যবসা। কিন্তু ব্যবসায় মন্দার ফলে বাজারে প্রচুর ধারদেনা হয়ে গিয়েছে। সেই হতাশায় গোটা পরিবার আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

আরও পড়ুন-ভাঙড়ে ভাঙন, আইএসএফ নেতা-সহ ৫০০ জন তৃণমূলে

পুলিশের কাছে তাঁরা দাবি করেন, ঘটনার দিন রাতে প্রথমে পায়েসে কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ মিশিয়ে খায় গোটা পরিবার। তাতে কিছু না হওয়ায় পরে হাতের শিরা কাটেন। সোমবার রাতে কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ মেশানো পায়েস খেয়েছিলেন পরিবারের ছয় সদস্যই। সকালে প্রসূন দে-র মেয়ে প্রিয়ম্বদা বমি করে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। তাকে মৃত ভেবে পরিবারের বাকি সদস্যরা নিজেদের হাতের শিরা কেটে ফেলেন। এর পর প্রণয় ও প্রসূন ছেলেকে নিয়ে ছাদে উঠেন। সেখান থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন। কিন্তু সফল হননি তাঁরা। শেষে গভীর রাতে ছেলেকে নিয়ে গাড়ি করে বাড়ি ছাড়েন দুই ভাই। সেই রাতেই মেট্রোর পিলারে ধাক্কা মারে তাদের গাড়ি। সেই ধাক্কা দুর্ঘটনা না ইচ্ছাকৃত তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দুই মহিলা ও কিশোরীকে খুনের প্রমাণ মেলায় গোটা ঘটনাই অন্যদিকে মোড় নিল।

Latest article