রাজমিস্ত্রি থেকে ৩৫ লাখের গাড়ির মালিক, বিজেপি নেতার কীর্তিতে সরব দলের কর্মীরা

জানা গিয়েছে, এই বিজেপি নেতা হলেন নন্দীগ্রাম ১ পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ সুখেন্দু দাস।

Must read

সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম : ছিলেন রাজমিস্ত্রি। হয়েছেন পঞ্চায়েতের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ। তাতেই ফুলেফেঁপে লাল নন্দীগ্রামের বিজেপি (BJP) নেতা। রাজমিস্ত্রি থেকে বর্তমানে ৩৫ লাখের জেসিবির মালিক তিনি। রাতারাতি বিজেপি নেতার এই ফুলেফেঁপে ওঠার খবরে তোলপাড় নন্দীগ্রাম।

আরও পড়ুন-ধ্রুবর আশ্চর্য জীবন

জানা গিয়েছে, এই বিজেপি নেতা হলেন নন্দীগ্রাম ১ পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ সুখেন্দু দাস। তাঁর এই বিপুল বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন নিজেদের দলের নেতাকর্মীরাই। প্রথম থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন সুখেন্দু। সঙ্গে রাজনীতি। ২০২৩ সালে বিজেপির হয়ে পঞ্চায়েত ভোটে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হন। ভোটে জিতে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষও হন সুখেন্দু। মাত্র কয়েক বছরেই বিপুল পরিমাণে ফুলেফেঁপে উঠেছেন তিনি। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখের রয়েল বাইক কিনেছেন। চলতি সপ্তাহে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার জেসিবিও কিনে ফেলেছেন এই নেতা। তাতেই চক্ষু চড়কগাছ সকলের। সুখেন্দু রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও তাঁর একাধিক অবৈধ ব্যবসা রয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। বর্তমানে বালি ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে তিনি যুক্ত। এছাড়াও রাজমিস্ত্রিদের নিয়ে নিজে একটি গ্রুপ বানিয়েছেন তিনি। এককথায় বলা চলে, বর্তমানে তিনি রাজমিস্ত্রিদের ঠিকাদার। এতে যেভাবে নিজের উন্নতি করে ফেলেছেন ওই বিজেপি নেতা তাতে বিজেপির একাংশ তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির এক কর্মীর দাবি, ‘আমরা চাই খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ যেন বেশি করে ঝেড়ে একটা ক্রেন কিনতে পারে। তার জন্য আমরা ভারতীয় জনতা পার্টিকে অনুরোধ করব আবার আগামী দিনে যেন ওঁকে টিকিট দেয়।’ দলের নেতার এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে বিজেপির একাধিক গ্রুপে এই নিয়ে পোস্ট চালাচালি হতে কয়েকটি গ্রুপ ছেড়ে দিয়েছেন এই নেতা। যদিও তাঁর সাফাই, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জেসিবি কিনেছি। তিলে তিলে পরিশ্রম করে এসব করেছি। বর্তমানে আমার একাধিক ব্যাংক লোন আছে।’ এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গের দাবি, ‘ওই নেতা একাধিক অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাতেই এভাবে ফুলেফেঁপে উঠছেন উনি। তদন্ত হওয়া উচিত ওই নেতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে।’

Latest article