চিত্তরঞ্জন খাঁড়া: ওড়িশা ম্যাচের একটা টিকিট হটকেক। শনিবার দুপুর পর্যন্ত মোহনবাগানের হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৬০ হাজার টিকিট নিঃশেষিত। রবিবারের যুবভারতী ইতিহাসের মোহনভারতী হয়ে ওঠার অপেক্ষায়। আইএসএলের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দু’বার লিগ-শিল্ড জয় থেকে মাত্র তিন পয়েন্ট দূরে মোহনবাগান। ওড়িশাকে হারিয়েই শিল্ড মুঠোয় নিতে মরিয়া জোসে ফ্রান্সিসকো মোলিনার দল। ২১ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট সবুজ-মেরুনের। জিতলে শীর্ষে থেকে ম্যাজিক ফিগার ৫২ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে মোলিনা ব্রিগেড। গোয়া সর্বোচ্চ ৫১ পয়েন্টে শেষ করতে পারবে। এদিন তারা ২-০ গোলে হারাল কেরলকে। ২১ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট গোয়ার।
আরও পড়ুন-রাজ্যের উদ্যোগে উত্তর দিনাজপুরে মোবাইল ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি
জেসন কামিন্সদের কোচ গোটা দলকে সতর্কতার চাদরে মুড়ে রেখেছেন। শিল্ড জয়ের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ নয়, বরং আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই ওড়িশা দ্বৈরথকে দেখছেন মোলিনা। শনিবার রাতে কেরলের বিরুদ্ধে গোয়া হারলে মাঠে নামার আগেই শিল্ড জয় নিশ্চিত হয়ে যেত মোহনবাগানের। কিন্তু সেটা হয়নি। দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে এসে বাগানের স্প্যানিশ বস পরিষ্কার বলে যান, ‘‘গোয়া কী করল, সেটা নিয়ে আমাদের ভেবে কী লাভ! আমাদের একটাই লক্ষ্য, ওড়িশা ম্যাচ জেতা। বিশ্রাম নেব, রিল্যাক্স করব শিল্ড হাতে তুলে। তার আগে নয়। ছেলেরা আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আত্মতুষ্ট নয়।’’
শিল্ড জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কি চাপ অনুভব করছেন তিনি? আত্মবিশ্বাসী মোলিনার পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘কীসের চাপ? আমরা সেরা জায়গায় রয়েছি। তিন ম্যাচ আগেই খেতাবের সামনে। মরশুমের প্রথম থেকে পরিশ্রম করার মন্ত্র নিয়েই শুরু করেছিলাম। এখনও তাই। কাজ শেষ হয়নি। ওড়িশার বিরুদ্ধে পরিশ্রম করেই তিন পয়েন্ট অর্জন করতে হবে।’’
স্বদেশি লোবেরার সঙ্গে মগজাস্ত্রের লড়াই। প্রতিপক্ষ ওড়িশা ২১ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে। সুপার সিক্সে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই করছেন হুগো বুমোসরা। কিন্তু মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে আহমেদ জাহুকে নিয়ে সমস্যায় পড়েছে তারা। জাহু নাকি ক্লাবকে না জানিয়েই দল ছেড়েছেন। তবে সবুজ-মেরুন শিবির প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না। বরং চেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের তুরুপের তাসগুলো খেলেই বাজিমাত করতে চান মোলিনা।
সাহাল আব্দুল সামাদ ছাড়া সবাই খেলার জন্য তৈরি। অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিং, আশিস রাই সম্পূর্ণ ফিট। কার্ড সমস্যা কাটিয়ে ফিরছেন গ্রেগ স্টুয়ার্ট। মোলিনা বললেন, ‘‘ওড়িশার খেলার ধরন আমরা জানি। ওরাও আমাদের জানে। ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই ওদের প্রথম একাদশ জেনে যাব। সেভাবে পরিকল্পনা করারও সুযোগ থাকবে।’’ শুরুর ব্যর্থতা কাটিয়ে মোহনবাগানের সাফল্যের রহস্য কি? কীভাবে তারকাদের সামলেছেন? মোলিনা বললেন, ‘‘পরিশ্রম। ফুটবলারদের প্রতিভা থাকলেই হয় না। পরিশ্রম করতে হয়।’’
১০ গোল করে নিজের জাত চেনাচ্ছেন জেমি ম্যাকলারেন। শেষ দুই ম্যাচে চার গোল করেছেন ‘এ’ লিগে পাঁচ বারের গোল্ডেন বুটজয়ী অস্ট্রেলীয় বিশ্বকাপার। বললেন, ‘‘কেরলের বিরুদ্ধে কামিন্সের পাস থেকে গোলটাকে আমি প্রথম দশে রাখব। ডার্বির গোলটাও আমার সেরা স্কোরের তালিকায় উপরের দিকে থাকবে। ভারতে এসেই ইতিহাসে নাম লেখানোর সুযোগ পাচ্ছি।’’