দুবাই, ২৪ ফেব্রুয়ারি : পাকিস্তান ম্যাচ জয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে রোহিত শর্মা অ্যান্ড কোং। পরের ম্যাচ আগামী রবিবার, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তাই সোমবার দিনটা ছুটির মেজাজেই কাটালেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। বাড়তি স্বস্তি, মহম্মদ শামি বা রোহিতের চোট তেমন গুরুতর নয়।
রবিবার পাকিস্তান ম্যাচে তিন ওভার বল করার পরেই শামির পেশিতে টান ধরেছিল। ফিজিওর প্রাথমিক চিকিৎসার পর, শামি মাঠ ছেড়ে বেরিয়েও যান। পরে অবশ্য মাঠে নেমে আরও পাঁচ ওভার বল করেন। অন্যদিকে, অধিনায়ক রোহিতেরও ফিল্ডিং করার সময় পায়ের পেশিতে টান লেগেছিল। তিনিও কিছু সময়ের জন্য মাঠে ছিলেন না। যদিও ভারতীয় শিবির সূত্রের খবর, দু’জনের কারও চোটই গুরুতর নয়। বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে হাতে যেহেতু কয়েকটা দিন সময় রয়েছে, তাই কোনও সমস্যা হবে না।
গতকাল সাংবাদিক বৈঠকে এসে শ্রেয়স আইয়ারও জানিয়েছিলেন, ‘‘রোহিত ভাই ও শামি ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওদের দেখে মনে হয়নি কোনও সমস্যা হচ্ছে। পরের ম্যাচ খেলতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’’ শ্রেয়স অবশ্য মজে বিরাট কোহলির দায়বদ্ধতা নিয়ে। পাক ম্যাচে দু’জনে বড় জুটি গড়েছিলেন। শ্রেয়স বলেছেন, ‘‘আমরা নিশ্চিত ছিলাম, বিরাট ভাই খুব দ্রুত বড় রান করবে। ম্যাচের আগের দিন ও আমাদের দেড় ঘণ্টা আগেই প্র্যাকটিসে এসেছিল। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, রান করার জন্য কতটা মুখিয়ে ছিল। এখনও দলের মধ্যে সবথেকে বেশি পরিশ্রম করে বিরাট ভাই। আমার সৌভাগ্য যে, ওর ইনিংসের বেশিরভাগ সময়টাই নন স্ট্রাইকার এন্ডে ছিলাম।’’
আরও পড়ুন- রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখুন
এদিকে, চোট সারিয়ে মাঠে ফিরে বল হাতে চেনা ফর্মে কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav)। বাঁ হাতি রিস্ট স্পিনার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন উইকেট শিকার করেছেন। কুলদীপ বলছেন, ‘‘চোটের জন্য ছ’মাস বাইরে ছিলাম। তবে ইংল্যান্ড সিরিজের দুটো ম্যাচ আত্মবিশ্বাস ফেরাতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও ভাল বল করেছিলাম।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘সবে ৩-৪টে ম্যাচ খেলেছি। এই মুহূর্তে বেশ ভাল ছন্দেও রয়েছি। তবে এর থেকেও ভাল বল করার ক্ষমতা আমার আছে। সত্যি কথা বলতে কী, যত বেশি ম্যাচ খেলব, ততই নিজের সেরা ছন্দে ফিরব।’’
আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার অক্ষর প্যাটেল এদিকে জানিয়েছেন, বিরাট যাতে সেঞ্চুরি করতে পারে, তার জন্য রীতিমতো অঙ্ক কষে ব্যাট করেছেন। অক্ষর বলেন, ‘‘বিরাট ভাইয়ের সেঞ্চুরি নিশ্চিত করার জন্য আমি শেষ দিকে মনে মনে অঙ্ক কষছিলাম। সতর্ক ছিলাম, যাতে ব্যাটের কানার লেগে চার না হয়ে যায়। এই প্রথমবার এত চাপের একটা ম্যাচের প্রায় পুরোটাই ড্রেসিংরুমে বসে দেখলাম। সেই ম্যাচেই বিরাট ভাই আবার সেঞ্চুরি পেল। দারুণ মজা পেয়েছি। ৫০ ওভার ফিল্ডিং করার পরেও বিরাট ভাই যেভাবে খুচরো রানের জন্য দৌড়চ্ছিল, তা দেখেই বোঝা যায় ওঁর ফিটনেস কোন পর্যায়ের।’’