প্রতিবেদন: বাংলার বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি মনরেগায় গরিবের ন্যায্য মজুরি আটকে রাজ্যকে ভাতে মারার চেষ্টা। অথচ সংসদে খোদ কেন্দ্রের পেশ করা তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ভুয়ো জব কার্ডের ছড়াছড়ি। এখানেও এগিয়ে যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ। বাংলাকে বদনাম করা হচ্ছে, অথচ গেরুয়া রাজ্যের বিপুল অনিয়ম নিয়ে নীরব মোদি সরকার! আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিজেপি রাজ্যগুলিতে বিপুল অনিয়ম হলেও সেখানে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখেনি কেন্দ্র।
আরও পড়ুন-শিক্ষাক্ষেত্রেও বঞ্চনা বাংলাকে, স্পষ্ট হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তথ্যেই
লোকসভায় ভুয়ো জব কার্ডের সংখ্যা জানতে চেয়ে তৃণমূল সাংসদ মালা রায় যে প্রশ্ন করেছিলেন তার লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে বিজেপির উত্তরপ্রদেশই ভুয়ো জব কার্ডের নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে। গত ৩টি আর্থিক বছরে বাতিল হওয়া ভুয়ো জব কার্ডের সংখ্যা গোটা দেশে মোট ১১ লক্ষ ৭ হাজার ৮১৪। এরমধ্যে শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশেই বাতিল করতে হয়েছে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার ১৭২টি ভুয়ো জব কার্ড। এনডিএ শাসিত বিহারে বাতিল হয়েছে ১ লক্ষ ৭ হাজার ৪৯৪টি ভুয়ো জব কার্ড। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো জব কার্ডের পরিমাণ আলোচ্য ৩ বছরে মাত্র ৫ হাজার ৯৮৪। এরপরেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র বাংলার শ্রমিকদের ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে মোদি সরকার। সংসদে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পেশ করা তথ্যেই দেখা গিয়েছে বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, রাজস্থান-সহ বহু বিজেপি রাজ্যে জব কার্ড বাতিলের সংখ্যা বাংলার চেয়ে অনেক বেশি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্ন, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিজেপি রাজ্যগুলিতে মনরেগার কাজ চলছে, অথচ বাংলায় ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকেই আর্থিক বরাদ্দ বন্ধ রেখেছে কেন্দ্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রশ্ন, ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তারপরেও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কোন সাহসে বাংলাকে বঞ্চনা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার?