কৃষক আত্মহত্যা: সরকারের কাছে কোনও তথ্য নেই

ঋণের দায়ে দেশজুড়ে কৃষকদের আত্মহত্যা নিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার।

Must read

প্রতিবেদন: ঋণের দায়ে দেশজুড়ে কৃষকদের আত্মহত্যা নিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। লোকসভায় কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের জবাবে বিজেপি সরকারের এই মনোভাবই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ দীপক অধিকারী লিখিত প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলেন, (ক) ২০১৪ সাল থেকে দেশে কৃষকদের আত্মহত্যার মোট সংখ্যা কত (খ) কৃষকদের আত্মহত্যার কারণ তদন্তের জন্য সরকার কি কোনও কমিটি গঠন করেছে? যদি করে থাকে, তবে সেই রিপোর্টের প্রধান উপসংহার কী? (গ) আত্মহত্যা করা কৃষকদের পরিবারকে কি সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে? যদি দিয়ে থাকে, তবে রাজ্যভিত্তিক তার বিস্তারিত বিবরণ জানানো হোক। এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের লিখিত জবাবে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) তাদের ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথস অ্যান্ড সুইসাইডস ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক প্রকাশনায় আত্মহত্যার তথ্য সংকলন ও প্রচার করে।

আরও পড়ুন-পদত্যাগ কেন, দিনভর চর্চা

২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতিবেদনটি এনসিআরবি-এর ওয়েবসাইট-এ উপলব্ধ। অর্থাৎ ঋণের দায়ে কৃষকের ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যাকে আরও পাঁচটি সাধারণ আত্মহত্যার মতোই সাধারণ ঘটনা বলে মনে করছে মোদি সরকার। অর্থাৎ দেশের অন্নদাতা কৃষকরা আত্মঘাতী হলেও মোদি সরকার তার কোনও দায় নিতে চায় না। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের অন্য দুটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ওই দুই প্রশ্ন ছিল, কৃষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সরকার কি কোনও বিকল্প প্রকল্প চালাচ্ছে? এবং কৃষকদের দ্বারা আত্মহত্যা বন্ধ করার জন্য সরকার এপর্যন্ত কী কী সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টা করেছে? জবাবে প্রতিমন্ত্রী ২৮টি প্রকল্পের তালিকা দিয়ে বলেছেন, কৃষি হল রাজ্যভিত্তিক বিষয়। রাজ্য সরকারগুলি তাদের নিজস্ব বিধান ও নিয়ম অনুযায়ী অনুগ্রহপূর্বক অনুদান বা ত্রাণ প্রদান করে। ভারত সরকার কৃষকদের কল্যাণের জন্য উপযুক্ত নীতিগত ব্যবস্থা এবং প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে সহায়তা করে। তবু কৃষক কেন আত্মহত্যা করছে তার কোনও জবাব নেই।

Latest article