প্রতিবেদন : মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে স্বপনসাধন বোসের (Tutu Bose) নামটা সমার্থক। ময়দান যাঁকে টুটু বোস নামে চেনে। ক্লাবের প্রাণপুরুষ সেই টুটু বোসকেই এবার মোহনবাগান রত্ন সম্মানে ভূষিত করা হল। এই সম্মান হাতে পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি। কখনও কাঁদলেন, হাসলেন আবার নানা মজার কথা বলে বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করে সবাইকে মাতিয়ে দিলেন। বললেন, মনে হচ্ছে যেন হাতে চাঁদ পেয়েছি।
মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে টুটু যখন মঞ্চে উঠছেন, তখন হাততালির রোল। টুটুকে মোহনবাগান রত্ন সম্মান দেওয়ার সময় সঞ্চালক মধুমন্তী মৈত্র অতিথির আসনে থাকা সবাইকে মঞ্চে ডেকে নেন। মঞ্চে তখন চাঁদের হাট। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকলমন্ত্রী সুজিত বোস, পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, গায়ক-মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তথা ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া, আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্লাব সভাপতি ও সচিবের সঙ্গে সহসভাপতি কুণাল ঘোষ, ফুটবল সচিব স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়দের সঙ্গে কার্যকরী কমিটির বাকি সদস্যরাও তখন মঞ্চে টুটুকে ঘিরে। গোটা অনুষ্ঠানে মঞ্চ আলো করে থাকলেন ঐতিহাসিক অমর একাদশের পরিবারের সদস্যরাও।
আরও পড়ুন-মোহনবাগানকে জোড়া অনুরোধ করলেন অরূপ
টুটুকে (Tutu Bose) নিয়ে ভিডিওবার্তায় বক্তব্য রাখেন সৌরভ, বাইচুং ভুটিয়া, ব্যারেটো, আইএম বিজয়ন, সুব্রত ভট্টাচার্য। তাঁদের সকলেরই বক্তব্যের নির্যাস, ‘টুটু বোস, দ্য গডফাদার’। টুটুকে মোহনবাগান রত্ন সম্মানের পদক পরিয়ে দিলেন পুত্র তথা সচিব সৃঞ্জয় ও সভাপতি দেবাশিস। উত্তরীয় পরিয়ে দিলেন সৌরভ। মোহনবাগানপ্রেমী বাবুল পরিয়ে দিলেন ফুলের মালা। ক্রীড়ামন্ত্রী তুলে দিলেন পুষ্পস্তবক। সঙ্গে সাম্মানিক এক লক্ষ টাকা। চোখের জল মুছে আবেগবিহ্বল টুটুর স্মৃতিচারণ, সচিব হিসেবে কীভাবে তিনি ক্লাবে সদস্যদের ভোটাধিকার চালু করেছিলেন এবং নিয়ম বদলে কীভাবে প্রথম বিদেশি হিসেবে চিমা ওকোরিকে সই করিয়েছিলেন।
এদিন ১৯ জনকে মোহনবাগানের আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়। আর নিয়মানুযায়ী মোহনবাগান রত্ন প্রাপককে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সচিব ও সভাপতি সেই চেকে সই করার সাহস দেখাতে পারেননি। টুটু বলেন, ১৯ কেন, ২০ জন হবে। আমি আরও চার লক্ষ টাকা দিচ্ছি, ২০তম লাইফ মেম্বার যেন পরজন্মে টুটু বোস হয়। আমি না থাকলে ক্লাবের ক্যান্টিনটা যেন আমার নামেই হয়।
টুটুর মঞ্চেই জীবনকৃতি সম্মানে ভূষিত হন প্রাক্তন ক্রিকেটার রাজু মুখোপাধ্যায়। তাঁকে সম্মানিত করেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও মন্ত্রী সুজিত বোস। বর্ষসেরা ফুটবলার আপুইয়া, সেরা ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকলারেন, সেরা তরুণ ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস, সেরা হকি প্লেয়ার অর্জুন শর্মা, সেরা ক্রিকেটার রনজ্যোৎ সিং খায়রা, সেরা সমর্থক রিপন মণ্ডল, সেরা রেফারি মিলন দত্ত সম্মানিত হন। প্রয়াত দুই সাংবাদিক মানস চক্রবর্তী ও অরুণ সেনগুপ্তর পরিবারকে মরণোত্তর সম্মান তুলে দেন সহসভাপতি কুণাল ঘোষ এবং অমর একাদশের পরিবারের সদস্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে সৌরেন্দ্র-সৌম্যজিৎ এবং শেষে ইমন চক্রবর্তীর গান মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে দর্শকদের।