আদালতের নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণকে যুগান্তকারী বললেন মুখ্যমন্ত্রী, পরিযায়ী মামলায় সুপ্রিম বিপাকে কেন্দ্র

বাংলা বললেই কেন পুশব্যাক? সাতদিনের মধ্যে হলফনামা দিন

Must read

প্রতিবেদন : পরিযায়ী মামলা নিয়ে শুক্রবার আদালতে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এই অন্যায় এবং বে-আইনি পদেক্ষেপের কারণে দেশ জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, কী করে একজন নাগরিককে কেন্দ্রের সরকার জোর করে অন্যদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে? ট্রাইব্যুনালে তিনি কি বিদেশি বলে চিহ্নিত হয়েছিলেন? প্রশান্তের প্রশ্নের কোনও জবাব দিতে পারেনি কেন্দ্র। ইউরোপের প্রসঙ্গ টানতে গেলেই বিচারপতি থামিয়ে দিয়ে বলেন, এটা কী হচ্ছে? যা বলা হচ্ছে তা কি সত্য? এবারেও কেন্দ্রের আইনজীবী নিশ্চুপ থাকায় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ কেন্দ্রকে বলেন, সাতদিনের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিন। একইসঙ্গে বীরভূমে পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি বিবিকে বাংলাদেশে পাঠানোর মামলাটিকেও হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে স্বভাবতই খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট আজ একটি জনস্বার্থ মামলার সূত্রে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে যুগান্তকারী নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সীমান্ত রাজ্য হিসেবে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকা স্বীকার করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাংলা কীভাবে আশ্রয়, ভরসা ও সংস্কৃতির আশ্রয়স্থল হয়েছে, তার স্বীকৃতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আজকে মিলেছে। মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের মাননীয় হাইকোর্টকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের আবেদনটিকে শুনতে নির্দেশ দিয়েছেন। আটক হওয়া বিপন্ন পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একটা বড় ভরসার জায়গা আজ তৈরি হল।
সোনালি বিবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁকে প্যুশ-আউট করা হয় বাংলাদেশে। রাজ্যের সঙ্গে কথা হয়নি। বাংলাদেশ তাকে গ্রেফতার করেছে। প্রশান্ত ভূষণের প্রশ্ন ছিল, তা হলে এখন কী করা হবে? জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল? এরও কোনও উত্তর দিতে পারেননি কেন্দ্রের আইনজীবী। প্রশান্ত বলেন, একটা সভ্য দেশে একজন নাগরিককে জোর করে অন্যদেশে পাঠানোর যে পর পর উদাহরণ তৈরি করেছে কেন্দ্র তাতে দেশ জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ। আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যতক্ষণ না কাউকে বিদেশি বলছে তার আগে কোনও নাগরিককে কীভাবে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিদেশি তকমা দেয়? সোনালি বিবিকে ওদেশে পাঠানোর আগে কোনও তদন্ত হয়নি। তাহলে কোন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানো হল? কেন্দ্রের আইনজীবী ইউরোপের প্রসঙ্গ টানতে গেলেই কার্যত ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন বিচারপতি সূর্যকান্ত। সাতদিনের মধ্যে রিপোর্টের পাশাপাশি সোনালি বিবির মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে দ্রুত শোনার জন্য নির্দেশ দেন।
সুপ্রিম রায়ে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর প্রগাঢ় আস্থা আর একবার প্রকাশ্যে এসেছে। মামলার নির্দেশ এবং পর্যবেক্ষণ জানার পর তিনি লিখেছেন, বাংলার অনন্য অবস্থান নিয়ে এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বাংলাভাষী অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিককে আশা জোগাবে। আমাদের দেশে নানা প্রান্তে শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করতে থাকা পরিবারগুলি এবার একটু আশার আলো দেখছেন। আমি আমার পরিযায়ী শ্রমিক ভাইবোনদের পাশে দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বিচার বিভাগের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। তাঁদের কাছে বাংলার প্রত্যেক শ্রমিক সম্মান, মর্যাদা ও সাংবিধানিক ন্যায়বিচার পাবেন, এই প্রত্যয় আমাদের আছে।

আরও পড়ুন- খুন তৃণমূলকর্মী, ধৃত দুই

Latest article