বাই বাই বর্ষা-ত্বকের সমস্যা

যতই কবিতায়, সুরে, গানে আকাশ জুড়ে বর্ষার অনিবর্চনীয় রূপ মূর্ত হয়ে উঠুক। ভুবনজোড়া বর্ষার খ্যাতি যতই অপরূপ ভাষায় লেখা থাক, ঘ্যানঘ্যানে নাছোড় বর্ষা কিন্তু অনেক সময় আমাদের বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। কারণ এই ঋতুতে ত্বক, চুল নিয়ে হতে হয় জেরবার। কীভাবে করবেন এই সমস্যার সমাধান লিখলেন তনুশ্রী কাঞ্জিলাল মাশ্চারক

Must read

অফিস থেকে বেরিয়ে এসে সামনের রাস্তার অবস্থা দেখে কেঁদে ফেলতে ইচ্ছা করল রাইয়ের। কী অবস্থা! মনে হচ্ছে যেন অফিসের সামনে একটা নদী বইছে!
এ বছর মারাত্মক বৃষ্টি। সেই জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু হয়েছে। বর্ষাকাল রাইয়ের ভীষণ প্রিয় হলেও এবছরের নাছোড় বর্ষা কোথায় যেন একটু বিরক্তির উদ্রেক করছে।
এখনও আকাশভেঙে বৃষ্টি চলছে। এই বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি-কাশি-জ্বর অনিবার্য। ড্রেন আর রাস্তার জল এক হয়ে গিয়ে বীভৎস অবস্থা।
ওই জলে পা দেওয়া মানেই ত্বকের সংক্রমণ। তার মধ্যে মুখটা ভীষণ ডাল হয়ে আছে কিছুতেই ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু কিছু করারও নেই।
এই ঝমঝম বৃষ্টি দেখেই অফিসের আটতলা থেকে রবি ঠাকুরের গান টিফিনের সময় গুনগুন করছিল রাই।
এখন সেইসব গান অবশ্য মাথায় উঠেছে। বাড়ি ফিরবে কী করে আর নোংরা জল থেকে বাঁচবেই বা কীভাবে এটা ভেবেই দিশাহারা রাই।
আসলে কবি-শিল্পীদের কল্পনায় বর্ষা যতই সুন্দর হোক, যাঁরা এই ঋতুতে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে এর মোকাবিলা করেন তাঁদের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। বর্ষার একটা অসম্ভবের গল্পও রয়েছে। বাড়িতে যাঁরা থাকেন এবং বাইরে বেরন, দু’তরফেরই উনিশ-বিশ সমস্যা একধরনেরই। চুল ধুলে শুকোয় না, মুখ-চোখের বেহাল অবস্থা এই সময় কারও ত্বক খুব ড্রাই তো কারও ত্বক (Skin problems) হয়ে যায় খুব তৈলাক্ত। আবার ত্বকের সংক্রমণ বর্ষার আমঘটনা। হাজা, ছুলি, অ্যালার্জিক ফুসকুড়ি, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, খুশকি ইত্যাদি। এর চাই স্থায়ী সমাধান।

বর্ষার ত্বকের সমস্যা
বর্ষায় ত্বকের (Skin problems) খারাপ দশায় কমবেশি সবাই ভোগেন। তাই এই মরশুমে ত্বকের চাই বাড়তি যত্ন কারণ বাতাসে হিউমিডিটি বা আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে ত্বক সারাক্ষণ তেলতেলে চিটচিটে হয়ে থাকে। অস্বস্তিও সেই জন্য বাড়ে। তাহলে কী করবেন!

ত্বকচর্চার তিন ধাপ
সারাবছরের মতোই বর্ষায় ত্বক ভাল রাখার দাওয়াই হল ক্লেনজিং, টোনিং, স্ক্রাবিং বা এক্সফলিয়েশন এবং ময়েশ্চারাইজিং। এই সময় দিনে তিন থেকে চারবার মুখ ধোন। এতে ঘাম কম হবে, তেল নিঃসরণ কমবে।

ত্বক পরিষ্কার রাখা বা ক্লেনজিং
বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে ত্বক (Skin problems) তেলতেলে হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত দু’বার ঘরোয়া কোনও উপাদান যেমন শুধু দুধ বা দুধ-বেসন বা দুধ-ময়দা অথবা বাজারচলতি ভাল কোনও মাইল্ড লিকুইড ক্লেনজার বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া উচিত যাতে ত্বকের ভেতরে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়।

টোনিং
ক্লেনজিং-এর পরের ধাপই হল টোনিং। টোনার মুখ টানটান করে। দূষণ রোধ করে। মুখ পরিষ্কারের পর একটি কটন প্যাডে টোনার নিয়ে ত্বকে থুপে থুপে লাগান। মুখেই শুকিয়ে যাবে টোনার। শসার রস, কমলালেবুর রস, টমেটোর রস এগুলো হল প্রাকৃতিক টোনার। জল দিয়ে রস সামান্য, পাতলা করে নিন। এ-ছাড়া শসা গ্রেট করে সেটাকে ফ্রিজারে বরফ কিউবের মধ্যে রেখে দিন। বরফ হয়ে গেলে সেটা একটা নরম কাপড়ে জড়িয়ে মুখে ঘষে নিন।

এক্সফলিয়েশন
মুখ বা শরীরের ত্বকের (Skin problems) মৃতকোষ তুলে দিতে স্ক্রাবিং বা এক্সফলিয়েশন জরুরি। সপ্তাহে এক থেকে দু’দিন যথেষ্ট স্ক্রাবিং-এর জন্য। পাকা কলা আর মোটা দানার চিনি নিয়ে একসঙ্গে চটকে মুখে আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। পাঁচ মিনিট পরে খানিক্ষণ স্ক্রাব মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন। চালের গুঁড়োও খুব ভাল স্ক্রাবার।

ময়েশ্চারাইজিং
শুষ্ক হোক বা তেলতেলে, ময়েশ্চারাইজার মাস্ট। কারণ ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতাকে ত্বকেই লক করে দেয়। তৈলাক্ত ত্বকে (Skin problems) ছাড়া হালকা ওয়াটার বেসড বা জেল ময়েশ্চারাইজার দিন। শুষ্ক ত্বকে একটু ক্রিম ময়েশ্চারাইজার ভাল। বর্ষার ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজার অত্যন্ত প্রয়োজন।

সানস্ক্রিন
বর্ষার দিনে রোদ নেই, মেঘলা মানেই সানস্ক্রিন দরকার নেই এই ধারণা ভুল। মেঘলা আকাশেও ইউভি রশ্মির প্রভাব পড়ে যা ত্বকের ক্ষতি করে। তাই ঘরে এবং বাইরে দু’জায়গাতেই সানস্ক্রিন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। বেরনোর অন্তত আধঘণ্টা আগে সানস্ক্রিন মুখে লাগাতে হবে তবেই তা কাজ করবে। এসপিএফ ৩০ আমাদের দেশের ত্বকের জন্য যথেষ্ট। এর বেশি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করুন। এখন পাউডার সানস্ক্রিনও রয়েছে।

ফেসপ্যাক
অতিরিক্ত তেল শোষণ করার জন্য মুলতানি মাটি রয়েছে এমন মাস্ক বা ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন। চারকোল প্যাক ব্যবহার করতে পারেন তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলুন চারকোল প্যাক।

মুলতানি মাটি ও গোলাপজল
মুলতানি মাটি ত্বকের জন্য খুব ভাল। এটি ত্বককে যেমন ঠান্ডা রাখে তেমনই অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, ত্বক উজ্জ্বল দেখায়। মুলতানি মাটি এবং গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে প্যাক লাগান সপ্তাহে দু’দিন। পনেরো মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

বেসন, হলুদ ও মধুর প্যাক
দু’চামচ বেসন, এক চামচ হলুদ, এক চামচ মধু নিয়ে অল্প জলের সঙ্গে গুলে ঘন একটা প্যাক তৈরি করুন। মুখে, হাতে, গলায় লাগিয়ে পনেরো মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

মধু, অ্যালোভেরা ও চন্দনের প্যাক
একই ভাবে অ্যালোভেরা জেল এবং গুঁড়োচন্দন এবং মধু নিন, প্যাক তৈরি করে লাগান। এই প্যাকে ত্বকের কালো দাগ, ছোপ, ঘাড়ে পিঠের কালো প্যাচ দূর হবে।

চালের গুঁড়ো আর লেবু
চালের গুঁড়ো দু’চামচ, লেবুর রস অর্ধেক আর গোলাপজল এক বড় চামচ নিয়ে পেস্ট করে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক ত্বক উজ্জ্বল করতে অনবদ্য, সেই সঙ্গে বর্ষার ডালনেস কমায়, দাগছোপ হালকা করে। প্যাক তোলার সময় হালকা হাতে ঘষে তুললে স্ক্রাবিং-এরও কাজ করবে এই প্যাক।

আরও পড়ুন-বর্ষার বারোমাস্যা

ব্রণ
যেহেতু বর্ষায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেড়ে যায় তাই মুখ সবসময় তেলতেলে হয়ে থাকে, ঘাম বেড়ে যায়। আর মুখে ঘাম এবং ধুলোময়লা জমে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এর ফলে পোরস ক্লগ হয়ে ব্রণ হয়।
মুখ দু-তিনবার ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা অ্যালকালাইন ওয়াশ ব্রণযুক্ত ত্বকে জরুরি। ক্ষারযুক্ত সাবান মুখে মাখুন সপ্তাহে একদিন।

ব্রণর প্যাক
আপেল সিডার ভিনিগার একটু পাতলা করে তুলোর সাহায্যে ব্রণের উপর লাগালে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করবে। অ্যালোভেরা জেল লাগাতে পারেন এতে স্যালিসিলিক অ্যাসিড ও সালফার থাকে যা ব্রণ নিরাময়ে সাহায্য করে।
ছোলার ছাতু দু-চামচ, টকদই এক চামচ ও দু চিমটে হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন। পনেরো মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।

বর্ষায় ত্বকের সংক্রমণ
বর্ষাকালে আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাকের বৃদ্ধি ঘটে এর ফলে দাদ, হাজা, খোস, পাঁচড়া থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য ত্বকের (Skin problems) সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ
নোংরা জল ও দূষিত পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এর ফলে ত্বকে জ্বালা ও ফুসকুড়ি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘাম ও দূষিত বৃষ্টির জল ত্বকে অ্যালার্জিক ফুসকুড়ি এবং চুলকানিও হয়।

প্রতিরোধ
এই সময় যতটা সম্ভব শরীর এবং পা শুকনো রাখুন। যাঁরা ওয়ার্কিং, সঙ্গে একটা অতিরিক্ত জামা রাখুন। ভিজে গেলে বদলে নিন। এক্ষেত্রে হলুদ, লেবু আর মধুর প্যাক খুব কার্যকরী হবে। এই প্যাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। নিম আর অ্যালোভেরা জেলের প্যাকও লাগাতে পারেন এতে যে কোনও সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকবেন।

বর্ষাকালে পায়ের যত্ন
বর্ষাকালে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয় পায়ের। বৃষ্টিতে পা ভিজে থাকলে বাড়ি ফিরে পা শুকনো করে সুগন্ধি ওয়াইপ দিয়ে পা পরিষ্কার করলে তাতেও দুর্গন্ধ এড়ানো সম্ভব। প্রতিদিন সাবান ও জল দিয়ে পা ভালভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে। পা পরিষ্কার করে সুন্দরভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। পা ঘামলে আর্দ্রতা বাড়তে পারে, তাই পা শুকনো রাখা খুব জরুরি।
বর্ষাকালে পায়ের বড় সমস্যা হল দুর্গন্ধ। দীর্ঘ সময় অফিসে কাজ করাকালীন জুতো-মোজা পরে থাকার দরুন এটা হয়ে থাকে।
পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে ভিনিগার বা নুনের উষ্ণ গরম জলে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। এটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক কমাতে সাহায্য করে।
টি ব্যাগ বা বেকিং সোডা জুতোর ভিতরে রাখলে দুর্গন্ধ এড়ানো সম্ভব। বেকিং সোডা গন্ধ শোষণ করে এবং জুতো সতেজ করে তোলে।
অফিস থেকে বাড়ি ফিরে জুতো খুলে পায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে হাওয়া লাগাতে হবে। জুতোগুলো এমন জায়গায় রাখুন যেন জুতোর ভেতরে পর্যাপ্ত হাওয়া ঢুকতে পারে।
সুতির মোজা পরুন এবং প্রতিদিন মোজা বদলান। আগের দিনের ব্যবহৃত মোজা ডিটারজেন্ট দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে।
জুতোর মধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল পাউডার দেওয়া যেতে পারে। ট্যালকম পাউডার, বোরিক অ্যাসিড বা দুর্গন্ধনাশক ব্যবহার করলে জুতোর সঙ্গে পায়ের দুর্গন্ধ কমবে।
সুতির মোজা ব্যবহার এবং মোজা নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে। জুতো বাতাসে শুকিয়ে তবেই পরতে হবে।
বর্ষায় চুলের সমস্যা
বর্ষাকাল মানেই বড় দুশ্চিন্তা হল চুল-পড়া। এমন কেউ নেই বর্ষায় যাঁর চুল ঝরে না। সেই সঙ্গে চুলের দুর্গন্ধ, জেল্লাহীন হয়ে যাওয়া, খুশকি— এগুলো তো আছেই। যতই শ্যাম্পু করুন না কেন, চুল যেন মৃতপ্রায়।

চুল-পড়া রোধে
সপ্তাহে তিনদিন শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পু করার সময় একটু জল দিয়ে পাতলা করে নেবেন। সরাসরি ঘন শ্যাম্পু দেবেন না। দু’বার শ্যাম্পু দিন এবং প্রচুর জলে চুল ধুয়ে নিন। এরপর হেয়ার ফল মাস্ক ব্যবহার করুন। চুলের গোড়ার একটু নিচ থেকে আগা পর্যন্ত। দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। জোরে ঘষে মুছবেন না। আলতোভাবে চুল মুছে হেয়ার সিরাম লাগিয়ে নিন। গোড়ায় একেবারেই দেবেন না, শুধু চুলের লেন্থে। ভিজে চুল ছেড়ে দিন আঁচড়াবেন না।
চুল-পড়া আটকাতে মেথি খুব ভাল কাজ করে। এর মধ্যে থাকা প্রোটিন এবং নিকোটিনিক অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করে চুল উজ্জ্বল এবং লম্বা করতে সাহায্য করে। মেথি-দানা গুঁড়ো করে নিন, নারকেল তেল গরম করে নিয়ে ওই মেথির গুঁড়োর সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে রাতে ঘুমোনোর আগে ভাল করে মাথায় মালিশ করুন। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে তিনদিন এই মিশ্রণ মাথায় লাগালেই চুল-পড়া অনেক কমবে।
আমলকী চুলের জন্য দারুণ কার্যকরী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটারি উপাদান, যা চুল-পড়া বন্ধ করতে দারুণ কাজ করে। এককাপ নারকেল তেলের মধ্যে চার-পাঁচটি শুকনো আমলকী দিয়ে ফুটিয়ে নিন তেল কালো হওয়া পর্যন্ত, এরপর নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন তারপর মাথায় ম্যাসাজ করুন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে দু’বার করলে ভাল ফল পাবেন।

চুলের খুশকি
খুশকি একটি ছত্রাকঘটিত সমস্যা। এই সমস্যা বর্ষায় বাড়ে। টক দই ও লেবুর প্যাক মাথার ত্বকে আর্দ্রতা জোগায় এবং খুশকি কমায়। কারণ লেবুতে রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড যা অ্যান্টিফাংগাল এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল। এটি খুশকির মূল ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আর দইয়ে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং মাথার ত্বক হাইড্রেটেড রাখে। এই প্যাক স্ক্যাল্পে অন্য সংক্রমণও কমাতে সাহায্য করে।

চুলের দুর্গন্ধে
বর্ষাকালে চুলের দুর্গন্ধ দূর করতে তুলসীর জল খুব কার্যকরী। কারণ তুলসীর জলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। দশ-বারোটা তুলসীপাতা নিয়ে জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ওই জল মাথায় দিন। এতে চুলের দুর্গন্ধ দূর হবে।
চুলের দুর্গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডাও খুব কার্যকরী উপায়৷ একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে এক-টেবিল চামচ বেকিং সোডা দিন। ভাল করে গুলে তারপর সেই জল দিয়ে চুল পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনদিন করুন, ভাল ফল পাবেন।

Latest article