প্রতিবেদন : নির্বাচন কমিশনের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দিল্লিতে কমিশনের দফতরে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের তোলা পাঁচ প্রশ্নের কোনও উত্তর তো দিতেই পারেনি, বরং এরপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যাচার করেছে। কমিশন নাকি তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধি দলের সবক’টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে! এই মিথ্যের মুখোশ খুলে দিয়ে কমিশনকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক এদিন সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দেগেছেন। জ্ঞানেশ কুমারকে মিস্টার এসআইআর বলে সম্বোধন করে তিনি লিখেছেন, হিম্মত থাকলে পুরো সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনুন। বিপথে চালিত করবেন না।
আরও পড়ুন-টানা তিন দিন রাজ্য পুলিশের বড় রদবদল জারি
কমিশনকে মিথ্যেবাদী বলে অভিষেকের বক্তব্য, তাদের যদি কিছু লুকোনোর নাই থাকে এবং কমিশন যদি স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করে তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টুকরো টুকরো জিনিস ‘লিক’ না করে সম্পূর্ণ ফুটেজ বের করে দেখান। এরপরই কমিশনকে তাঁর চ্যালেঞ্জ, কয়েকঘণ্টা খুবই অল্প সময়। আপনি-আপনারা যতদিন ইচ্ছে সময় নিন, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা পাঁচ প্রশ্নের জবাব দিন। অভিষেকের সংযোজন, আমাদের কাছে যথেষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে আপনাদের বিকৃত এবং তৈরি করা মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে। কমিশনকে হুঙ্কার দিয়ে অভিষেক বলেছেন, এরপর বাংলা ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ার আগে দু’বার ভাববেন। তাঁর কটাক্ষ, মিস্টার এসআইআর, আপনাদের হতাশা বুঝি। কিন্তু সত্যকে পাল্টানো যায় না। এরপরেও যদি মিথ্যাচারের ‘স্টোরি’ তৈরির মতো এনার্জি বেঁচে থাকে তার আগে পাঁচটি সহজ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। শেষে লিখেছেন, ‘আপনাদের সময় শুরু হল এখন’।
কমিশন সাক্ষাতে : শুক্রবার তৃণমূলের ১০ সাংসদের প্রতিনিধি দলের প্রশ্নের মুখে পড়ে কার্যত ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এদিন পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এগারোটা নাগাদ তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধি দল যায় দিল্লির নির্বাচন কমিশন অফিসে। প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা পাঁচটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। শুধু গালগল্পই সার! ওঁর কাছে কোনও উত্তরই নেই।
আরও পড়ুন-হাওড়ায় গুলিবিদ্ধ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর সঙ্গী
অভিষেকের নির্দেশ : গত সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, দিল্লির বুকে এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনে নামবে তৃণমূল। সেজন্য ১০ সাংসদকে নিয়ে একটি টিম গড়ে দেন তিনি। শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনের দফতরে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর, প্রতিমা মণ্ডল, প্রকাশ চিক বরাইক ও সাকেত গোখেল।
পাঁচ প্রশ্নের উত্তর নেই : দু’ঘণ্টা নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের। সেখানে কথা বলেন শতাব্দী রায়, প্রতিমা মণ্ডল এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারের কথাও শোনেন। কিন্তু যে পাঁচ প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তার কোনও জবাব দিতে পারেননি তিনি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা কথা বলার চেষ্টা করলেও আসল প্রশ্নগুলির কোনও উত্তর তাঁর কাছে ছিল না।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী বলেন, যে পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়েছিল সেগুলির মধ্যে প্রথম হল, এই এসআইআর প্রক্রিয়া কি অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে? সেটাই যদি হয়, তাহলে আলাদা করে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে কেন? দেশ জুড়ে বাঙালিদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে কেন? কেন মিজোরাম, ত্রিপুরার মতো রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে না? বলা হচ্ছে অবৈধ ভোটার বাছতে এসআইআর তবে এই অবৈধ ভোটারদের দ্বারা নির্বাচিত মোদি সরকারের বৈধতা কী?
তৃণমূলের অভিযোগ : শতাব্দীদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত এসআইআরের বলি ৪১ (সাধারণ মানুষ), ১৯ জন বিএলও। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৬০ (মৃত ৩৫, চিকিৎসাধীন ৬/ বিএলও : ১৯, মৃত ৪, চিকিৎসাধীন ১৫)। সেই মৃত্যুর দায় কি কমিশন নেবে? তাঁদের পরিবারের জন্য কী ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন? এতদিন এসআইআর নিয়ে তৃণমূল যত অভিযোগ করেছে, তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁদের কোনও প্রশ্নেরই জবাব দিতে পারেনি। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে নানারকম ‘গল্প’ শুনিয়েছে কমিশন। কিন্তু তৃণমূলের প্রশ্নের কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

