তিরুবন্তপুরম: বিজেপি শাসিত হরিয়ানার পরে এবার প্রায় একইরকম ঘটনা সিপিএম শাসিত কেরলে। উপরওয়ালার মানসিক নির্যাতন এবং নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক পুলিশ অফিসার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় কেরল। বিক্ষোভ শুরু হয় পুলিশের বিরুদ্ধে। আত্মঘাতী ওই পুলিশ অফিসারের নাম বিনু থমাস। ৫২ বছরের বিনু ছিলেন চেরপুলাসেরি থানার স্টেশন হাউস অফিসার। গত ১৫ নভেম্বর নিজের সরকারি কোয়ার্টারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বিনু থমাসের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে যদিও মনে হয়েছিল, কাজের চাপে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি, কিন্তু কয়েকদিন পরে তাঁর ৩২ পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধারের পরেই দেখা যায়, আসল ঘটনাটা অন্যরকম। এক পদস্থ পুলিশ কর্তার দীর্ঘদিনের মানসিক অত্যাচার এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন-দিনের কবিতা
আত্মহত্যার পথ তিনি বেছে নিয়েছেন এর থেকে মুক্তি পেতেই। সুইসাইড নোটে ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে যৌন শোষণ এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ এনেছেন। এরপরই সম্পূর্ণ অন্যদিকে মোড় নিয়েছে তদন্ত। বিস্ফোরক সুইসাইড নোট আত্মঘাতী পুলিশ অফিসার বিনুর। অভিযোগের তির, কোঝিকোড়ের এক ডিএসপির বিরুদ্ধে। আগে ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর। অভিযোগের মোদ্দা কথা, ২০১৪ সালে পালক্কাড়ের একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক বাড়িতে গিয়ে তাঁকে যৌননির্যাতন করেছিলেন ওই ডিএসপি। কোনও এক সন্ধায় ওই তরুণীর বাড়িতে আচমকাই হাজির হন ওই ডিএসপি। তাঁর মা এবং ২ সন্তানের উপস্থিতিতেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁকে জোরজবরদস্তি করেন। মামলাটি চাপা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মিডিয়াকে কিছু না জানানোর জন্যও হুঁশিয়ারি দেন ওই অফিসার। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, অভিযুক্ত ওই পদস্থ অফিসার তরুণীকে যৌন নির্যাতন করার কাজে সহায়তা করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বিনু থমাসকে। এখানেই শেষ নয়, বছরের পর বছর ধরে বিনুর উপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন ওই অফিসার। মুখ খুললে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে বলে শাসানি দিতেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার, বিনুর আত্মহত্যার পরে তাঁর সুইসাইড নোট চেপে যাওয়ার চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে।

