নয়াদিল্লি: দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী ৪-৫ ডিসেম্বর তাঁর এদেশে আসার কথা। এই সফর দুই দেশের বিশেষ এবং বিশেষাধিকার প্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ দেবে। বিশেষত, রুশ তেল আমদানির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সেখানে পুতিনের ভারত সফর নিয়ে আগ্রহ রয়েছে কূটনৈতিক মহলে।
আরও পড়ুন-মুম্বইয়ে ১১ লক্ষ ডুপ্লিকেট ভোটার
ভারতের বিদেশমন্ত্রক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আসন্ন এই রাষ্ট্রীয় সফর ভারত ও রাশিয়ার নেতৃত্বকে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি এবং পারস্পরিক স্বার্থের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ দেবে। ২০০০ সালের অক্টোবর থেকে নিয়মিত ভারত সফরকারী পুতিন শেষবার ২০২১ সালে নয়াদিল্লি এসেছিলেন। এই সফরটি ২০০০ সাল থেকে চলে আসা বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের অংশ। ভারত ও রাশিয়ার পর্যায়ক্রমে এই পর্যন্ত মোট ২২টি বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ শীর্ষ সম্মেলনটি ২০২৪ সালের ৮-৯ জুলাই মস্কোতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে গিয়েছিলেন। দুই রাষ্ট্রনেতা চলতি বছর এসসিও নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ১ সেপ্টেম্বর তিয়ানজিনে দেখা করেছিলেন। তখনই ভারতের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় যে পুতিন চলতি বছরের ডিসেম্বরে ভারত সফর করবেন।
আরও পড়ুন-বামশাসিত কেরলে পদস্থ কর্তার নির্যাতনে আত্মঘাতী পুলিশ অফিসার
প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই সফরের সময় দুই পক্ষ বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে এবং একইসাথে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ ও প্রকল্পের ঘোষণা করবে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মস্কোতে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনের বিস্তারিত আলোচনা করার সময় বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দিনে দু’দেশের প্রকল্পগুলি চূড়ান্ত হবে। এগুলি অবশ্যই আমাদের বিশেষ এবং বিশেষাধিকার প্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্বে আরও গভীরতা যোগ করবে। প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। রুশ তেলক্রয় কমানোর জন্য ভারতের উপর বারবার চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে নয়াদিল্লির অবস্থান হল, অস্থির জ্বালানি পরিস্থিতিতে ভারতীয় ভোক্তার স্বার্থরক্ষা করার উদ্দেশ্যে আমদানি নীতিগুলি পরিচালিত হয়। এদিকে পুতিনের সফরে ইউক্রেন সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফগানিস্তান নিয়েও কথা হতে পারে।

