ট্র্যাজিক পারিবারিক ড্রামা, কাঁদলেন জজও, শেষ দেখা হল না মেয়ের

মৃত্যুশয্যায় থাকা বাবাকে শেষ দেখার জন্য বড় মেয়ে আদালত পর্যন্ত দৌড়েছেন। কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্ব থাকায় মা-বোন বড় মেয়েকে হাসপাতালে ঢুকতেই দেয়নি!

Must read

প্রতিবেদন : মৃত্যুশয্যায় থাকা বাবাকে শেষ দেখার জন্য বড় মেয়ে আদালত পর্যন্ত দৌড়েছেন। কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্ব থাকায় মা-বোন বড় মেয়েকে হাসপাতালে ঢুকতেই দেয়নি! কলকাতা হাইকোর্টে প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চ, পরে ডিভিশন বেঞ্চে দৌড়েছেন বড় মেয়ে। দ্বিতীয় দফার শুনানি চলার সময় আদালতে খবর আসে যাকে কেন্দ্র করে এত টানাপোড়েন, আইন-আদালত, সেই বাবাই আর নেই! তিনি শুনানি চলাকালীনই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন হাসপাতালে। বাবাকে শেষ দেখা দেখার জন্য বড় মেয়ের এতখানি লড়াই কোনও কাজেই এল না দেখে আদালতে উপস্থিত সকলেই ভেঙে পড়েন। এমনকী, বিচারপতিরাও ঘটনার পরম্পরা ও অভিঘাত দেখে এজলাসের মধ্যে হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। কাঁদতে থাকেন দু-পক্ষের আইনজীবী-সহ সকলেই। প্রশ্ন একটাই, দ্বন্দ্ব যা-ই থাক না কেন, মৃত্যুশয্যায় থাকা বাবার সঙ্গে বড় মেয়ের শেষ দেখাটুকু কি হতে পারত না? নজিরবিহীন এই ঘটনা নাড়িয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টকে।

আরও পড়ুন-দিনের কবিতা

তিলোত্তমা সাক্ষী রইল এক বিরল অতিমানব লড়াইয়ের। আইনের খাতায় যা অসমাপ্ত থাকলেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মানবতা না থাকলে নিষ্ঠুরতা শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা নিয়ে জীবনকে প্রশ্ন করে, আর কত?
মৃত্যুশয্যায় বাবা ভর্তি হাসপাতালে। মুম্বই থেকে কলকাতায় ছুটে এসেও বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বড় মেয়ে মম গঙ্গোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায়। কারণ, মা-বোনের সঙ্গে ঝামেলা। শেষপর্যন্ত বাবাকে দেখতে চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। বাবাকে দেখতে যাওয়ার অনুমতি দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তার পরও কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন বড়মেয়ে। শনিবার শুনানিতে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চে আবেদনকারীর আইনজীবী তীর্থঙ্কর দে দাবি করেন, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের পরও মেয়েকে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। একটি কাগজে টিপ সই দেখিয়ে বলা হয়, বাবা দেখা করতে চান না। আবেদনকারীর বাবা সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় একজন শিল্পপতি, শিক্ষিত মানুষ। তিনি কেন টিপসই দিয়ে মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে অনিচ্ছার কথা জানাবেন? ভরা এজলাসে টানটান শুনানির মাঝেই খবর আসে, মম-এর বাবা আর বেঁচে নেই! শুনে হতাশা প্রকাশ করে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। মামলা করেও জীবদ্দশায় বাবাকে দেখতে পেলেন না বড়মেয়ে! শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারবেন কি?

Latest article