শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন ‘শৌর্য দিবস’ উদযাপনের নির্দেশ দিয়ে বিপাকে শিক্ষামন্ত্রী, পিছু হটলেন

গেরুয়া নেতাদের জন্য যদিও এই বিষয় প্রথম নয়। আগেও বহু নেতা মন্ত্রী বেফাঁস মন্তব্য করে পিছু হটেছেন। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম নয়।

Must read

গেরুয়া নেতাদের জন্য যদিও এই বিষয় প্রথম নয়। আগেও বহু নেতা মন্ত্রী বেফাঁস মন্তব্য করে পিছু হটেছেন। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী (Education Minister) 0তথা পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী মদন দিলাওয়ার বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) ধ্বংসের দিনটিকে ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে পালনের নির্দেশ দিলেন স্কুলগুলিকে। কিন্তু এই নির্দেশের পর থেকেই বিতর্কের মুখে পড়ে কয়েক ঘণ্টা পর নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। যদিও অপরিকল্পিত ও অযাচিত মন্তব্যের বিষয়ে সিদ্ধহস্ত তিনি এই বিষয়ে সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন-দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকেই তিনবেলার খাবার

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়। এবার তিনি ফরমান জারি করলেন রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলকে ওই দিনটিকে ‘শৌর্য দিবস’ হিসেবে পালন করতে হবে। মন্ত্রীর নির্দেশ মেনে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু হায়! বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ রবিবার সকালে ওই নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হল তাঁকে। দেশজুড়ে এতটাই কটাক্ষের শিকার হলেন তিনি যে এই আবহে নির্দেশ প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।

আরও পড়ুন-SIR-এর চাপে গুরুতর অসুস্থ BLO: ভর্তি এসএসকেএম-এ

প্রসঙ্গত, নির্দেশে বলা হয়েছিল, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পূর্তিতে, আগামী ৬ ডিসেম্বর সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। পড়ুয়া ও কর্মীদের মধ্যে ‘দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, সাহসিকতা, সাংস্কৃতিক গর্ব ও জাতীয় ঐক্যে’র বোধ জাগিয়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ ওই নির্দেশ প্রত্যাহার করেন তিনি। ফের নতুন বিবৃতি দিয়ে জানালেন রাজ্যের সব স্কুলে পরীক্ষা চলছে। ৫ ও ৬ ডিসেম্বর পরীক্ষা চলবে। তাই পরীক্ষা চলাকালীন স্কুলগুলিতে এই ধরণের কোন আয়োজন সম্ভব নয় বলে ‘শৌর্য দিবস’ উদযাপন স্থগিত রাখা হচ্ছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন ‘শৌর্য দিবস’ পালন নিয়ে শুরুতেই বিতর্ক দেখা দেয়। যদিও মদনের অদ্ভুত যুক্তি, ভগবান রামচন্দ্র ভারতীয় সংস্কৃতির আদর্শের প্রতীক এবং রামমন্দির আন্দোলন নাকি দেশের জাতীয় গর্বের প্রতীক। এর আগেও একাধিক বার বিতর্কে জড়িয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। মাদ্রাসা-সহ সমস্ত স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুঘল সম্রাট আকবরকে ‘অত্যাচারী শাসক’ বলেছিলেন। তাই আরও একবার ওনার এহেন আচরণে অবাক না হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল মনে করছে বিতর্কের জেরেই শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

Latest article