প্রতিবেদন : এসআইআর-আবহে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নয়া ‘যন্ত্র’ আবিষ্কার করে ফেলেছে যোগীরাজ্যের গেরুয়া পুলিশ! নতুন কোনও অত্যাধুনিক যন্ত্র নয়, সাধারণ মানুষের হাতে থাকা নিতান্তই স্মার্টফোন দিয়েই নাগরিকত্ব যাচাই করছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ। শরীরে ফোন ঠেকিয়েই বলে দিচ্ছে কে ‘ভারতীয়’ আর কে ‘বাংলাদেশি’ (Bangladeshi)! সেই মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল সমাজমাধ্যমে। আর তা দেখেই উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পুলিশের এমন আজব কীর্তি নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে দেশ জুড়ে। তৃণমূল কংগ্রেসও এই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, বিস্ময়কর! মানুষের গায়ে যন্ত্র ঠেকিয়েই যদি বলে দেওয়া যায় তিনি বাংলাদেশি (Bangladeshi) নাকি বাংলাদেশি নন, এমন কোনও যন্ত্র যদি আবিষ্কার হয়ে থাকে তা হলে অবিলম্বে নোবেল পুরস্কারের জন্য পাঠানো উচিত। যেকোনও মূল্যে বাঙালিদের, বাংলাভাষীদের হেনস্থা করার নতুন মডেল। হীরক রাজার দেশে ছিল যন্তরমন্তর ঘর। আর মোদি-শাহ-যোগীর সরকারি কাজকর্মেও ‘যন্তর’ দিয়ে মানুষকে কলকবজায় ফেলার চেষ্টা!
আরও পড়ুন- অভিযোগ তুলেও সদুত্তর না দিয়ে সরলেন অনিকেত
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কৌশাম্বী থানার পুলিশ আধিকারিকরা গাজিয়াবাদের এক বস্তিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের পিঠে স্মার্টফোন ঠেকিয়ে দাবি করছেন যে, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি! বছর ৭৬-এর মহম্মদ সিদ্দিকের পরিবার বারবার ফোনে নথিপত্র দেখিয়ে নিজেদের বিহারের আরারিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা বলে দাবি করলেও পুলিশ শোনেনি। পেশায় মাছ বিক্রেতা সিদ্দিক বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে গাজিয়াবাদে বসবাস করছেন তাঁরা। তবুও তাঁদের বাংলাদেশি বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। গাজিয়াবাদ পুলিশের এই কাণ্ডে বিতর্ক দানা বাঁধতেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও গেরুয়া পুলিশের দাবি, রুটিন তল্লাশির সময় ওই ভিডিওটি তোলা হয়েছে।

