গ্রিনল্যান্ড চাই, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকেও ছাড়ব না, একাধিক দেশকে হুমকি ট্রাম্পের

Must read

ওয়াশিংটন: ভেনেজুয়েলা এপিসোডের পর আরও আগ্রাসী ভূমিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। লাতিন আমেরিকার দেশগুলিকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপের গ্রিনল্যান্ড চাই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর ট্রাম্পের এই বেলাগাম হুমকির পর প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি আন্তর্জাতিক আইনকানুনের কার্যকারিতা আছে? রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকাই বা কী?
মার্কিন সেনা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিয়ে বন্দি করার পরে একাধিক ইউরোপের দেশ আমেরিকাকে সমর্থন জানিয়েছে। এসবের মধ্যেই ভেনেজুয়েলা ছাড়িয়ে কিউবা, কলোম্বিয়ার দিকে হাত বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড চাই তাঁর। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গোস্তাভো পাদ্রোকে সরাসরি হুমকি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মতোই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে কলোম্বিয়ারও৷
মার্কিন সেনার ভেনেজুয়েলা আক্রমণ এবং নাটকীয় কায়দায় দেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে আমেরিকায় বিচারের জন্য নিয়ে আসার পর থেকেই প্রবল উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লাতিন আমেরিকায়৷ মাদুরোর বন্ধু কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পাদ্রোকে হুমকি দিয়ে তাঁকেও ড্রাগ পাচারের অভিযোগে বিদ্ধ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, উনি (গোস্তাভো পাদ্রো) কোকেন তৈরি করে আমেরিকায় পাঠাচ্ছেন৷ খুব সাবধান থাকুন৷ আপনার পরিণতি খারাপ হবে।

গত কয়েকমাসে মাদুরোর মতোই পাদ্রোর সঙ্গেও একাধিকবার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন ট্রাম্প (Donald Trump)। আমেরিকা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট৷ তিনি এটিকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেন৷ এই ঘটনা মানবিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেন গোস্তাভো পাদ্রো। তাঁর মতে, লাতিন আনেরিকায় তেলের আগ্রাসন জারির পাশাপাশি কোনওভাবে যাতে রাশিয়া ও চিন আমেরিকার ধারেকাছে না ঢুকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বলির পাঁঠা করা হল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। এখানেই যে ট্রাম্প থেমে থাকবেন না তার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পাদ্রো। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার রাতেই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে কলোম্বিয়া। ট্রাম্প তাঁর উদ্দেশ্যে চোখ রাঙানি দেন। জানান, এবার সাবধান থাকুক কলোম্বিয়া। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি পাদ্রো। তিনি দাবি করেন, কোনওভাবেই কলোম্বিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে না আমেরিকা। লাতিন আমেরিকার দেশগুলিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে কলোম্বিয়ার পর ট্রাম্পের নজর পড়েছে মেক্সিকো ও কিউবাতেও। ট্রাম্প দাবি করেন, কিউবা ভেঙে পড়তে চলেছে। ভেনেজুয়েলার তেলের টাকায় কিউবা চলে। এবার আর সেটা তারা পাবে না। ফলে তাদের পতন সময়ের অপেক্ষা। অন্যদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টকেও মারাত্মক মানুষ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার উপর দখলদারি যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে দিয়েছে, তা আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে ট্রাম্প বিবৃতি দেন, বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে রয়েছে রাশিয়া আর চিনের যুদ্ধজাহাজ। আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য সেটা খুব বিপজ্জনক। গ্রিনল্যান্ড আমাদের চাই। ডেনমার্ক এটিকে কোনও নিরাপত্তা দিতে পারবে না। ট্রাম্পের এই বার্তার পরেই ইউরোপে শুরু হয়ে গিয়েছে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন দাবি করেন, আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবির কোনও গুরুত্ব নেই। কিংডম অফ ডেনমার্কের মতো গ্রিনল্যান্ডও একটি স্বাধীন সদস্য। গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে আমেরিকার সামরিক চুক্তি রয়েছে। তার দরুণ একটি বড় অংশে আমেরিকার প্রবেশাধিকার রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ে কোনও কথা বলার অধিকার আমেরিকার নেই। ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলি। কমনওয়েলথ-এর অন্তর্গত এস্টোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচেল স্পষ্ট করে দেন, গ্রিনল্যান্ডে হাত দিয়ে ডেনমার্কের স্বাধীনতায় হাত দেওয়া যাবে না। এই পরিস্থিতিতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সমগ্র ইউরোপকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইউরোপের শক্তিগুলি অন্তত এই পরিস্থিতিতে একজোট না হলে গোটা বিশ্ব ইউরোপকে দুর্বল বলেই ধরে নেবে। ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে সুইডেন, স্কটল্যান্ড, লাটভিয়া, ফিনল্যান্ড প্রভৃতি পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপের দেশগুলি।
এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করায় বিশ্ব জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আমেরিকার কিছু ‘বন্ধু’ দেশ বা আমেরিকার রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সোচ্চারে সমর্থন করলেও বেশিরভাগই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাদের মতে, এভাবে মাদুরোকে বন্দি করা ভেনেজুয়েলার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বে আঘাতের নামান্তর। বহু দেশই এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। প্রতিক্রিয়া দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘও। তারা স্বীকার করেছে, আমেরিকার এই পদক্ষেপ বিশ্বের দরবারে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। ট্রাম্পের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের পরিপন্থী।

আরও পড়ুন-ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রাইভেট টিউশন নয়, একগুচ্ছ নির্দেশ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

Latest article