প্রতিবেদন: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার সহযোগী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে ইডির অভিযানের পরেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আঙুল তুলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দিকে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরতে না পেরতেই বিভিন্ন সূত্র মারফত যেসব খবর সামনে আসছে, তাতে দলনেত্রীর অভিযোগই যে সঠিক সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। একটি সূত্র বলছে, সরাসরি শাহর দফতর থেকেই গোটা পরিকল্পনার ছক কষা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি এতদিন এভাবেই হরিয়ানা, দিল্লি, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র দখল করেছে। কিন্তু বাংলায় তারা ধরা পড়ে গিয়েছে। এখানে এসেই হোঁচট খেয়েছে শাহর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আইপ্যাক কাণ্ডে তাদের ভূমিকা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থেই এজেন্সির অভিযান বলে মোদি-শাহরা যত দাবিই করুন না কেন, সবই যে প্রতিহিংসার রাজনীতির নোংরা খেলা তা সকলে বুঝতে পারছে। আইপ্যাক অভিযানও যে সরাসরি কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে, সেটা বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন-ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ২.০! এবার তো পদত্যাগ করুন মোদি-শাহ
সেই সূত্রের পাঠানো তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে আইপ্যাকে তল্লাশির নামে বৃহত্তর চিত্রনাট্যের নেপথ্যকাহিনি। এই তথ্য ইডির অভিযানের আগের দিনের। দুই ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, একজন আর একজনকে বলছেন, ১৩ সদস্যের ইডি-র একটি আধিকারিকদের দল দুটি আলাদা সময়ে বিমানে কলকাতায় পৌঁছবেন। বিমান দুটির নম্বর হল ৬ই ৫০১৪ ও এসজি ২৬৩। যাঁদের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ও ডেপুটি ডিরেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকরা থাকবেন। যে বিমানে তাঁরা আসছিলেন তার নম্বরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একজন মহারাষ্ট্র থেকে আসছিলেন বলেও সূত্রটি খবর দিয়েছিল। গুলশন রাই নামে এক সাইবার বিশেষজ্ঞের আগেই কলকাতা পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। গোটা বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক সাকেত কুমারের সঙ্গে সিজিও কমপ্লেক্সে আগেই তাঁদের বৈঠক হয়েছিল বলে সূত্রটি জানাচ্ছে। ইংরেজিতে লেখা এই বার্তার উপরে ‘দাদা’ সম্বোধনের উল্লেখ রয়েছে। তৃণমূলের তরফে এই তথ্যের কোনও সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তারা বলছে, এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে বুঝতে হবে গোটা ঘটনাটি খোদ অমিত শাহর দফতর থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবশ্যই পুলিশের এ¬নিয়ে তদন্ত করা উচিত।

