মোদির গুজরাতেই চোরাশিকার মন্দিরে ৩৭টি বাঘছাল, ১৩৩টি নখ-দাঁত

সক্রিয় চোরাশিকারি এবং পাচারকারীর দল। প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা অপদার্থতার সুযোগ নিয়ে তারা ব্যবহার করছে ধর্মস্থানকেই।

Must read

আমেদাবাদ: বন্যপশুপ্রেমীর ছদ্মবেশে শুধুই আত্মপ্রচারের ঢক্কানিনাদ প্রধানমন্ত্রী মোদির। এই পশুপ্রেম যে আসলে কতটা অন্তঃসারশূন্য তার আবার প্রমাণ মিলল নিজের রাজ্য গুজরাতেই। বিজেপির শাসনেই অবাধে চলছে বন্যপ্রাণ শিকার এবং সেগুলোর দামি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচার। সক্রিয় চোরাশিকারি এবং পাচারকারীর দল। প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা অপদার্থতার সুযোগ নিয়ে তারা ব্যবহার করছে ধর্মস্থানকেই। এবার মোদিরাজ্যের রাজপিপলার কাছে ধর্মেশ্বর মহাদেব মন্দিরে পাওয়া গেল ৩৭টি বাঘের ছাল, ১৩৩টি বাঘের নখ এবং দাঁত।

আরও পড়ুন-দিনের কবিতা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মোদিরাজ্যে। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বন্যপ্রাণপ্রেমীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপির শাসনে খোদ প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে এভাবে একের পর এক বাঘকে খুন করা হচ্ছে, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে চোরাপথে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে বাঘের মূল্যবান অঙ্গপ্রতঙ্গ। কী করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার? তাঁদের বক্তব্য, বিজেপির মদত ছাড়া এমন দুর্নীতি অসম্ভব।
আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের বিভিন্ন জঙ্গলে সাফারিতে যান। বিদেশ থেকে আনা নতুন বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির সঙ্গে তাঁর ছবিও শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। কিন্তু তাঁর এই পশুপ্রেম যে কার্যত লোক দেখানো তা আবার প্রমাণ হয়ে গেল মোদির নিজের রাজ্য গুজরাতে বন্যপ্রাণী নিয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধের ঘটনা সামনে আসতেই। সপ্তাহ দুয়েক আগে গুজরাতের রাজপিপলার কাছে ধর্মেশ্বর মহাদেব মন্দিরে একটি ঘর থেকে বন দফতর ৩৭টি বাঘের ছাল, ১৩৩টি নখ ও দাঁত উদ্ধার করেছ।

আরও পড়ুন-মিলনমেলায় আজ ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে সভায় অভিষেক

জানা গিয়েছে, মাধবানন্দ নামের একজন বৃদ্ধ পুরোহিত মন্দিরের একটা ঘরে থাকতেন। বেশ কয়েকদিন আগে তিনি মারা গেলে কর্তৃপক্ষ ঘরটাকে ভেঙে নতুন করে তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আচমকা কর্মীদের কিছু সন্দেহজনক মনে হলে তাঁরা বন দফতরে খবর দেন। সেই খবরের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন রেঞ্জ ফরেস্ট অফিসার জিগনেশ সোনি এবং তাঁর দল। ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি লোহার বাক্স ভেঙে ৩৭টি বাঘের ছাল ও ১৩৩টি নখ-দাঁত উদ্ধার করেছে। নর্মদার উপ-বন সংরক্ষক অভয় সিং-এর দাবি, ছালগুলি আসল নয়। রং করা। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য হায়দরাবাদের সেলুলার এবং আণবিক জীববিজ্ঞান কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ব্যবস্থা শুধুমাত্র ইভেন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি শেয়ার করার মাধ্যমে চলতে পারে না। মোদির রাজ্যে এমন অবৈধ কার্যকলাপ
প্রকাশ্যে আসা সরকারের সংরক্ষণ নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে তুলে দিয়েছে বড় প্রশ্ন।

Latest article