এসআইআর আতঙ্কে তিন জেলায় মৃত্যু হল ৩ জনের

Must read

ব্যুরো রিপোর্ট : এসআইআর-আতঙ্কে (SIR) মৃত্যুমিছিল থামার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না! বিভিন্ন জেলায় শুনানির আতঙ্কে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃতের তালিকা। সোমবার তিন জেলায় মৃত্যু হল তিনজনের। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা অনীতা বিশ্বাসের। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বরনান গ্রামে মৃত্যু হয়েছে বছর ৭৩-এর মৃত্যুঞ্জয় সরকারের। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জে মৃত্যু হল এক দিনমজুরের। বোচাডাঙা চান্দোইল এলাকার লক্ষ্মীকান্ত রায় (৫০)।

অনীতার পরিবারের অভিযোগ, ৫ তারিখ শুনানিতে (SIR) গিয়ে কাগজপত্র দেখানোর পরও দিশা না পেয়ে চিন্তিত হয়ে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন অনীতা। রবিবার গভীর রাতে হাসপাতালেই মৃত্যু হয়। ২০০২-এর তালিকায় নাম না থাকলেও ৯৫ সালের তালিকায় ছিল। সব কিছু জমা দিলেও হিয়ারিংয়ে ডাক আসে। আধিকারিকদের কাছ থেকে আশ্বাস না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ৭ তারিখে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ওঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ান তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বুরাহনুল মুকাদ্দিম, শাহনাওয়াজ সরদার, সুভাষ সাহা, চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, বনি ভট্টাচার্য প্রমুখ।

আরও পড়ুন-চোখের জলে বিদায় দার্জিলিং-গর্ব প্রশান্তকে

কোলাঘাটের মৃত্যুঞ্জয় সরকারের ছেলে মন্টুর দাবি, ২০০২ তালিকায় নাম না থাকায়উনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। ৪ জানুয়ারি শহিদ মাতঙ্গিনী বিডিও অফিসে হিয়ারিংয়ে ডাক পড়ে। ভাইপো নিয়ে যান। ১৯৭১ সালের দলিল দেখালেও তা গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় গতকাল রাতে বুকে ব্যথা শুরু হয়। তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আজ সকাল সওয়া ন’টায় মৃত্যু হয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দায়ী করছে।

কালিয়াগঞ্জে আতঙ্কের বলি হতে হল এক দিনমজুরকে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকা এবং সেই সংক্রান্ত শুনানির দুশ্চিন্তায় প্রাণ হারালেন লক্ষ্মীকান্ত রায়। সোমবার কালিয়াগঞ্জের ধনকৈল হাটে গরুবিক্রি করতে এসে সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ তালিকায় লক্ষ্মীকান্ত ও তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল না। ১৯ জানুয়ারি শুনানির জন্য ডাকা হয়। তার আগেই আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল।

Latest article