প্রতিবেদন : আইপ্যাক-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে পাত্তা না পেয়ে এবার বিজেপির ‘নির্দেশে’ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি (ED)। সোমবার শীর্ষ আদালতে জোড়া মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিজেপির দলদাস এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতার কড়া নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাফ বক্তব্য, বিজেপির নির্দেশে তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই ইডি তৃণমূলের তথ্যভাণ্ডার চুরি করতে আইপ্যাকে হানা দিয়েছিল। পাঁচ-ছয় বছর আগের মামলায় ইডিকে সামনে রেখে ভোটের আগে তৃণমূলের তথ্যভাণ্ডার চুরি করতে চায় বিজেপি। এই মামলা যদি এতই জরুরি হবে, তাহলে ৫-৬ বছর ধরে ইডি কি ঘুমাচ্ছিল? বিষয়টিতে আদৌ কোনও সারবত্তা থাকলে এতদিন ধরে ইডি ঘুমাত না। তাদের আসল উদ্দেশ্য, ভোটের ঠিক আগে আইপ্যাক থেকে তৃণমূলের প্রচারের সব ব্লুপ্রিন্ট হাতিয়ে বিজেপি হাতে তুলে দেওয়া। তাই সেখানে দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রুখে দাঁড়িয়ে সেইসমস্ত তথ্য আগলে রেখেছেন। তাই এটা সামাল দিতে ইডি আদালতে গিয়ে আপত্তিকর বিকৃত অভিযোগ করছে।
আরও পড়ুন-পিএফ তথ্য নেবেনই শ্রমিকরা: ঋতব্রত
আইপ্যাক-কাণ্ডে এদিন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করেছে ইডি। যেখানে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে ‘চুরি’র অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপির নির্দেশে ইডির সম্পূর্ণ আপত্তিকর, নিম্নরুচির একটি মিথ্যা অভিযোগ। ভারতীয় শাস্ত্রে ‘চৌর্যবৃত্তি’ সম্পর্কে বলা হয়েছে, না বলিয়া অন্য কারও দ্রব্য নহিলে তাকে চৌর্যবৃত্তি বলা যায়। কিন্তু দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য দিবালোকে সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করে নিজের দলের সম্পত্তি রক্ষা করেছেন। এখানে চুরির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। ন্যায়-সংহতি পরের কথা, আগে শাস্ত্র পড়তে হবে। ইডি বরং বিজেপির নির্দেশমতো তৃণমূলের তথ্যভাণ্ডার চুরি করতে এসেছিল। ২০২০-২১ সালের এই মামলা, সেইসময় আইপ্যাকের কর্ণধার ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তাহলে তাঁর বাড়িতে না গিয়ে প্রতীক জৈনের বাড়িতে এসেছিল কেন? কারণ, প্রতীক জৈন এইবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার উপদেষ্টা। তাই তাঁদের কাছে দলের বহু তথ্য ছিল, ভোটের আগে যা হাতাতেই এসেছিল ইডি।

