মুম্বই, ১২ জানুয়ারি : পুরনো দলের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী গ্রেস হ্যারিস। গ্রেসের ব্যাটিং তাণ্ডবে উড়ে গেল ইউপি ওয়ারিয়র্স। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অস্ট্রেলীয় ব্যাটারকে যোগ্য সঙ্গত করলেন অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। দু’জনের দাপটে মেগ ল্যানিং, দীপ্তি শর্মাদের ইউপি ওয়ারিয়র্সকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দিল আরসিবি। হ্যারিস ছিলেন সবচেয়ে আগ্রাসী। তাঁর (৪০ বলে ৮৫) ও স্মৃতির (৩২ বলে ৪৭ অপরাজিত) শাসনে ৪৭ বল হাতে রেখেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৪ রান তুলে দেয় আরসিবি। ম্যাচের সেরা হ্যারিস। টানা দুই ম্যাচ জিতে মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগ ডব্লুপিএলের শীর্ষে বেঙ্গালুরু। প্রথম ম্যাচে তারা হারিয়েছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন হরমনপ্রীত কৌরের মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে।
আরও পড়ুন-দিনের কবিতা
টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আরসিবি। ইউপি-র শুরুটা খুব ভাল হয়নি। অধিনায়ক মেগ ল্যানিং ও হার্লিন দেওলের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল তারা। হার্লিনকে ফিরিয়ে দেন লরেন বেল। এরপরই অধিনায়ক মেগকে আউট করেন ভারতীয় অফস্পিনার শ্রেয়ঙ্কা পাতিল। কিরণ নভগিরকে সঙ্গে নিয়ে ইউপি-কে লড়াইয়ে ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করেন ফোব লিচফিল্ড। কিন্তু অস্ট্রেলীয় ব্যাটার আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেও ২০ রানের বেশি করতে পারেননি। কিরণকে (৫) ডাগ আউটে ফেরান নাদিন ডি’ক্লার্ক। লিচফিল্ডকে আউট করেন শ্রেয়ঙ্কা। দু’জনের দাপটে ৫০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে একটা সময় বেকায়দায় পড়ে ইউপি। সেখান থেকে দলকে লড়াই করার মতো স্কোরে পৌঁছে দেন দীপ্তি শর্মা ও ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার দিয়ান্দ্রা ডোটিন। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে দু’জনে যোগ করেন ৯৩ রান। আরসিবি-র সামনে ১৪৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখে ইউপি। দীপ্তি ৩৫ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৭ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন দিয়ান্দ্রা। স্মৃতির দলের সেরা দুই বোলার ছিলেন শ্রেয়ঙ্কা ও নাদিন। দু’জনের ঝুলিতে দু’টি করে উইকেট।
আরও পড়ুন-নিজেকে এখন ভেনেজুয়েলারও প্রেসিডেন্ট মনে করছেন ট্রাম্প!
জবাবে আক্রমণাত্মক শুরু করে আরসিবি। অধিনায়ক স্মৃতি ও অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার গ্রেস হ্যারিসের সামনে অসহায় দেখায় ইউপি-র বোলারদের। স্পিনার দীপ্তিকে দিয়ে বোলিং শুরু করিয়েও লাভ হয়নি। দীপ্তি প্রথম ওভারেই ৯ রান দেন। দুই ভারতীয় পেসার ক্রান্তি গৌড় ও শিখা পাণ্ডেকেও রেয়াত করেননি স্মৃতিরা। ষষ্ঠ ওভার দিয়ান্দ্রা করতে আসেন। তাঁর এক ওভারে চার, ছক্কার ফুলঝুরিতে ৩২ রান তুলে চলতি মরশুমে দ্রুততম অর্ধশতরান করে ফেলেন গ্রেস।
মাত্র ২২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার। দিয়ান্দ্রাকে ছক্কা হাঁকিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রেস। এরপর গ্রেসের তাণ্ডব আরও বাড়ে। স্মৃতিও তাঁকে বেশি স্ট্রাইক দিয়ে ম্যাচ দ্রুত শেষ করতে চান। ১২তম ওভারে গ্রেস আউট হলেন ম্যাচ কার্যত শেষ করে। রিচা ঘোষকে নিয়ে বাকি কয়েকটি রান করে ম্যাচ ফিনিশ করেন স্মৃতি।

