সাগরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata banerjee)। মেলার প্রতি কেন্দ্রের অবহেলার অভিযোগ। অবহেলা একদিন বন্ধ হবে আশা তাঁর। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে তিনি জানিয়েছেন,”ঐতিহ্যশালী ও ঐতিহাসিক গঙ্গাসাগর মেলায় আগত দেশের লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আমাদের সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। আগের সরকার এখানে তীর্থযাত্রীদের উপর যে ‘তীর্থ কর’ চাপিয়ে রেখেছিল, আমরা এসেই তা তুলে দিই। মেলায় যেতে এখন আর কোনও কর দিতে হয় না।”
পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী (CM Mamata banerjee) বলেন, “অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কপিল মুনির আশ্রমসহ মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাস-ভেসেল-লঞ্চ-জেটি নদীপথ ড্রেজিং, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা, আলোকসজ্জা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, হাসপাতাল-ডাক্তার-নার্স- অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের থাকার জায়গা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা, জরুরি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার পরিষেবা, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা — সবই করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন- ৩০০ কুকুরকে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে খুন করল পঞ্চায়েত প্রধানরাই
রাজ্যের টাকায় তৈরি গঙ্গাসাগর সেতু। ফের মনে করালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়,”এবার গঙ্গাসাগর যাতায়াতের জন্য মুড়িগঙ্গা নদীর উপর রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজের টাকায় ‘গঙ্গাসাগর সেতু’ তৈরি করছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা, চার লেনের এই অত্যাধুনিক ব্রিজটি বানাতে যে ১৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে, তা আমরাই দিচ্ছি। গত ৫ জানুয়ারি এই সেতুর শিলান্যাস করে এসেছি। এটি তৈরি হয়ে গেলে তীর্থযাত্রীরা সরাসরি সড়কপথে খুব কম সময়ে গঙ্গাসাগর পৌঁছাতে পারবে। সাগরদ্বীপের স্থানীয় মানুষের জন্যও এই সেতু হবে আশীর্বাদস্বরূপ। এলাকার পর্যটন শিল্পও বিপুলভাবে উপকৃত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে এই সেতুটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে।
প্রার্থনা করি, সকল তীর্থযাত্রীর যাত্রা শুভ হোক এবং সকলের মনোবাসনা পূর্ণ হোক।
আশা রাখি, এই গুরুত্বপূর্ণ মেলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিদারুণ অবহেলা ও অমনোযোগের একদিন অবসান ঘটবে।”
পাশাপাশি এদিন লোহরি উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “এই পবিত্র উৎসব শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সম্প্রীতি বয়ে আনুক।”

