নয়াদিল্লি: দেশের শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে আরও একবার মোদি সরকারের নির্লজ্জ মিথ্যাচারিতা সামনে এসেছে৷ মোদি সরকার ও বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব বারবারই দাবি করে থাকেন যে, গোটা বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে ভারতের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে৷ এই বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে পড়ার জন্য বিদেশ থেকে লক্ষাধিক ছাত্র প্রতি বছর ভারতে আসেন বলেও দাবি জানানো হয়েছে সরকারের তরফে৷ সরকারি সূত্রের এই দাবিকে কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ৷ তিনি একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে, যেখানে সাফ দাবি জানানো হয়েছে যে, বিশ্বের প্রথম ৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভারতের কোনও বিশ্ববিদ্যালয় নেই৷ এই প্রসঙ্গেই বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্য, বিশ্বগুরু হওয়ার দাবির বাস্তবতা এটাই৷ মোদির আমলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরএসএস-র উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে অবনমিত করা হয়েছে৷ এরা বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং সমালোচনামূলক চিন্তভাবনার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করেছে৷
আরও পড়ুন-১০০ ছাড়া এবার থেকে ১১২-তে ফোন করলে মিলবে পুলিশ-জরুরি পরিষেবা! তোড়জোড় নবান্নের
উল্লেখ্য, মোদি সরকারের নতুন শিক্ষানীতি(এনইপি) নিয়ে এর আগেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে৷ দেশের সর্বত্র শিক্ষার গৈরিকিকরণ করতে উদ্যত হয়েই মোদি সরকার গত মাসে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে নিয়ে এসেছে বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫৷ এই বিলের প্রধান লক্ষ্য হল ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, এআইসিটিই বা অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন এবং এনসিটিই বা ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন-র মত প্রতিষ্ঠানের বিলোপ ঘটানো৷ একইসঙ্গে বিরোধী শাসিত সব রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা৷ মোদি সরকারের এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই আবহেই বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের নতুন তোপ মোদি সরকারকে আরও চাপে ফেলবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত৷

