যোগীরাজ্যে দলিত কৃষককে পিটিয়ে খুন করল উচ্চবর্ণের মদ্যপ প্রতিবেশী

জাতপাতের বৈষম্য কী ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যোগীপ্রশাসনের অপদার্থতার কারণে, তার আবার প্রমাণ মিলল বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে

Must read

লখনউ : জাতপাতের বৈষম্য কী ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যোগীপ্রশাসনের অপদার্থতার কারণে, তার আবার প্রমাণ মিলল বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে। বিনা কারণে প্রতিবেশী দলিত কৃষককে পিটিয়ে খুন করল মদ্যপ উচ্চবর্ণের প্রতিবেশী। বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন কৃষকের স্ত্রীও। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে কানপুরের দেহাত জেলায় মালিকপুর গ্রামে। নিহত দলিত কৃষকের নাম দেবকীনন্দন পাসোয়ান(৫০)। খুনে অভিযুক্ত প্রতিবেশী গোবিন্দ সিং। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

আরও পড়ুন-নির্যাতন-খুন, তবুও মাঠ ভরাতে বিজেপির ভরসা বাংলার পরিযায়ীরাই

ঘটনার পরে গা ঢাকা দেয় হামলাকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকায়। নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজ্যজুড়ে। প্রশ্ন উঠেছে যোগীরাজ্যে পিছড়েবর্গের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে।
ঠিক কী হয়েছিল ঘটনাটা? প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মত্ত গোবিন্দ সিং একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আচমকাই চড়াও হয় প্রতিবেশী দলিত কৃষক দেবকীনন্দনের বাড়িতে। ব্যাপক গালিগালাজ শুরু করে। তীব্র প্রতিবাদ জানান, দেবকীনন্দন এবং তাঁর স্ত্রী মমতা পাসোয়ান। শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। আচমকাই গোবিন্দ এবং তার স্ত্রী ডেকে আনে কয়েকজন আত্মীয় আর বন্ধুকে সকলে মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলিত কৃষক দম্পতির উপরে।লাঠি আর লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকে। আক্রান্ত হন দেবকীনন্দনের মেয়ে গোমতীও। গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং করতে গেলে গোমতির ফোন কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও দীর্ঘক্ষণ দেখা মেলেনি তাদের। এলাকার লোকজনই ছুটে এসে উদ্ধার করেন আক্রান্ত দলিত পরিবারকে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আক্রান্ত দম্পতিকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের স্থানান্তরিত করা হয় কানপুরের হাসপাতালে। সোমবার সেখানেই মৃত্যু হয় কৃষক দেবকীনন্দনের। হাসপাতালেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তাঁর স্ত্রী। জনরোষের চাপে পরে অবশ্য শেষপর্যন্ত মূল অভিযুক্ত-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Latest article