সংবাদদাতা, গঙ্গাসাগর : এ বছর রেকর্ড ভিড় গঙ্গাসাগর (Gangasagar) মেলায়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী পুণ্যস্নান সেরেছেন। এদিন এমনটাই জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গঙ্গাসাগর পরিণত হয়েছে আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও জনসমাগমের এক মহামিলন কেন্দ্রে। মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নামে। এবারেও তার অন্যথা হয়নি। বিশেষ করে রাজ্য প্রশাসনের সুব্যবস্থায় এবছর ভক্ত সমাগম বেড়েছে আরও কয়েক গুণ। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করেই পুণ্যস্নানে অংশ নিয়েছেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্তরা। শেষ দিনে সাগরদ্বীপের মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, মন্ত্রী পুলক রায়, সুজিত বোস, মন্ত্রী দিলীপ মন্ডল , বেচারাম মান্না, মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার, সহ পুলিশ আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন-উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে ছয় ভলভো
অরূপ বিশ্বাস জানান, এ বছর গঙ্গাসাগর (Gangasagar) মেলায় রেকর্ড ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী পুণ্যস্নান সেরেছেন। মেলার স্মৃতি ধরে রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপিত ১৫টি ‘বন্ধন বুথ’ থেকে ১১ লক্ষ মানুষ ই-পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মন্ত্রী আরও জানান, মেলায় হারিয়ে যাওয়া ৬৬৩২ জন পুণ্যার্থীর মধ্যে ৬৬২৭ জনকে তাঁদের পরিজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছিনতাই ও পকেটমারির ৪৫৬টি অভিযোগের মধ্যে ৪৩৮টি ক্ষেত্রে খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ৮৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অসুস্থ পুণ্যার্থীদের চিকিৎসায় বিশেষ তৎপরতা দেখিয়েছে প্রশাসন। মেলা চলাকালীন ৫ জন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। মেলা শেষে অধিকাংশ পুণ্যার্থীই এখন বাড়ির পথে। সামগ্রিকভাবে এবারের মেলা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।

