প্রতিবেদন : এসআইআর (SIR) আতঙ্কে রাজ্যে মৃত্যু অব্যাহত। বৃহস্পতিবারও শুনানি আতঙ্কে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও লালগোলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন দুই প্রবীণ। একইসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে আত্মঘাতী এক পরিযায়ী শ্রমিক। আবার খাস কলকাতাতেও অতিরিক্ত কাজের চাপ সইতে না পেরে আত্মঘাতী এক বিএলও।
বৃহস্পতিবার শুনানি-আতঙ্কে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে পুটু শেখ (৬৪) নামে এক ব্যক্তির। বেলা ১২টা নাগাদ বাড়ির সব লোক যখন সামশেরগঞ্জ বিডিও অফিসে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে, তখন রামেশ্বরপুর-চাচন্ড গ্রামের বাড়িতে পুটু শেখ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরিবার সূত্রে খবর, খসড়া ভোটার তালিকায় নামের বানানে সামান্য ভুল থাকার জন্য পুটুকে শুনানির নোটিশ ধরানো হয়েছিল। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যকেও ছোটখাটো ভুলের জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। পুত্রবধূ জানিয়েছেন, সকালে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম, সেইসময় শ্বশুরমশাইয়ের মৃত্যুর খবর পাই। পরিবারের একাধিক লোকের নাম শুনানির তালিকায় থাকায় তিনি আতঙ্কে ছিলেন।
আরও পড়ুন-ভক্ত সমাগমে নয়া নজির, পুণ্যস্নান সারলেন ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী
মুর্শিদাবাদেরই লালগোলা থানার লতিবেরপাড়ায় শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার পর থেকেই প্রবল আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সাবেরা বিবি (৪০)। পরিবার সূত্রে খবর, নামের বানানে ভুল থাকায় বুধবার শুনানিতে ডাক পড়েছিল তাঁর। নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন। বুধবার শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। হিয়ারিং থেকে ফেরার পর তাঁকে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে শুনানি-আতঙ্কে আত্মঘাতী পরিযায়ী শ্রমিক সুভাষ হেমব্রম (৩০)। বৃহস্পতিবার শুনানিতে ডাক পড়েছিল। গত ১১ জানুয়ারি গোয়া থেকে ট্রেনে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ভুবনেশ্বরে ট্রেন দীর্ঘক্ষণ সিগনালে দাঁড়িয়ে থাকলে সময়মতো বাড়ি পৌঁছতে না পারার আশঙ্কায় ট্রেন থেকে নেমে লাইনের পাশে একটি গাছে গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন সুভাষ। ওড়িশা পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার খাস কলকাতার মুকুন্দপুরে এসআইআরের অতিরিক্ত কাজের চাপ সইতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছেন বিএলও অশোক দাস। এদিন যাদবপুর বিধানসভার ১১০ নং পার্টের বিএলও অশোকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্ত্রীর অভিযোগ, পাহাড়প্রমাণ কাজের চাপ সহ্য করতে পারেননি অশোক। পরিবারের পাশে রয়েছে তৃণমূল।

