নারী চরিত্র বেজায় জটিল

নবান্নে গিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মন পড়তে চায় ঝন্টু! কে সে? কেন তার এমন ইচ্ছে? এর উত্তর পাবেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত পরিচালক সুমিত-সাহিলের রোম্যান্টিক কমেডি ছবি ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’-এ। মুখ্যভূমিকায় অঙ্কুশ হাজরা আর ঐন্দ্রিলা সেন। অনাবিল হাসি-মজা, ফ্যান্টাসির মধ্যেই এই ছবি দিল গভীর বার্তা। দেখে এসে লিখলেন শর্মিষ্ঠা ঘোষ চক্রবর্তী

Must read

সদ্য মুক্তি পেয়েছে প্রযোজক, অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরার রোম্যান্টিক কমেডি ছবি ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’ (nari choritro bejay jotil)। ছবির পরিচালক বলিউড খ্যাত সুমিত-সাহিল। এই দুই পরিচিলকের সঙ্গে অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার এটা দ্বিতীয় ভেঞ্চার। এর আগে অঙ্কুশের প্রযোজনা সংস্থার প্রথম ছবি ‘মির্জা’ পরিচালনার দায়িত্বেও ছিলেন তাঁরাই। সুমিত-সাহিল যমজ ভাই। ‘মির্জা’ ছবিটি ছিল অ্যাকশন-নির্ভর আর এবার সম্পূর্ণ ভিন্নধারার পারিবারিক গল্প নিয়ে হাজির হলেন পরিচালক জুটি।

গল্পের নায়ক ঝন্টু চ্যাটার্জি শিবঠাকুরের বড় ভক্ত কিন্তু ওই মা কালীর পায়ের তলায় পড়ে থাকা ইগোলেস শিবশঙ্করকে সে মোটেও মেনে নিতে পারে না। তাঁর মনে হয় শিবঠাকুরটির কারণেই সব পুরুষের এই হাল! সেই কোন ছোটবেলা থেকে ঝন্টুর জীবন নারীবাহিনীর চাপে ঘেঁটে ঘ। জন্মের পরপরই ঠাকুমা অতি-জঘন্য নামকরণ করেছিলেন জগৎদাতা চ্যাটার্জি। তারপর থেকে ভাল নাম নয়, সে নিজের ডাকনাম ঝন্টুই ব্যবহার করে, সেই থেকে শুরু এরপর ছোটবেলায় স্কুলের মিনি, সুজাতার কাছে হেনস্থা, কলেজে বান্ধবীর সপাট চড়, বাড়িতে মা আর দাপুটে ঠাকুমার নিত্য তুমুল ঝগড়ার মাঝে স্যান্ডউইচ হওয়া, বোনের হিংসুটেপনা— শেষ নেই এখানেও। ঝন্টু একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা চালায়, সে হল বিয়ের আয়োজক, সেখানেও বিয়ের কনেদের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে তার ল্যাজে গোবরে হাল। আরও আছে, তার চাইল্ডহুড ক্রাশ যার নাম আঁখি। তাদেরই পুরনো ভাড়াটে। সেও পাত্তাই দেয় না ঝন্টুকে। বাড়ি থেকে বাইরে, আপন থেকে পর বিভিন্ন নারীদের কাছে নিত্য নাকাল হয় ঝন্টু। মেয়েরা কেন যে এত জটিল এটাই তার বোধগম্য হয় না। রোজ সে মহেশ্বর আর মা কালীর কাছে প্রার্থনা করে যাতে মেয়েদের যেন তেনারা একটু সহজ সরল করে দেন। যদিও মেয়েদের বিষয়ে ঝন্টু নিজে মোটেও সংবেদনশীল নয়। ঠাকুমার গালমন্দের আড়ালের স্নেহ, দুশ্চিন্তা, মায়ের আর বাড়ির পুরনো কাজের মাসি ঝরনার তার প্রতি চোরাগোপ্তা স্নেহ— সে বোঝে না। সে এটাও বোঝে না কীভাবে পরিবারকে ভালবাসতে হয়, কেয়ার করতে হয়। ঝন্টুর জীবনে একটাই মোক্ষ সে আঁখিকে বিয়ে করে মুম্বইয়ে সেটেল হবে। কিন্তু তা তো হবার নয় কারণ সেখানেও পাকিয়ে রেখেছে বেজায় গোলমাল। একদিন আঁখির বদলে অন্ধকারে প্রোপোজ করে বসে তারই ছোট বোনকে— ব্যস আর কী! ঘেঁটে ফেলেছে সব। তাও আশা ছাড়েনি ঝন্টু। আঁখিকে বিয়ে করে মুম্বইয়ে সেটেল হবে বলে স্থানীয় কাউন্সিলার পকাই পান্ডের কাছে দিনরাত হত্যে দেয়।
সারাক্ষণ কোনও না কোনও মহিলাকে নিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে থাকা এহেন ঝন্টু চ্যাটার্জি হঠাৎ একদিন নবান্নে যেতে চায় দিদির মনের কথা শুনবে বলে! শুনেই পিলে চমকে যাবার জোগাড়! কিন্তু কেন হঠাৎ এমন ইচ্ছে হল তাঁর! কী এমন কাণ্ড ঘটল যে সরাসরি দিদি পর্যন্ত পৌঁছে যেতে চাইল ঝন্টু! এই গল্পের ট্যুইস্টটা ঠিক এখানেই। আর সেই ট্যুইস্টটা বলে দিলে গল্পের অবশিষ্ট বলার আর কিছু থাকে না। তাই থাক।

আরও পড়ুন-ভক্ত সমাগমে নয়া নজির, পুণ্যস্নান সারলেন ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী

ছবিটা শুরুতেই ভাল লেগে যাবার কারণ গল্পের কথক। তিনি আর কেউ নন স্বয়ং ভোলা মহেশ্বর আর সেই ভূমিকায় রয়েছেন বুম্বা দা। ভারী ভাল লাগবে নেপথ্যে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের গুরুগম্ভীর অথচ মজার ভয়েস ওভার। ঝন্টু চরিত্রে অঙ্কুশ ভীষণ সাবলীল। ওকে এই ধরনের চরিত্রে বেশি মানায়। ঐন্দ্রিলার সঙ্গে চমৎকার রসায়ন তাঁর। ঐন্দ্রিলা বলিষ্ঠ অভিনেত্রী আরও ভাল ভাল চরিত্রে তাঁর আসা দরকার। এছাড়া বন্ধুর চরিত্রে দেবরাজ ভট্টাচার্য ভাল, সোহিনী সেনগুপ্ত যথাযথ, সোহাগ সেন একটু অতিরঞ্জিত হলেও ভালই হাসিয়েছেন, ঈপ্সিতা মুখোপাধ্যায় ঝন্টুর বোনের চরিত্রে খুব মিষ্টি। পকাই পান্ডের চরিত্রে কৌশিক চক্রবর্তী বেশ ভাল। প্রত্যেকেই দারুণ অভিনয় করেছেন। ছবির অন্তিম বার্তাও খুব পজিটিভ। আকর্ষণীয় হল শ্রীজীবের চিত্রনাট্য এবং সংলাপ। খুব ঝরঝরে এবং চেনা, বাস্তব-ঘেঁষা, খানিক চটুল হলেও ছবির প্লট অনুযায়ী ঠিকঠাক। ছবির দৃশ্যায়ন খুব সুন্দর। এডিটিং সংলাপ ভৌমিক। প্রথম গান ‘কাঁটা ফুটেসে’ অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি। গানটির শ্যুটিং হয়েছে থাইল্যান্ডে। গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন ম্যাগি। গানটি গেয়েছেন বি সাউ, রুবাই। সুরকার বি সাউ। এই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করেছেন ঈশান মিত্র। শিলাজিতের ডান্ডা ২.০, সোমলতা আচার্য এবং দুর্নিবার সাহার গাওয়া ‘শোনো গো দখিন হাওয়া’ খুব ভাল লাগবে। কমেডি, রোম্যান্স, ফ্যান্টাসি— সবমিলিয়ে একথায় ভরপুর বিনোদনের রসদ রয়েছে ছবিতে (nari choritro bejay jotil)। প্রযোজনায় অঙ্কুশ হাজরা মোশন পিকচার্স এবং অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড।

Latest article