নয়াদিল্লি: দিল্লি সরকারকে কড়া নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের। গৃহহীনদের অবিলম্বে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় গত এক মাসে দিল্লিতে প্রাণ হারিয়েছেন ২০০-র বেশি লোক৷ এদের বেশির ভাগই ছিলেন আশ্রয়হীন৷ ৩-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় যখন ঘরে হিটার জ্বালিয়ে লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়েও ঠক ঠক করে কাঁপছে সাধারণ মানুষ, সেই সময়ে এই অসহায় দুর্ভাগারা মাথা গোঁজার জন্য সামান্য আশ্রয়স্থল পাননি দেশের রাজধানীর বুকে৷ এর পরেও চোখ খোলেনি বিজেপি শাসিত দিল্লি সরকারের৷ যাদের স্থায়ী কোনও ঠিকানা নেই, সেই সব গরিব হত দরিদ্র সহায় সম্বলহীনরা প্রচণ্ড শীতের রাতে কোথায় মাথা গুঁজবেন তা নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নয় দিল্লি সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকার৷ দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে মাত্র ৩৩২টি রেইন বসেরা বা অস্থায়ী রাত্রিনিবাসের ব্যবস্থা করেছে দিল্লি সরকার৷ সেখানেও প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে লড়াই করার মতো যথোপযুক্ত বন্দোবস্ত নেই৷ তার উপরে জায়গা কম হওয়ায় এক একটি রাত্রি নিবাসে থাকতে পারে বড়জোর ২০-২৫ জন৷ সেই হিসেবে মাত্র ৮৩০০ জনের রাত কাটানোর ব্যবস্থা করেই থেমে গিয়েছে দিল্লি সরকার৷ গোটা বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি কেন্দ্রীয় সরকারও৷
আরও পড়ুন-ট্রাম্পকে রাজি করাল সৌদি, কাতার ও ওমান
গোটা বিষয়ে মারাত্মক ক্ষুব্ধ হয়ে দিল্লি সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারকেও নিশানা করেছে দিল্লি হাইকোর্ট৷ প্রচণ্ড ঠান্ডায় আশ্রয়হীন লোকজন কোথায় মাথা গুঁজবেন? কেন তাদের জন্য উপযুক্ত রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না? নোটিশ জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারের বিস্তারিত জবাব তলব করেছেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ৷ এই ক্ষেত্রে সরকারি উদাসীনতাকে কাঠগড়ায় তুলে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ভগবান না করুন, আমাদের মধ্যে কাউকে যদি ওখানে রাত কাটাতে হয় তাহলে কী হবে আমরা জানি না৷ আপনারা কেন আরও সহানুভূতিশীল হচ্ছেন না? এখানেই না থেমে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হওয়া সহায়-সম্বলহীন ব্যক্তিদের মাথা গোঁজার জন্য অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করারও নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি৷ তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, দরিদ্র নাগরিকদের আশ্রয় এবং তাঁদের সুস্থভাবে জীবন নির্বাহ করার দায়িত্ব থেকে কোনও সরকার পালিয়ে যেতে পারে না।

