প্রতিবেদন : মোদি আসছেন সিঙ্গুরে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতি করতে। গালভরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর বাংলার নামে কুৎসা করতে। প্রধানমন্ত্রী মোদির সেই সিঙ্গুর সফরের প্রাক্কালে তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে (Saket Gokhale) তথ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে বুঝিয়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ফারাক কোথায়। এক্স বার্তায় তিনি স্পষ্ট লেখেন, গুরুত্বপূর্ণ হল দিদি এবং মোদির মধ্যে প্রধান পার্থক্যটা বোঝা। সাম্প্রতিক একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করে তিনি ব্যাখ্যা করলেন মোদির মিথ্যাচার ও ভাঁওতাবাজির রাজনীতি নিয়ে।
সাকেত (Saket Gokhale) লেখেন, আমি অনেকদিন ধরেই এটা লিখতে চাইয়েছিলাম। আজ আমাকে সেই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ। প্রধানমন্ত্রী বাংলার সিঙ্গুরে যাচ্ছেন। এবং সেখানে গিয়ে প্রত্যাশিতভাবেই পুরনো ভাঙা রেকর্ডই তিনি বাজাবেন। বলবেন, কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাটা ন্যানো প্রকল্পের জন্য কৃষকদের জমি জোর করে অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। তারপর মোদির আমন্ত্রণে টাটা ন্যানো গুজরাটে চলে যায়। এবং এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বিপর্যয়কর যানবাহন প্রকল্পে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন- স্মৃতিচারণার মাধ্যমে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর
কিন্তু এখন কথা সেটা নয়। এখানে বোঝা দরকার মোদি আর দিদির ফারাক কোথায়। ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ মোদি গুজরাত ও অসমে টাটার দুটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটের অনুমোদন দেন। এর জন্য মোদি সরকার ৪৪,২০০ কোটি টাকার (জনগণের অর্থ) ভর্তুকি দেয়। এর কিছুদিন পরেই টাটা লোকসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপিকে ৭৫৮ কোটি টাকা অনুদান দেয়। এভাবেই মোদি কাজ করেন। প্রথমে জনগণের কোটি কোটি টাকা কর্পোরেট ভর্তুকি হিসেবে দেন। তারপর দলের তহবিলের জন্য তার বিপুল অংশ লাভ করেন। জনগণের স্বার্থ মোদির কাছে কোনও ম্যাটার করে না। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল টাকা এবং নির্বাচনী তহবিল। আর এটাই হল তার সঙ্গে দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্থক্য।
২০০৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরে কৃষকদের জমি দখলের প্রতিবাদে ২৬ দিনের অনশনে বসেছিলেন। তিনি এটা এই কারণে করেননি যে তিনি কর্পোরেট-বিরোধী ছিলেন। তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বাংলার কৃষক ও দরিদ্র মানুষের অধিকারকে কর্পোরেটদের স্বার্থে বলি দেওয়া উচিত নয়। যখন মমতা দিদি সিঙ্গুরে অনশন করেছিলেন, তখন তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য তথা দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠেনি।
এখানেই পার্থক্য—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অনশন ভাঙার জন্য টাটাদের সঙ্গে কোনও ‘চুক্তি’ করেননি। তিনি দলের তহবিলের জন্য বাংলার মানুষের স্বার্থ বলি দেননি। তিনি অনাহারে থেকে সঠিক এবং সত্যের জন্য লড়াই করেছিলেন। মানুষের স্বার্থ সেখানে রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে বড় ছিল। এবং ঠিক এই ব্যাপারটিই মোদি-শাহ এবং বিজেপি বুঝতে পারে না।
সাকেত এ বিষয়ে পরিষ্কার জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার জন্য বাঁচেন, বাংলার জন্য নিঃশ্বাস নেন এবং বাংলার জন্য লড়াই করেন। অন্যদিকে, মোদি-শাহের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল নির্বাচন। দিদি মানুষের জন্য লড়াই করতে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। মোদি-শাহ সর্বদা নিজেদের স্বার্থে মানুষ ও দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। সুতরাং, মোদি যখন বাংলা থেকে বিদায় নেবেন, তখন এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটি তাঁর মনে রাখা উচিত।
সাফ কথা হল, মোদি-শাহ কখনই বাংলায় জিততে পারবেন না। তার প্রধান কারণ হল তাঁরা নিজেদের নিয়েই ভাবেন, জনগণের কথা ভাবেন না। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় জেতেন। কারণ তাঁর কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ।

