ইন্দোর, ১৭ জানুয়ারি : ড্যারেল মিচেলকে দ্বিতীয় ম্যাচের পর প্রশ্ন করা হয়েছিল, কুলদীপের জন্য আলাদা কোনও পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলেন? জবাব এসেছিল, জাদেজার কথাও বলুন। দু’জনেই ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্পিনার। ওদের নিয়ে কোনও পরিকল্পনা করা যায় না।
মনে হতে পারে এটা বিনয়। বিশেষ করে রাজকোটে মিচেলের ওই মারকাটারি ইনিংসের পর। ইয়ংকে পাশে নিয়ে হেসেখেলে ম্যাচ বের করে নিয়ে গেলেন। আজ ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে একদিনের সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচ। নিউজিল্যান্ড রাজকোটে যা খেলেছে তাতে সিরিজ এখন একসুতোয় ঝুলছে। রবিবার যে কেউ সিরিজের দখল নিতে পারে।
আরও পড়ুন-কসবা এলাকায় বাড়িতে বিস্ফোরণ!
ইন্দোর প্রবাদপ্রতিম সি কে নাইডুর শহর। কিন্তু এভাবে বললে সবটা হবে না। এই শহরের ক্রিকেট লেগাসি সুবিস্তৃত। যাঁর নামে এই স্টেডিয়াম সেই হোলকার ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি। তারপর মুস্তাক আলি। স্টেডিয়াম থেকে মিনিট ১৫ দূরে মুস্তাকের বাড়ি। তিনি অনেক আগেই প্রয়াত। কিন্তু তাঁদের বাড়িতে চার পুরুষের ক্রিকেট বহতা নদীর মতোই প্রবহমান। ছেলে আব্বাস আলি, নাতি, তাঁর ছেলে সবাই ক্রিকেটার।
দাঁড়ান, এখনও একজনের নাম বলা হয়নি। নরেন্দ্র হিরওয়ানি। এখানেই তাঁর বাড়ি। সেখানে রাজস্থানের কোটা থেকে পাথর এনে নিজের অ্যাকাডেমিতে বসিয়েছেন। স্পিনারদের বলেন, যা গিয়ে বল ঘুরিয়ে আয়। হিরু বিশ্বাস করেন স্পিনারকে টার্নিং পিচে যেমন বল করতে হবে, তেমনই সিমেন্টের উইকেটেও। এখানকার ক্রিকেট এটা আছে। মুম্বইয়ে যাকে খারুশ বলে। এখানেও তাই। লড়ে জিততে হবে ভাই। না হলে হিরওয়ানি ছাত্রদের বলবেন কেন, যা সিমেন্টে বল ঘুরিয়ে আয়।
তার মানে অবশ্য এমন নয় যে কাল এই উইকেটে বল অনেকটা ঘুরবে। বরং উল্টোটাই হবে। এটা রানের উইকেটে। একবার জমে গেলে ব্যাটাররা রান করেই ফেরে। মিচেল তাহলে কি আর একটা মৃগয়াক্ষেত্রে সামনে পাচ্ছেন। হ্যাঁ কিনা বলতে হলে অপেক্ষা করতে হবে। মহম্মদ সিরাজ শনিবার বলছিলেন, মিচেলের ক্যাচ ফেলাটাই সেদিন খুব দামি হয়ে গেল। ওকে তাড়াতাড়ি ফেরাতে হবে। গাভাসকর আবার বলেছিলেন, তিনি ভাবতে পারেননি ওরা রাজকোটে ২৮৪ রান তাড়া করে তুলে দেবে। তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এর থেকে বড় কমপ্লিমেন্ট সফরকারীদের জন্য আর কী হতে পারে।
জাদেজার অফ ফর্ম নিয়ে প্রচুর চর্চা হচ্ছে। আগের ম্যাচে তিনি গোটা চল্লিশেক বল খেলে ২৭ রান করেন। ফলে অক্ষরকে ফেরানোর দাবি উঠছে। সেটা এখন সম্ভব নয়। কিন্তু কুলদীপও ফর্মে নেই। এরমধ্যে নীতীশ রেড্ডিকে নিয়ে সহকারী কোচ বলে দিয়েছেন, কিচ্ছু হচ্ছে না। নীতিশকে রবিবার হয়তো বসতে হতে পারে। অর্শদীপকে প্রথম দুই ম্যাচে খেলানো হয়নি। যা নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে প্রাক্তনদের মধ্যে। তবু নীতীশ হয়তো টিকে যাবেন। তবে আজ যদি পাঞ্জাবের বাঁ হাতিকে খেলতে দেখা যায়, তাহলে আশ্চর্যের কিছু নেই। অর্শদীপ দলে এলে হয়তো বসতে হবে প্রসিধ কৃষ্ণকে।

