অগ্নিসুরক্ষা বিধির শর্ত ছিল রেস্তোরাঁর উপরে কোনও আচ্ছাদন দেওয়া যাবে না এবং ছাদের বেশির ভাগ খোলা রাখতে হবে। কিন্তু কলকাতা পুরসভা (KMC), পুলিশ ও দমকলের অফিসাররা জানিয়েছেন কলকাতার ৮৩টি রুফটপ রেস্তোরাঁর মধ্যে ২৭টি রুফটপ রেস্তোরাঁ ওই শর্ত মানছে না। দেখা গিয়েছে, কয়েকটি রেস্তোরাঁ ছাদে আগুন জ্বালাচ্ছে, ছাদে গ্যাস সিলিন্ডার রাখছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর ওই সব রেস্তোরাঁকে চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠানো হবে। অগ্নিসুরক্ষা বিধি না মানলে রেস্তোরাঁগুলো ফের বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে অগ্নিসুরক্ষা কমিটি বলেও জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন-নাইট ড্রপ নিয়ে উদ্যোগী বিধাননগর কমিশনারেট
দমকল, পুরসভা ও কলকাতা পুলিশকে নিয়ে গঠিত অগ্নিসুরক্ষা কমিটির সদস্যদের একটি দল কলকাতার রুফটপ রেস্তোরাঁগুলো অগ্নিসুরক্ষা বিধি খতিয়ে দেখতে গত ডিসেম্বরে শহরের একাধিক রুফটপ রেস্তোরাঁ পরিদর্শনে গিয়েছিল। প্রায় ২৭টি রুফটপ রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন রকম সমস্যা প্রকাশ্যে আসে। রেস্তোরাঁগুলো চৌরঙ্গি, শেক্সপিয়র সরণি, ক্যামাক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট এলাকায় এবং দেখা গিয়েছে তারা অগ্নিসুরক্ষা বিধির শর্ত মানছে না। শর্ত না–মানা রুফটপ রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই বিষয়ে কমিটি ফের আলোচনায় বসবে। শর্ত মানার জন্য তাঁদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপরেও রুফটপ রেস্তোরাঁ শর্ত না মানলে সেগুলো ফের বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন-বলছে ঝুট করছে লুঠ, মিথ্যার জমিদারি মোদির
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল বড়বাজারের মেছুয়ার ফলপট্টির একটি হোটেলে আগুন লেগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। দমবন্ধ হয়ে তাঁরা মারা যান। এই ঘটনার পরেই কলকাতা পুরসভা শহরের ৮৩ টি রুফটপ রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ওই রুফটপ রেস্তোরাঁগুলো খোলার প্রক্রিয়া আবার শুরু হয় তবে কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। রুফটপ রেস্তোরাঁর মালিকরা শর্তগুলো মেনে চলবেন বলে হলফনামা দিয়ে জানান আর তারপরে রেস্তোরাঁ খোলার অনুমতি দেওয়া হয়।

