লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে, নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির মান্যতাতে এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া তথ্যের পাল্টা রিসিপ্ট কপি দেওয়ারও নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত।

Must read

নির্বাচন কমিশনের (Election commission) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হলেও প্রকাশ করতে হবে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় আসা ১.৩৬ কোটি মানুষের তালিকা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবি কমিশনের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিকবার জানিয়েছিলেন, সেই দাবিতেই মান্যতা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির মান্যতাতে এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া তথ্যের পাল্টা রিসিপ্ট কপি দেওয়ারও নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন-লিভইন পার্টনারকে খুন করে দেহ ট্রাঙ্কে ভরার অভিযোগ অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীর বিরুদ্ধে

সোমবার এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে কার্যত নির্বাচন কমিশন যেভাবে হয়রান করছিল বাংলার মানুষকে সেই পথে বাধ সাধল সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পর্যবেক্ষণে জানান, মূলত তিনটি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ম্যাপড – ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে। দ্বিতীয়ত, আনম্যাপড – ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম নেই। তৃতীয়ত, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি – যার আওতায় সর্বাধিক ১.৩৬ কোটি মানুষের নাম রয়েছে। এতদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের ধাঁধাঁ তৈরি করা যে তালিকার কথা বারবার তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছিলেন, সেই তালিকা নিয়েই উদ্বোগ প্রকাশ শীর্ষ আদালতের।

এরপরই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ, গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন ও সব তালুকের ব্লক অফিসগুলিতে, মহকুমা অফিস, শহরের ওয়ার্ড অফিসে সেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা টাঙাতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তার ১০ দিনের মধ্যে শুনানি হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের।

আরও পড়ুন-SIR শুনানি আতঙ্কে আত্মঘাতী: চার মৃত্যু রাজ্যে

নির্বাচন কমিশনের সিইসি-কে যে দাবি জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানিতে বিএলএ-দের উপস্থিতি নিয়ে তা নিয়েও পর্যবেক্ষণে জানায় সুপ্রিম কোর্ট। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অশান্তি হতে পারে। ফলে ভোটার নিজের সঙ্গে যে কোনও অনুমোদিত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে পারেন। সেই ব্যক্তি বিএলএ হতে পারেন। তবে তাঁকে ভোটারই নির্বাচন করবেন।

শুনানি নিয়ে বাংলার মানুষ দূর দূরান্ত থেকে আসার হয়রানি নিয়ে বারবার অভিযোগ করেছেন। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর বেঞ্চের নির্দেশ, শুনানি বিডিও অফিসের পাশাপাশি পঞ্চায়েত দফতরে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। এর ফলে বাংলার মানুষের শুনানির হয়রানি কিছুটা লাঘব হবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন-”আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব”: সুপ্রিম নির্দেশ নিয়ে হুঙ্কার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত শুনানির নির্দেশ জারি করার পাশাপাশি সেই গোটা ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য রাজ্য সরকারকে যথেষ্ট সরকারি কর্মী সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কর্মীর ক্ষেত্রে যে প্রতিটি জেলা নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশ পালন করে কাজকরে। সেই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গোটা প্রক্রিয়ায় কোনওভাবে যাতে অশান্তির পরিবেশ তৈরি না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ও আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা রক্ষার।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনে বারবার দাবি জানিয়েছিল অসুস্থ ও পরিযায়ী বা দেশের বাইরে বসবাসকারীদের শুনানির জন্য অতিরিক্ত দিন নির্ধারণ ও অনলাইন শুনানির জন্য। কমিশন সেই দাবি মেনে পরিযায়ীদের জন্য নিয়ম শিঁথিল করলেও বহু অসুস্থ মানুষকে হয়রান হতে দেখা যায় বাংলা জুড়ে। সেই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ একজন ব্যাক্তির নথি খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট না হলে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরবর্তী শুনানির সুযোগ দিতে হবে।

এদিনের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী আইনজীবী কপিল সিবল জমা দেওয়া নথির পাল্টা রিসিপ্ট দেওয়ার দাবি জানান, সেই দাবিতে মান্যতা দিয়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, জমা দেওয়া নথি বা শুননি হওয়ার পর রিসিপ্ট দিতে হবে আধিকারিকদের।

এদিন বিএলও-দের উপর হামলা বা বিএলও-দের অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়গুলির শুনানি নিয়ে মত প্রকাশ করেনি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। পরবর্তী শুনানির দিন এই বিষয়গুলির শুনানি হবে বলে জানানো হয়।

Latest article