নন্দীগ্রামে (Nandiagram) সমবায় নির্বাচনে বড় ধাক্কা। রবিবার নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের আমদাবাদ সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের নির্বাচনে ১২-০ ব্যবধানে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে তৃণমূল। আর তার পরদিনই প্রকাশ্যে আদি-নব্য কোন্দল। কালীচরণপুর ও সোনাচূড়ায় বিজেপির প্রচার ট্যাবলো থেকে দলের কর্মীরাই খুলে নিলেন ব্যানার, পোস্টার, সাউন্ড সিস্টেম। আর সেই ভিডিও পোস্ট করে তীব্র কটক্ষ করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। লেখেন, “আদি বিজেপিদের আপত্তিতে তৎকাল বিজেপির প্রচার বন্ধের পর অটোর সব প্রচারসামগ্রী খুলে প্রচারের ইতি।”
বহুদিন ধরেই আদি-নব্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার পদ্ম-শিবির। বহুবার শিরোনামে উঠে এসেছে নব্য বিজেপির কিছু সদস্যের আদি বিজেপি (BJP) কর্মীদের মারধর ও হেনস্থার অভিযোগ। বিজেপির অন্তর্কলহ একাধিকবার সামনে এসেছে। বেশ কয়েক বছর আগে জেলা কার্যালয়ের মধ্যে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। সেই সময়ে পার্টি অফিসের সামনে রাখা কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের জুলাই মাসে কার্যালয়ের সামনে দু’পক্ষের বিবাদের ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আদি বিজেপি নেতা কেশব কোঙার সেই সময়ে অভিযোগ করেছিলেন আদালত নির্দেশ দেওয়ার পরেও পুলিশ কারও বিরুদ্ধে নাকি ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
আরও পড়ুন-লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে, নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
এর মাঝেই সোমবার নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ভিডিও প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ নন্দীগ্রামে বিজেপির আদি নব্য দ্বন্দ্ব তুলে ধরেন। লেখেন, ”নন্দীগ্রাম সোনাচূড়া। আদি বিজেপিদের আপত্তিতে তৎকাল বিজেপির প্রচার বন্ধের পর অটোর সব প্রচারসামগ্রী খুলে প্রচারের ইতি। বিজেপির গোষ্ঠীলড়াই প্রকাশ্যে। নন্দীগ্রাম কালীচরণপুর ও সোনাচূড়া। আজ সোমবার সকালে। আদি বিজেপিরা তৎকাল বিজেপির প্রচার আটকে চূড়ান্ত ক্ষোভ জানাচ্ছে। বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ওখানে তীব্র। পঞ্চায়েত ভোটে জেলা পরিষদ আসনে (কারণ ওটা বিধানসভার সমতুল)
@AITCofficial তৃণমূলের যে ১০,৪০০+ লিড ছিল, সেটা বাড়ানোর সুযোগ আছে এবার।”
আরও পড়ুন-”আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব”: সুপ্রিম নির্দেশ নিয়ে হুঙ্কার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই নন্দীগ্রামে ফের বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যায়। কম্বল দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই নেতার মধ্যেই প্রথমে বচসা শুরু হয় তারপর সেটা হাতাহাতির পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়। সেদিনের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন দুই বিজেপি নেতা। রাজনৈতিক মহলের দাবি বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে গোষ্ঠী সংঘর্ষে জর্জরিত বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রামের আদি বিজেপি নেতারা মানতে নারাজ। এদিকে দিলীপ ঘোষ সক্রিয় হতেই আদি বিজেপি নেতারা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এর ফলে প্রায় প্রতিদিন আদি এবং নব্য বিজেপি নেতারা নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন।

