গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসি (Messi) ইভেন্টে চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে, এই ঘটনার ছেড়ে গ্রেফতার করা হয় ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। অবশেষে ৩৭ দিন পরে এই মামলায় জামিন পেলেন শতদ্রু।
সোমবার বিধাননগর আদালতে জামিনের আবেদন করেন শতদ্রু। বিচারক তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন। দশ টাকার ব্যক্তিগত দুটি বন্ডে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম তিনি প্রয়োজনীয় অনুমতি না নিয়ে বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না। তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে।
আরও পড়ুন-উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে দোষী কুলদীপের আর্জি খারিজ হাইকোর্টে
বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে, আয়োজক শতদ্রু দত্তর আইনজীবী দ্যুতিময় ভট্টাচার্য জামিনের পক্ষে সওয়াল করে বলেছিলেন, তাঁর মক্কেলকে এই মামলায় অন্যায়ভাবে অপরাধী করা হয়। তিনি ইভেন্ট ম্যানেজার। তিনি কেন দায়বদ্ধ হবেন? আগেও তিনি অনেককে এনেছেন। মেসির কাছে তাঁর নাম খারাপ হয়েছে।
গত বছরের১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির গোট কনসার্ট ছিল। সেখানে মেসি ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সুয়ারেজ এবং ডিপল কিন্তু মেসি মাঠে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে ধরেন কয়েক-শো মানুষ। এর জেরে গ্যালারি থেকে মেসিকে এক ঝলক দেখা যায়নি। যেভাবে মাঠে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে তাতে বেশিক্ষণ যুবভারতীতে ছিলেন না মেসি এর দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন গ্যালারি ভাঙচুর করেন।
এরপরই বিমানবন্দর থেকে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়।বিধাননগর দক্ষিণ থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। অশান্তি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২, ৩২৪ (৪)(৫), ৩২৬ (৫), ১৩২, ১২১ (২), ৪৫, ৪৬ এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপ ছড়ানোর ও জনগনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে তিনবার তাঁর জামিনের আবেদন নাকোচ করে দেওয়া হয়। অবশেষে জামিন মিলল শতদ্রুর।
আরও পড়ুন-”আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব”: সুপ্রিম নির্দেশ নিয়ে হুঙ্কার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
প্রায় ৩৪,৫৭৬ জন দর্শক ১৯ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের টিকিট কেটেছিলেন। বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। অভিযুক্ত যে প্রভাবশালী ব্যক্তি, সেটা তাঁর কার্যকলাপ থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। কাণ্ডে সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। তারা গোটা ঘটনা তদন্ত করছে। কলকাতায় ইভেন্টে বিশৃঙ্খলা হলেও হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং মুম্বইতে সাবলীলভাবেই গোটা অনুষ্ঠান হয়।

