এবার কোর্টের নির্দেশ পালন করুক কমিশন : তৃণমূল

নির্বাচন কমিশনকে এবার অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতে হবে। এটাই তৃণমূলের বড় জয়। সর্বোচ্চ আদালতকে এর জন্য জানাই ধন্যবাদ।

Must read

প্রতিবেদন : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলছিলেন, এবার তাঁদের সেই দাবিকেই মান্যতা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। এদিন এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে, বিএলএদের শুনানিতে থাকতে দিতে হবে। তৃণমূলের এমন অধিকাংশ দাবিতেই এদিন মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ে প্রমাণিত, বাংলার মানুষের স্বার্থে এতদিন তৃণমূল যা বলছিল তার সবটাই ঠিক। নির্বাচন কমিশনকে এবার অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতে হবে। এটাই তৃণমূলের বড় জয়। সর্বোচ্চ আদালতকে এর জন্য জানাই ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন-সার-শুনানিতে ডাক নেতাজি-পরিবারেরও

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিন এই ভাবেই আদালতে দলের জয়ের ব্যাখ্যা দিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম নির্বাচন কমিশনের স্বৈরাচারী মনোভাব ও বিজেপির দলদাস হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, সোচ্চার হয়েছিলেন। এরপর আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ১০ জন প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সাধারণ মানুষের হেনস্থা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও তাঁরই নির্দেশে আমরা কম করে সাত থেকে আটবার সিইও দফতরে গিয়েছি এই দাবিগুলি নিয়ে। আজ আমরা দেশের শীর্ষ আদালতকে ধন্যবাদ জানাই, কুর্নিশ জানাই বাংলার সাধারণ মানুষের স্বার্থে তৃণমূলের এই আবেদনগুলি মেনে নেওয়ার জন্য। কমিশনের ইচ্ছেমতো জায়গায় শুনানি করা যাবে না। প্রয়োজনে শুনানি ফের প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। এই রায়েই প্রমাণিত বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমরা সঠিক দাবি জানিয়েছিলাম।
মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, আমরা যে-যে দাবিগুলি করেছিলাম, তার প্রত্যেকটি নির্বাচন কমিশনকে পালন করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আজ বারাসতে আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় তাঁর বক্তব্যের মাঝেই আজ এই খবরটি আমাদের দেন। তিনি আজ বলেছেন, যে যা ভাষা বোঝে, তাকে সেই ভাষাতেই উত্তর দেওয়া উচিত। আমাদের নেত্রী নির্বাচন কমিশনারকে তিন, চারবার চিঠি দিলেন, গত ৩১ জানুয়ারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ১০ জন প্রতিনিধি নিয়ে কমিশনে গেলেন। আমরা সকলে বললাম, এই-এই দাবিগুলি মেনে নিন, কিন্তু তাঁরা সেটা শুনলেন না। আজ সুপ্রিম কোর্ট পয়েন্ট ধরে-ধরে তৃণমূলের প্রতিটি দাবি মেনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশনকে। আমাদের দাবি, শীর্ষ আদালতের এই রায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও সিইও দফতরের সামনে টাঙিয়ে দেওয়া হোক। কারণ, তাঁরা এই ভাষাটাই বোঝেন।

আরও পড়ুন-বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে! কটাক্ষ কুণাল ঘোষের

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আজকে যে রায় দিয়েছে, তাতে এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে তৃণমূল কংগ্রেস ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবিগুলি তুলেছিলেন, তার সবগুলিই ছিল সঠিক। আজ সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবিগুলিতেই মান্যতা দিয়েছে। প্রথমত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বিজেপির নির্দেশে এখন আর কাউকে যখন তখন শুনানিতে ডাকা যাবে না। শুনানির পুরো তালিকা প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিএলএদের শুনানিতে থাকতে দিতে হবে। ভোটের সময় যদি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বুথে থাকতে পারে, তারা বিএলওদের সঙ্গে থাকতে পারে, তাহলে কেন শুনানিতে তারা থাকতে পারবে না?

Latest article