ফের নারী নির্যাতনের ঘটনায় উত্তাল ডবল ইঞ্জিন রাজ্য ছত্রিশগড়। এবার খোদ পুলিশের জরুরি পরিষেবা ‘ডায়াল ১১২’-র গাড়ির চালক ও তাঁর চার সঙ্গীর বিরুদ্ধে ১৯ বছরের এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। কোরবা জেলার এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চালক-সহ দু’জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকি তিন জন এখনও পলাতক।
আরও পড়ুন-রাজ্যের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে ঝাড়গ্রামে হল জনসংযোগ অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮ জানুয়ারি রাতে বাঁকিমংরা থানা এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে একজন ওই তরুণীর পূর্ব পরিচিত ছিল। অভিযোগ, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ফোন করে ওই রাতে তরুণীকে ডেকে নেয় সে। এরপর তাঁকে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পুলিশের জরুরি পরিষেবার গাড়ির চালক এবং আরও চার জন মিলে তরুণীকে পালা করে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ধর্ষণের পর তরুণীকে অচৈতন্য অবস্থায় সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। জ্ঞান ফেরার পর কোনও ক্রমে বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের লোকেদের সব কথা জানান তিনি। তাঁকে দ্রুত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার প্রথমে সিভিল লাইন্স থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়েছিল। পরে মামলাটি বাঁকিমংরা থানায় পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন-গিরিরাজকে পালটা তৃণমূলের
কোরবার পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ তিওয়ারি জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে একজন ‘ডায়াল ১১২’ পরিষেবার বেসরকারি চালক। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির নাম জড়ানোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাকি তিন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। বিরোধীরাও এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে শাসক শিবিরকে বিঁধতে শুরু করেছে। খোদ পুলিশের সাহায্যকারী গাড়ির চালকের হাতে তরুণী নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

