তৃণমূলের গড় বলে পরিচিত বীরভূমে দাঁড়িয়ে নতুন টার্গেট বেঁধে দিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek banerjee)। পুরোনো পরিসংখ্যান মনে করানোর পাশাপাশি বর্তমানেও বীরভূমের মানুষের অগাধ ভরসা-ভালোবাসার প্রতি আস্থা রাখার পাশাপাশি বীরভূমের বিজেপি নেতাদের কীর্তির কথা ফাঁস করলেন অভিষেক। বিজেপি যে শুধু বীরভূমকে বঞ্চনাই করেনি, বীরভূমের গর্ব শান্তিনিকেতনকেও কলুষিত করার চেষ্টা করে গিয়েছে। রামপুরহাটের সভায় দাঁড়িয়ে তাই সেই ষড়যন্ত্রকারীদের পরাস্ত করে ১১-০ তৃণমূলের পক্ষে করার ডাক দিলেন অভিষেক। সেই সঙ্গে প্রতি বুথের জন্য নির্দিষ্ট টার্গেট বেঁধে দিলেন।
সভায় পৌঁছে বীরভূমের মানুষের তৃণমূলের প্রতি আস্থার কথা তুলে ধরে অভিষেক জানান, ১২ কিমি জুড়ে রাস্তার দুধারে মানুষের জমায়েত। আমি তাঁদের কাছে চিরঋণী। আগামী দিন আপনাদের অনুরোধ করতে এসেছি – গত নির্বাচনে ১১টি আসনের মধ্যে বীরভূমের মানুষ দুহাত তুলে আশীর্বাদ করে যে অবদান রেখেছে কার্যত অনস্বীকার্য। ২০২৬-এ চতুর্থবার মা-মাটি-মানুষের সরকার হবে। কিন্তু এবার ১০ নয় ১১-০ তৃণমূলের পক্ষে বীরভূমের মানুষকে করতে হবে।
বীরভূমকে বিরোধী শূন্য করার জন্য বিজেপির যে ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেন অভিষেক তাতে স্পষ্ট করে বলেন, যে ষড়যন্ত্র বিজেপির নেতারা করেছে, বীরভূমের মানুষ ২০২৪ সালের লোকসভায় দুটো আসন থেকে যে ব্যবধানে তৃণমূলের প্রার্থীদের জিতিয়েছেন, আপনারা প্রমাণ করেছেন, বাংলা-বিরোধীদের, ষড়যন্চ্র কারীদের এই পবিত্র মাটিতে কোনও জায়গা নেই।
আরও পড়ুন- নোবেলজয়ী অমর্ত্যকে SIR নোটিশ, তালিকায় দেব থেকে শামি! কমিশন-বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ অভিষেকের
এই জেলার যে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান অভিষেক (Abhishek banerjee), রামপুরহাটের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই বিজেপি নেতাদের কীর্তিও ফাঁস করেন তিনি। নাম ধরে ধরে অভিষেক জানান, বীরভূম জেলায় বিজেপির যে নেতারা রয়েছে – ধ্রুব সাহা চিটফান্ড কেসে অভিযুক্ত। যত কম বলা যায় তত ভালো। সুনীল সোরেন, বিজেপির এসটি সেলের সভাপতি ছিল। তিনি একজন মহিলাকে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ করে জেলে বন্দি ছিলেন। আগের জেলা সভাপতি ছিলেন সন্ন্যাসীচরণ মণ্ডল। তার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ বিজেপির কর্মীরা তুলেছে। রাজ্য কমিটির সদস্য জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির কর্মীরা লিখিতভাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে বলছেন সিউড়িতে প্রচুর সম্পত্তি করেছে। কলকাতায় রাজারহাট নিউটাউনে ফ্ল্যাট কিনেছে। আমি বলছি না, বিজেপির কর্মীরা বলছে।
যে বিজেপি মাঠে নেই তাদের বিরুদ্ধে বীরভূমের তৃণমূল নেতাকর্মীদের লড়াইয়ের ডাক দিয়ে অভিষেক জানান, আমি আপনাদের সঙ্গে আবার খুব শীঘ্র মিলিত হব। কথা দিয়ে যাচ্ছি ফেব্রুয়ারি মাসে আবার বীরভূম জেলায় আসব, অন্য বিধানসভায় যাব। যেখানে আপনারা আমাকে যেতে বলব, আমি যাব, ঢুকব। দরকার হলে মিছিলে হাঁটব, সর্বস্তরের কর্মীদের সঙ্গে যাব, পাড়ায় ঢুকব, বাড়িতে যাব। কিন্তু এমনভাবে লড়াই করতে হবে এক ছটাক জমি বিজেপিকে ছাড়া চলবে না। আমাদের লোকসভায় যে ফল ছিল, সকলকে বলব যে বুথে তৃণমূলের ৫০ ভোটে লিড ছিল ৫১ ভোট করতে হবে। যে বুথে ১০০ ছিল ১১০ করতে হবে। যে বুথে ৩০০ ছিল ৪০০ করতে হবে। এই বিজেপিকে এমনভাবে জবাব দিতে হবে যে – পাপের ঘড়া পূর্ণ, আগামীদিন এই বীরভূমের মাটিতে বিজেপি শূন্য। এই অঙ্গীকার এই সভা থেকে নিতে হবে।

