মৌসুমী হাইত, মেদিনীপুর: সংগ্রামের মাটি মেদিনীপুর। বীর বিপ্লবীদের মাটি মেদিনীপুর। সেই মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাবিরোধী বিজেপি আর হার্মাদ সিপিএমকে একসূত্রে বেঁধে তীব্র আক্রমণে বিঁধলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মেদিনীপুরে রণসংকল্প সভা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে ১৫-০ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেকের কথায়, এবার আর ১৩-২ কিংবা ১২-৩ নয়, একেবারে ১৫-০ করতে হবে। যে-ক’টা হার্মাদ বেঁচে রয়েছে, ঝেঁটিয়ে সাফ করতে হবে! মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রক্তে ভেজা মাটিকে সম্মান জানিয়ে এদিন বাম হার্মাদদের অত্যাচারের কথা মনে করিয়ে দেন অভিষেক। নাম করে করে বাম-রাম নেতাদের কেচ্ছা-কুকীর্তি তুলে ধরেন। তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, বিজেপির মেদিনীপুর মডেল হল— নিচে সিপিএমের হার্মাদ, উপরে বিজেপির গদ্দার। যারা একসময় ছিল সিপিএমের হার্মাদ, তাঁরাই এখন বিজেপির জল্লাদ! বোতল পাল্টেছে, মদটা একই আছে!শুক্রবার মেদিনীপুর শহরের কলেজ মাঠে রণসংকল্প সভামঞ্চেও নির্বাচন কমিশনের চোখে তিন ‘ভূত’কে হাজির করেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর কটাক্ষ, ভ্যানিশ কুমারের ছানির অপারেশনের জন্য বাংলায় নতুন প্রকল্প চালু করতে হবে— ‘ছানিশ্রী’! এসআইআরের আড়ালে বৈধ ভোটারদের নাম বাদের চক্রান্তের পাশাপাশি শুনানিতে ডেকে অসুস্থ-প্রবীণদের হেনস্থা, মানুষের মৃত্যু ও অতিরিক্ত কাজের চাপে বিএলওদের মৃত্যু-আত্মহত্যা নিয়েও বিজেপি-কমিশনকে তোপ দাগেন অভিষেক। বলেন, ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল কাল। যেহেতু বিজেপি সময়মতো ফর্ম জমা দিতে পারেনি, তাই সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। তৃণমূলের বুথকর্মীদের জন্য অভিষেকের নির্দেশ, প্রত্যেক ইআরও-এইআরও অফিসের বাইরে তৃণমূল কর্মীরা থাকবে। ১৬ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত কোনও বিজেপি নেতা ইআরও অফিসে ১০টার বেশি ফর্ম দিতে গেলেই ভদ্রভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজেও শুনিয়ে দেবেন। আর ভোটের সময় অতন্দ্রপ্রহরীর মতো রক্ত দিয়ে বুথ রক্ষা করতে হবে। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর মিলিয়ে ১৯-০ করতে হবে। শালীনতার গণ্ডির মধ্যে থেকে বুক চিতিয়ে লড়াই করবেন, আমি পাশে আছি!
আরও পড়ুন- ২১ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন: নিপা ভাইরাস প্রতিরোধ-চিকিৎসায় গাইডলাইন প্রকাশ স্বাস্থ্য দফতরের

