পরীক্ষা একদম দোরগোড়ায়, যাকে বলে শিয়রে সংক্রান্তি। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, আইসিএসসি, সিবিএসসি একের পর এক বোর্ডের পরীক্ষা। ঘাড় ঘোরানোর সময় নেই ছিটেফোঁটা। শেষ মুহূর্তের বড় প্রস্তুতি। এই সময় মায়েদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সন্তানের আশপাশে তাঁদেরই চব্বিশ ঘণ্টার আনাগোনা। পড়ুয়ার শরীরের যত্ন নেওয়া এবং পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া দেওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম যাতে হয় তা দেখা সেই সঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিভিন্নভাবে সাহায্য করা যাতে সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই গুরত্বপূর্ণ ধাপটা পেরিয়ে যেতে পারে। এই সময় কীভাবে সামাল দেবেন সবটা যাতে সন্তান পরীক্ষা দেবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে?
আরও পড়ুন-দিনের কবিতা
সিলেবাস শেষ করানো
এখন স্কুলের সিলেবাস সব শেষ।। অথচ বাড়িতে কিন্তু অনেক পড়ুয়ারই সিলেবাস সম্পূর্ণ হয়নি বা গৃহশিক্ষক, কোচিং সেন্টারে সিলেবাস শেষ হয়নি। তাই সবার আগে সন্তানের পরীক্ষার সিলেবাস শেষ হয়েছে কি না তা দেখে নিন। সে এখন প্রস্তুতির ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। কোন কোন বিষয়ে সমস্যা রয়েছে। কারণ হাতে সময় খুব কম। যদি এক বা একাধিক বিষয়ে সমস্যা রয়েছে বলে মনে হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গৃহশিক্ষক বা শিক্ষিকা যাঁরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। ওই বিষয়গুলোতে যেন একটু জোর দেন তাঁরা। এবার সমস্যাগুলো আলোচনা করে একটা তালিকা করে ফেলুন। দশ বছরের প্রশ্নোত্তর খুলে কী কী প্রশ্ন সেইসব বিষয়ে এসেছে এবং তার মধ্যে ক’টা পারছে দেখুন। পরীক্ষা দেওয়ানোতে যেমন প্রাকটিস হয় আবার অনেক সময় বই খুলে উত্তর খুঁজে লিখলেও প্র্যাকটিস হয়ে যায়। তাই দরকারে বই খুলেই উত্তর লেখা অভ্যেস করান।
মনঃসংযোগের অভাব নেই তো
এই সময় মনঃসংযোগ খুব জরুরি তার জন্য মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপাতত বেরতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু সন্তানকে বারণ করলেই হবে না মা-বাবাকেও সংযত এবং সতর্ক হতে হবে। মনঃসংযোগে কোনও অসুবিধে নেই তো! দরকারে কাউন্সেলিং করানো যেতে পারে। পড়তে পড়তে একবার ব্রেক নেওয়া যেতেই পারে কিন্তু বেশিবার নয়। একটানা পড়লে মনে রাখা সহজ হয়।
সন্তানের নেওয়ার ক্ষমতা বুঝুন
সন্তানের ক্যাপাসিটি বা নেওয়ার ক্ষমতা বুঝুন। সবার বুদ্ধি, মেধা সমান হয় না। তার অর্থ এই নয় যে যার মেধা কম সে খারাপ। পরীক্ষা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত প্রত্যাশা রাখবেন না। ভাল ফল করার জন্য চাপ দিতে থাকলে তার অ্যাংজাইটি বাড়বে যার ফল খারাপই হবে। উৎসাহ দিন এই বলে যে সে যেটুকু সৎভাবে পরিশ্রম করছে সেটাই বড়কথা। ভাল ছাত্রের তুলনা আনবেন না কখনওই।
এগজাম অ্যাংজাইটি
মাঝরাতে ঘুম থেকে ধড়ফড় করে উঠে বসা, বমি-বমি ভাব, বারবার পড়া সত্ত্বেও কিছুই মনে না থাকা, দুঃস্বপ্ন, উদ্বেগ-বাড়া পরীক্ষার আগে— এগুলো কি হচ্ছে আপনার সন্তানের? তা হলে এটা এগজাম অ্যাংজাইটি ছাড়া আর কিছু নয়। পরীক্ষার আগে অনেকেই এই আতঙ্কে ভোগে। টেনশনে নাওয়া-খাওয়া ভুলে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অতিরিক্ত পরীক্ষা-ভীতি থেকে ‘অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার’ দেখা দিতে পারে। এতে হিতে বিপরীত হয়। মনের পাশাপাশি, শরীরেও বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দেয়। তাই পরীক্ষার আগে সন্তানের সঙ্গে একটু খুলে কথা বলুন। দরকারে অন্যকিছুতে একটু মনোনিবেশ করা যেতেই পারে। তার আত্মবিশ্বাস বাড়ান। কারণ নম্বর নয় পরিশ্রমটাই আসল। মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি।
অঙ্কের ভীতি কাটাতে
অঙ্ক মানেই সারা শরীরে কাঁপুনি। অঙ্ক ভয় পায় মেধাবীরাও। এই ভীতি কাটানোর একমাত্র পথ ক্রমাগত অভ্যাস করানো। স্কুলের পড়ানো বা গৃহশিক্ষকের উপর শুধু নির্ভর করে থাকবেন না। প্রয়োজন হলে আপনিও বাড়িতে পরীক্ষা নিন। অঙ্ক নিয়ে জ্ঞান তেমন না থাকলেও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ধরে পরীক্ষা তো নিতে পারেন তারপর খাতা গৃহশিক্ষককে দেখান। কী কী ভুল হচ্ছে দেখে বারবার সেগুলো অভ্যেস করালে সেই বিষয়ের ভীতি তো কাটবেই। অঙ্কের পার্টেও নম্বর পাওয়া যায় তাই অভ্যাসে যতটা সম্ভব ধাপগুলোর অ্যাকিউরেট যেন হয় দেখে নিন।
হঠাৎ চাপ দিতে শুরু করবেন না
সারাবছর পড়াশুনোয় ফাঁকি দিয়ে স্টেজে মারা যায় না। তাই যদি আপনার সন্তান সারাবছর গা-ছাড়া দিয়েছে বলে মনে হয় এখন আর টেনশন করে বা তাকে চাপ দিয়ে লাভ হবে না। আসলে পড়তে সবাই ভালবাসে না। হয়তো আপনার সন্তানের অন্য কোনও গুণ রয়েছে। হঠাৎ চাপ দিলে হিতে বিপরীত হবে। পরীক্ষা তো দিতেই হবে তাই হঠাৎ চাপ— এক্ষেত্রে চেষ্টা করুন বেশ কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র দেখে সাজেশন তৈরি করে পড়তে বলুন। এছাড়া ইমর্ট্যান্ট চ্যাপ্টারগুলো আগে ধরতে বলুন। তাতে লাভ বেশি হবে। একটা কথা মনে রাখবেন পরীক্ষায় যদি পাঁচটা প্রশ্নের উত্তরও নির্ভুল হয় নম্বর আসবে। যে চ্যাপ্টার একটু হাতের বাইরে মনে হচ্ছে সেটা এখন থাক।
ঘড়ি ধরে লেখার অভ্যেস
পরীক্ষার আগে ঘড়ি ধরে লেখার অভ্যাস জরুরি। সেই জন্য পেপার সলভ করান ঘড়ি ধরে। এতেই পরীক্ষা দিতে বসে ভয় কেটে যাবে। পড়ার সময়ও লিখে লিখে অভ্যেস করতে বলুন। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট একজায়গায় করে রাখলে রিভিশনের সময় দেখলে একবারেই মনে পড়বে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন এতে প্রস্তুতি আরও পোক্ত হবে।
মুখে মুখে ঝালিয়ে দিন
কাজের ফাঁকফোকরে সন্তানকে মুখে মুখে পড়া ঝালিয়ে নিতে সাহায্য করুন। অনেক সময় মুখে বলে বলে পড়লে পড়া অনেক বেশি মনে বসে। অনেকক্ষণ তা স্মৃতিতে থাকে। তাই একটু মুখে আউড়ে পড়তে বলুন এবং আপনি মন দিয়ে শুনুন। সামনে কেউ পড়াটা শুনছে দেখলে ঠিক বলছে কিনা জানার আগ্রহে পড়ার আগ্রহও বাড়বে।
রাতজেগে পড়া স্বাস্থ্যকর নয়
অনেক ছাত্রছাত্রী সারারাত জেগে পড়ে এবং বেলা পর্যন্ত ঘুমোয়। পড়ার জন্য নিজের মতো সময় নির্দিষ্ট করে নেওয়াই যায়, তবে এই ধরনের অভ্যাস স্বাস্থ্যসম্মত নয়। পড়ুয়াদের খুব বেশি রাত পর্যন্ত না জেগে সকালে ওঠার অভ্যাস থাকলে তার উপকারিতা বেশি। পর্যাপ্ত ঘুমে মনঃসংযোগ বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি ভাল হয়। আসলে যা পড়বে তা মনে রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাতে সময়ে শুয়ে পড়ে সকালে উঠে পড়তে বসার জন্য উৎসাহ দিন।
পরীক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া। সন্তানের ডায়েট প্ল্যান তাঁর এই সময়কার রুটিন অনুযায়ী করতে হবে। অত্যধিক মানসিক শ্রম হচ্ছে ফলে এমন খাবার দিন যা মনকে চনমনে রাখবে, শরীরে ক্লান্তি আসতে দেবে না, মনঃসংযোগ বাড়াবে, স্মৃতিশক্তি সবল করবে, অ্যাংজাইটি স্ট্রেস দূর করবে, ঘুমতে সাহায্য করবে।
ব্রেনকে বুস্টিং করতে প্রতিদিন ডায়েটে রাখুন ডিম। কারণ ডিমের মধ্যে আছে সেলেনিয়াম, ওমেগা-৩ এবং নার্ভকে ভাল রাখার উপযোগী উপাদান। দিনের যে কোনও সময় ডিমসেদ্ধ, এগ হোয়াইট বা ওমলেট দিতে পারেন।
ব্রাউন রাইস, মিলেট ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি এবং গ্লুকোজ। মস্তিষ্কের জন্য এগুলো অপরিহার্য। এর সঙ্গে এইসব খাবার খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরে থাকবে সন্তান একটানা পড়াশুনো করতে পারবে।
দুপুরে বা রাতে খাবার দিন সহজপাচ্য। পাতে রাখুন ভাত, শাক-সবজি, শুক্তো, ডাল, হালকা করে রান্না করা ছোট চারা মাছের ঝোল। রাতে চিকেন স্ট্যুও দিতে পারেন তবে রসিয়ে কষিয়ে রান্না করা খাবার বা বাইরের খাবার এখন একটু কম দিলেই ভাল।
প্রতি দিন ২০০-২৫০ গ্রাম ফল খেলে ভাল হয়। যে কোনও মরশুমি ফল দিতে পারেন। আপেল, কলা, শসা, পেয়ারা, বেরি। এই সময় রোজ সন্তানের পাতে রাখুন তাজা বিট-গাজরের সালাড। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা-ক্যারোটিন, ফোলেট, নাইট্রেট মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।
৩০০-৪০০ মিলিলিটার দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে ভাল। এছাড়া রোজ দিন টকদই। দই খুব ভাল প্রোবায়োটিক। এর থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালশিয়াম ঢুকবে শরীরে। দইয়ের অ্যামাইনো অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। হজমও ভাল হয়।
আরও পড়ুন-শর্মিলা ঠাকুরকে সুপ্রিম ভর্ৎসনা
পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
প্রণবকুমার ঘোষ
(প্রধান শিক্ষক)
মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম বিবেকানন্দ বিদ্যালয়
পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রথম কাজ হল নিজের যথাযথ যত্ন নেওয়া যাতে পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি পর্বে অতিরিক্ত চাপ নিতে গিয়ে শরীর কোনওভাবে খারাপ না হয়।
এরপর বিষয়ভিত্তিক পড়ার পরিকল্পনা করে আর যেটুকু সময় হাতে রয়েছে তার মধ্যে ভাগ করে বাকি যা করণীয় সেটা সম্পূর্ণ করে নিতে হবে।
বিভিন্ন মক টেস্ট ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়ে গেছে এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি সামনে এসে গেছে। কোন বিষয়ে গলদ আছে, কোন বিষয়ে নম্বর কম হয়েছে, কোনটা পারেনি সেই জায়গাগুলো দেখে নেওয়া গেছে এবার সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে নিতে হবে।
সব পরীক্ষার্থী সব বিষয়ে সবল না-ও হতে পারে হয়তো সে কোনও একটা বিষয়ে বেশ দুর্বল বা সেই বিষয়ে তার আগ্রহ কম। সেই বিষয়ে সে নম্বর তুলতে পারে না। সেই বিষয়ের পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রশ্নপত্রে ছোট ছোট যে ভাগগুলো করা থাকে সেগুলো ভাল করে দেখে সহজ, চট করে নম্বর উঠবে এমন প্রশ্ন অ্যাটেন্ড করতে হবে। এমনভাবেই পরীক্ষা দিতে হবে যাতে মোটামুটি একটা নম্বর তোলা সম্ভব হয়। কঠিন অংশগুলো দেখে অযথা ভয় পাওয়া ঠিক হবে না।
লক্ষ্যস্থির করে নিয়ে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য নিজের প্রচেষ্টাকে একশো শতাংশ কাজে লাগানোর এটাই সেরা সময়। এই সময় ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে যত দূরে থাকা যাবে ততটাই ভাল।
পরীক্ষার আগের দিন অ্যাডমিট কার্ড ভাল করে দেখে নিতে হবে। নাম, ডেট অফ বার্থ সব ঠিক আছে কি না। আর ভেনু বা পরীক্ষা কেন্দ্র কোথায় সেটা ভাল করে বুঝে নিতে হবে। অনেক সময় দেখা গেছে ভেনু বুঝতে ভুল হওয়ায় পরীক্ষার্থী সঠিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। এটা যাতে না হয় সে-বিষয়ে সতর্ক থাকা।
হোম সেন্টারেই যাদের পরীক্ষা তাদের এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে পরিবেশ আমার চেনা তাই চাপ কম থাকবে। সেখানেও খুব সতর্কভাবে পরীক্ষা দিতে হবে। বাইরে থেকে শিক্ষক আসেন, তাঁদের সহযোগিতা করতে হবে।
এখন আরও একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কী কী সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকা যাবে। কারণ সবকিছু নিয়ে যাওয়া বৈধ নয় ফলে না জেনে সেগুলো নিয়ে গেলে পরীক্ষার্থীরাই বিপদে পড়ে যেতে পারে। অভিভাবকদের এই বিষয় জ্ঞান থাকা জরুরি।
অনেকসময় পরীক্ষার পেপার কঠিন হলে কিছু ছাত্র যারা হয়তো অমনোযোগী হইচই-হট্টগোল শুরু করে। এমন কোনও কাজে যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না। এতে তাঁদেরই ক্ষতি।
পরীক্ষায় দেখা গেল প্রশ্নপত্র খুব কঠিন এসেছে তখন ভয় না পেয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে যেটুকু করা সম্ভব করে ফেলতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে মানে সেটা সবার জন্যই কঠিন। তখন হট্টগোল করলে বা নার্ভাস হলে ভালর চেয়ে খারাপটাই বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অনেক সময় সেন্টারে পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে অভিভাবকরা অযথা ভয় পাবেন না। এখন প্রশাসনের তরফে, স্কুলের তরফে থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে এমন ব্যবস্থা করা থাকে যাতে অসুস্থ পরীক্ষার্থীর জন্য আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। সর্বত্র মোবাইল মেডিক্যাল ভ্যানের ব্যবস্থা থাকে এবং স্কুলের প্রতিটি কর্মী থেকে শিক্ষক— প্রস্তুত থাকেন যে-কোনও এমার্জেন্সি সামাল দিতে। তাই তাদের ওপর ছেড়ে দিন। পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ল মানেই সে পরীক্ষা দিতে পারবে না এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এমনও হয়েছে অসুস্থ পরীক্ষার্থী একটু সুস্থ বোধ করতেই হাসপাতালের বেডেই তাকে পরীক্ষা দেওয়ানো হয়েছে তাই দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।
পরীক্ষা খারাপ হলে বা শেষদিন উত্তেজনার বশে ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময় উদ্ধত আচরণ করে ভাঙচুর করে বা পরীক্ষা কেন্দ্রের জিনিসপত্র নষ্ট করে। এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে না হলে হয়তো তাদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে।

