ওয়াশিংটন: ইউরোপের দেশগুলির উপর শুল্কের ভার চাপিয়ে গ্রিনল্যান্ড (Greenland_America) দখল করার কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার তাঁর শুল্ক আরোপের হুমকিতে ভয় পায়নি ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি। বরং শুল্কের অস্ত্রকে ট্রাম্প যেভাবে দাবি তাঁর দাবি পূরণের কৌশল হিসাবে ব্যবহার করছেন তার সামনে নতজানু না হয়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ঐক্য অটুট রেখেছে ইউরোপের একাধিক দেশ। এর আগেই গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বার্তা দিয়েছিল আট দেশ। এবার তা মোকাবিলায় কার্যত যুদ্ধং দেহি মনোভাব দেখাচ্ছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন-সাহিত্য অ্যাকাডেমির পাল্টা জাতীয় পুরস্কার ঘোষণা করলেন স্ট্যালিন
ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের আট দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। আমেরিকার কথা না শুনলে জুন থেকে সেই শুল্কের পরিমাণ ২৫ শতাংশ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর পাল্টা ডেনমার্কের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়, ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন এবং ইংল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডের (Greenland_America) পাশেই রয়েছে। কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব বা জাতিগত অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তারা একজোট রয়েছে। এই বার্তা যে আমেরিকাকেই দেওয়া হয়েছিল তা স্পষ্ট বুঝেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তাই এবার গ্রিনল্যান্ড পরিস্থিতির জন্য পাল্টা ন্যাটোকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কুড়ি বছর ধরে ডেনমার্ককে দায়িত্ব দিয়েছিল ন্যাটো। কিন্তু ডেনমার্ক তাতে ব্যর্থ হয়েছে। অতএব এবার সময় হয়েছে অন্য কিছু করার। আর সেই কাজ এবার হবে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে ব্যবহার করে রাশিয়া-জুজু দেখিয়ে ইউরোপকে সতর্ক করতে চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও ইউরোপের দেশগুলি ট্রাম্পের এই ব্যাখ্যাকে আদৌ মান্যতা দেবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকির পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে হাঁটতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিও। এনিয়ে আলোচনা চলছে। যদি সত্যিই তা হয়, তবে আমেরিকার উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ তো হবে বটেই, অন্য বিধিনিষেধও জারির সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে আমেরিকায় পণ্য রফতানিতে রাশ টানার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে লাভজনক চুক্তিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ নাও পেতে পারে মার্কিন সংস্থাগুলি।

