প্রতিবেদন : জেলা বিজেপি নেতৃত্ব সিঙ্গুরবাসীকে (singur) শিল্প সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু তা যে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার সমান তা এদিন বুঝিয়ে দিলেন দাম্ভিক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষণে কোথাও এক চিলতে উন্নয়ন, শিল্পের সম্ভাবনার কথা শোনা গেল না। তাঁর দাম্ভিকতা, ঔদ্ধত্য প্রমাণ করে গেল বিজেপির সরকার বাংলার জন্য কোনদিনও ভাবেনি এবং ভাববেও না। তারা কেবলমাত্র নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। মোদির এই দিশাহীন সভার পর বিজেপিকে কার্যত কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, মন্ত্রী বেচারাম মান্না, বিধায়ক করবী মান্না। এদিন মন্ত্রী বেচারাম মান্না স্পষ্ট বলেন, এটা একটা জুমলা সভা। মানুষকে মিথ্যে বলার জন্য বিজেপি আদর্শ জায়গা বেছে নিয়েছে সিঙ্গুরকে। মন্ত্রীর কটাক্ষ, বিজেপির শিক্ষানবিশ নেতারা, যারা কেন্দ্রীয় বিজেপির অনুমতি না নিয়েই বলেছিল সিঙ্গুরে আবার শিল্প ফিরে আসবে সেই কচিকাঁচা শিক্ষানবিশ বিজেপির নেতাদের নরেন্দ্র মোদি উচিত শিক্ষা দিয়ে গেলেন। সিঙ্গুরের (singur) জমি ব্যক্তিগত জমি, এগুলি কৃষকদের জমি। কোনও কলকারখানা করতে গেলে জমি কিনে তারপর করতে হবে। এই বিষয়টা নরেন্দ্র মোদি জানেন বলে সুকৌশলে সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন।
তাঁর সাফ কথা, বাংলায় মানুষ এর আগেও বুঝেছে, সিঙ্গুরের মানুষ এর আগেও বুঝেছে এইসব রাজনৈতিক দল ফায়দার জন্য আসে। তারা মানুষের কথা ভাবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবেন।
প্রধানমন্ত্রী দাম্ভিক। কৃষকদের কোনওরকম সম্মতি ছাড়াই একরকম জোর করে তাঁদের জমিতে সভা করে গেলেন। ঠিক যেভাবে বাম সরকার জোর করে জমি নিয়ে শিল্প গড়ার চেষ্টা করেছিল। মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল তিনি রাজনৈতিক লক্ষ্যে ভোটের প্রচারে এসেছিলেন। নরেন্দ্র মোদি একবার কেনো একশোবার এলেও সিঙ্গুরের মানুষকে ভুল বোঝানো যাবে না। ওদের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।
মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, সুপ্রিম কোর্টে জমি দেওয়া নিয়ে মামলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে জমি দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। ভারতবর্ষের পার্লামেন্টে ১৮ ৯৪ জমি অধিগ্রহণ আইন অনুসারে জমি ৮০ শতাংশ মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত হয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলে। সেই দখলিকৃত জমি মালিকরা ফেরত পেয়েছেন, চাষ করছেন। কেউ যদি শিল্প করতে চায় সিঙ্গুরে এসে তাহলে জমির মালিক যদি আশি শতাংশ জমি দিতে রাজি থাকেন তাহলে বাকি ২০ শতাংশ জমি নিয়ে শিল্প করা যাবে। এ-বিষয়টি একমাত্র সম্ভব হয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলে।
আরও পড়ুন-বিজেপির অসমে ফের খুন হলেন বাংলার শ্রমিক
এদিন, সিঙ্গুর থেকে যে ন্যানো কারখানা গুজরাতে চলে গিয়েছিল সেখানে সেই গাড়ির প্রোডাকশন কেন হল না সেটা সিঙ্গুরের মানুষ নরেন্দ্র মোদিকে প্রশ্ন করার জন্য তৈরি ছিল। ১০০ দিনের কাজের টাকা, গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির টাকা কেন বন্ধ, রাস্তা তৈরির টাকা কেন বন্ধ, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পের টাকা কেন বন্ধ তা জানতে চেয়েছিল মানুষ। কিন্তু সুকৌশলে সেগুলো এড়িয়ে গিয়ে তিনি রেলের কথা বললেন। কিন্তু দেখা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি বাংলার যা উন্নয়ন করেছেন, তার এক শতাংশ উন্নয়নও মোদি করতে পারেননি।
মোদি নিজের ভুল বুঝে এখন বাংলা মানুষের হৃদয়ে ঢোকার জন্য মনীষীদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্য শুধুই আমিত্বে ভরা। উপস্থিত সকলেই অপেক্ষা করছিলেন সিঙ্গুরে শিল্প সংক্রান্ত কোনও কথা প্রধানমন্ত্রী বলুন। কার্যত সেটা হল না।

