প্রতিবেদন : দিল্লির দয়াদাক্ষিণ্যের অপেক্ষা করে না বাংলা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাংলার ২০ লক্ষ মানুষকে মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করে দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার! নদিয়ার চাপড়ায় স্বৈরাচারী বিজেপির কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে হুঙ্কার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রবিবার বিকেলে চাপড়ার শ্রীনগর মোড়ে বিরাট রোড শো শেষে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে ৮-০ টার্গেট বেঁধে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। নরেন্দ্র মোদির ‘বাংলাকে পরিবর্তন’-এর পাল্টা বিজেপিকেই পরিবর্তনের ডাক দিলেন অভিষেক।
আরও পড়ুন-নন্দীগ্রামে সমবায় জয় তৃণমূলের
বাংলায় বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামিয়ে দিল্লির বহিরাগত বাবুদের ঔদ্ধত্য, অহঙ্কার ভেঙে ছারখার করার হুঙ্কার অভিষেকের। কমিশনকে কাজে লাগিয়ে এসআইআরের নামে বাংলার মানুষকে হেনস্থা-হয়রানির প্রতিবাদে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, যেভাবে বাংলার মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, সেভাবেই বিজেপিকেও কষ্ট দিতে হবে! এদিন চাপড়ায় পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিজেপি বাংলার মানুষকে কষ্ট দিতে চেয়েছিল রাস্তার টাকা বন্ধ করে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কৃষ্ণনগরে নিজে এসে পথশ্রী-রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ অধ্যায়ের কথা ঘোষণা করেছেন। যেখানে ৮ হাজার কোটি টাকায় বাংলা জুড়ে আরও ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা হবে। বিজেপি আবাসের টাকা আটকে রেখেছে। এই বাংলায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ২০ লক্ষ মানুষকে মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করে দেবে। আবাসের টাকা সরাসরি মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। সরাসরি নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ২০১৪ সালে ব্রিগেডে এসে বলেছিলেন বাংলার মানুষকে লাড্ডু দেবেন। আর রসগোল্লা দিয়েছেন। তাই বাংলার মানুষ আপনার দিল্লির গদি চূর্ণবিচূর্ণ করে আপনার ঔদ্ধত্য-অহঙ্কার ভাঙবে!

গতকাল মালদহে বাংলাকে পাল্টানোর কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নদিয়া থেকে পাল্টা বিজেপিকেই পরিবর্তনের ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নমো’র উদ্দেশে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, পাল্টানো দরকার অবশ্যই। কিন্তু পরিবর্তন হবে আপনাদের। বাংলারকে আপনারা শাস্তি দিয়ে পাল্টাতে চাইছেন। বঞ্চনা করে, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পাল্টাতে চাইছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ পালটাবে না। পাল্টাবেন আপনারা। যারা ‘জয় শ্রীরাম’ বলে সভা শুরু করতেন, সেই নেতারা এখন বাংলায় এসে ‘জয় মা কালী’ আর ‘জয় মা দুর্গা’ বলে সভা শুরু করেন। এটাই বাংলার মাহাত্ম্য!
অভিষেকের আরও সংযোজন, বিজেপির বিরুদ্ধে সারা ভারতে একমাত্র লড়ছে বাংলা। দেশের সব রাজনৈতিক দল বিজেপির কাছে হারে। আর বিজেপি বাংলার মানুষ আর তৃণমূলের কাছে হারে। এটাই তফাত! এদিন কৃষ্ণনগরে বিজেপির জবরদখলের পার্টি অফিস নিয়েও কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, যে দল অবৈধ পার্টি অফিস চালায়, সেই দল বাংলার ১০ কোটি মানুষের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করে কী করে? যাদের পার্টি অফিস অবৈধ, তাদের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? এদিন নাম করে করে কৃষ্ণনগর-সহ নদিয়ার বিজেপি নেতাদের কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি ফাঁস করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

