পাটনা থেকে কলকাতা: প্রতিবাদের নামে কংগ্রেস দফতরে ‘গুন্ডামি’ বিজেপির

Must read

বিহার ভোটের আঁচ কলকাতায়। সেখানে ভোট প্রচারে কংগ্রেস সমর্থককে মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় বিহারের রাজনীতি। তার প্রভাব পড়ছে কলকাতাতেও। বিহার থেকে কলকাতা সর্বত্রই বিজেপি (shame on BJP) কর্মী-সমর্থকদের হিংসার চিত্র দেখা গেল।

কয়েক মাস পরে বিহারে বিধানসভা ভোট। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি জোর প্রচারে নেমে পড়েছে। নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাকে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। এর জেরে বিজেপির প্রতিবাদ আন্দোলন হিংসায় পরিণত হল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে কংগ্রেসের পতাকা মাথায় বেঁধে এক সমর্থক প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে হিন্দিতে গালিগালাজ করছেন। (ভাইরাল ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি জাগোবাংলা ডিজিটাল) অভিযোগ, মোদির মায়ের উদ্দেশেও কুরুচিকর মন্তব্য করেন ওই ব্যক্তি।

এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে পাটনার প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে আক্রমণ করেন বিজেপি (shame on BJP) কর্মী-সমর্থকরা। ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেস শীর্ষনেতা-নেত্রীদের ছবি কালি লাগনো হয়। ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলা হয়।

আরও পড়ুন- মাত্র ২৬ দিনেই ১ কোটি! ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ নিয়ে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা মুখ্যমন্ত্রীর

বিহারের এই উত্তেজানর আঁচ পড়ে কলকাতাতেও। অভিযোগ, এদিন সকালে কলকাতার প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে প্রতিবাদের নামে হামলা চালান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে বিধানভবনের বাইরে ভাঙচুর করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। আগুন লাগানোর অভিযোগও উঠেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ছবি-সহ একাধিক ব্যানার, পোস্টারও ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে।
যে সময় হামলা চালানো হয় সেই সময় নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না বিধান ভবনে। খবর পেতেই বিধান ভবনে আসেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, সত্য ও অহিংসার আগে, মিথ্যা ও সহিংসতা টিকতে পারে না। যত ইচ্ছা আঘাত করো এবং ভেঙে ফেলো আমরা সত্য ও সংবিধান রক্ষা করে যাব। প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন, আমি বলব প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে নিরাপত্তা বাড়াতে। আমরাও বিজেপির দফতরে যাবো, এক তরফা কোনও কিছু হয় না। সমস্যার সমাধান না হলে কলকাতার বুকে লাগাতার আন্দোলন করব।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার একটি বার্তায় বলেছেন, আজ সকালে প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যালয় খোলা ছিলোনা, তখন চোরের মতো- কাপুরুষের মতো অতর্কিতে ‘বিধান ভবন’- ঢুকে বিজেপি দলের সমাজবিরোধী কর্মী ও নেতারা যেভাবে কংগ্রেসের নেতৃত্বের ছবি নষ্ট করেছে এবং কংগ্রেসের সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে। এরপরেও যদি রাকেশ সিং – এর বিরুদ্ধে বিজেপি ব্যবস্থা না নেয় এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার না করে তবে রাজ্য জুড়ে কংগ্রেস – কর্মীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কোন পর্যায়ে যাবে, তা কিন্তু আমাদের জানা নেই।

Latest article