প্রতিবেদন: এক বছর পরেই বাংলার বিধানসভার নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে ভাল ফল করা সম্ভব নয় বুঝতে পেরেই ফের গোর্খা আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করতে শুরু করে দিল বিজেপি৷ রাজ্যের ভোট এলেই বিজেপি নেতাদের মনে পড়ে দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা গোর্খাদের পাশে পাওয়ার কথা৷ এবারও একই ঘটনাই ঘটছে, যেখানে গোর্খাদের উন্নয়ন ও দাবিদাওয়া মেটানো হবে বলে দার্জিলিংয়ের গোর্খা নেতাদের দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে গোর্খা নেতাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, এই ‘ত্রিপাক্ষিক’ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরাও৷ কিন্তু পরিকল্পিত কৌশল হিসাবে পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়নি বৈঠকের কোনও আমন্ত্রণপত্র৷ এই আবহে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও প্রতিনিধি ছাড়াই বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাহাড়ের গোর্খা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই, স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন নিজে৷ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষনেতা বিমল গুরুং, বিজেপি বিধায়ক নীরজ জিম্বা, গোর্খা নেতা রোশন গিরি প্রমুখ৷ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী গোর্খাদের সার্বিক বিকাশ নিয়ে এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি বিজেপি সাংসদ বিস্তার৷ এর পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা না করে কীভাবে দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা গোর্খাদের উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার? স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, বৃহস্পতিবারের বৈঠক কি ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে ফের বড়সড় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র তৈরির চেষ্টা?
আরও পড়ুন-সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পদের ঘোষণা করবেন