বলিউডের সুপার হিরো

ছয় দশক জুড়ে বলিউডের হিন্দি-সাম্রাজ্য দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। বলিউডের (Bollywood) হি-ম্যান থেকে গ্রিক গড— ভক্তরা তাঁকে দিয়েছিল হাজার তকমা। তিনশোর বেশি ছবিতে কাজ করেছেন যার বেশির ভাগই সুপার-ডুপার হিট ছবি। করেছেন বাংলা ছবিও। মানুষের ভালবাসায়, সম্মানে, অভিনন্দনে পূর্ণ ছিল তাঁর ফিল্মিযাত্রা। সেই কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র ৯০ ছোঁয়ার আগেই চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। তাঁকে স্মরণ করলেন শঙ্কর ঘোষ

Must read

ভালবাসতেন বাংলা ও বাঙালিকে
ব্রিটিশ শাসনের সময় উত্তরবঙ্গের এক বর্ধিষ্ণু গ্রামের নায়েব অনন্ত সেনের মেয়ে তারা এবং লাঠিয়াল নবদ্বীপের ছেলে ঘনশ্যাম ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বেড়ে উঠেছে। জগদীশ রায় গ্রামের জনৈক মাতব্বর। তিনি মতলব করেন যেভাবেই হোক অন্যের জমিকে কীভাবে আত্মসাৎ করা যায়। সেই কারণে তিনি মাতাল লম্পট বাদল দারোগাকে হাত করে ফেলেছিলেন। দারোগার লোলুপ নজর পড়েছিল তারার উপরে। এদিকে তারার দাদা গ্রামে এসে এক বন্ধুকে নিয়ে আসে। তার হাতে খানিকটা লাঞ্ছিত হয় তারা। খবরটা ছড়িয়ে পড়ে সারা গ্রাম জুড়ে। এদিকে নায়েবের বাড়িতে দুর্গোপুজোয় বলির পাঁঠা আটকে যায়, সেখানে তারার নামে মানত করা হয়েছিল। জগদীশ চিৎকার করে বলতে থাকেন, তারার পাপেই এই অমঙ্গলটি ঘটেছে। ঘনশ্যাম সহ্য করতে পারে না। তার অতর্কিত লাঠির আঘাত পড়ে জগদীশের মাথায়। তৎক্ষণাৎ মৃত্যু ঘটে তার। নায়েব ও ঘনশ্যাম দু’জনেই ধরা পড়ে। বাদল দারোগা জানান যে তাঁর সঙ্গে যদি তারার বিয়ে দেওয়া হয় তাহলে এঁদের দু’জনে ছাড়া পেয়ে যাবেন। তারার সঙ্গে বাদল দারোগার বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু ছাড়া পেলেন শুধু নায়েব মশাই আর আন্দামান জেলে চালান হয়ে গেল ঘনশ্যাম। এদিকে বাদল দারোগার লাম্পট্য সহ্য করতে না পেরে তাঁকে হাতুড়ি ছুঁড়ে মারে তারা। তাতে বাদল দারোগার মৃত্যু হয়। তারার সাজা হয় কিন্তু জেলে থাকতে তারা চায় না। জেলার সাহেবের কাছে তারা কাতর আবেদন করে যে সে চলে যেতে চায় আন্দামানে, সেখানেই যে রয়েছে ঘনশ্যাম। এমনই এক হৃদয় নিংড়ানো গল্পের নাম ‘পাড়ি’। লেখক জরাসন্ধ। গল্পের চিত্ররূপ দিয়েছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবিতে ঘনশ্যামের চরিত্রে অভিনয় করতে এসেছিলেন তখনকার বোম্বে, অধুনা মুম্বই থেকে ধর্মেন্দ্র। বন্ধু অভি ভট্টাচার্যের অনুরোধে এই কাজটি তিনি করতে এসেছিলেন। অভি ভট্টাচার্য এখানে বাদল দারোগা আর তাঁর স্ত্রী প্রণতি ভট্টাচার্য তারার ভূমিকায় আর জেল সুপারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন দিলীপ কুমার। বাংলা, বাঙালিকে ধর্মেন্দ্র কত ভালবাসতেন এই ঘটনা তারই প্রমাণ বহন করছে। অনেক টানাপোড়েনের পর গত সোমবার ধর্মেন্দ্র আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

আরও পড়ুন-লেখক জগদীশচন্দ্র

Bollywood’s super hero 
১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার ফাগওয়ারা গ্রামে এক জাঠ পরিবারে ধর্মেন্দ্রর জন্ম। তাঁর বাবা শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু ছয় ভাই-বোনের সংসারে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখাটা একটা বিলাসিতা ছাড়া কিছুই ছিল না। শিক্ষক বাবার ইচ্ছে ছিল যে ছেলেকে অধ্যাপক করবেন। কিন্তু ছেলের মাথায় তখন সিনেমা ছাড়া আর কিছুই নেই। উনিশ বছর বয়সের প্রকাশ কৌরকে তিনি বিয়ে করেন। চার সন্তান। দুই ছেলে সানি এবং ববি আর দুই কন্যা বিজেতা এবং অজিতা। কিছুদিন আমেরিকান ড্রিলিং কোম্পানিতেও কাজ করেছিলেন।
ছবির জগতে আত্মপ্রকাশ
কৈশোরে দিলীপ কুমারের ছবি দেখতেন। দিলীপ কুমার অভিনীত ‘শহিদ’ ছবি দেখে তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, বারকয়েক সেই সিনেমাটি দেখেছিলেন। তখন থেকেই অভিনয় জগতের প্রতি অদম্য আকর্ষণ। একবার ফিল্মফেয়ার পত্রিকার তরফে অভিনেতা-অভিনেত্রী সন্ধানের একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ১৯৫৮ সালে সেই ফিল্মফেয়ার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জিতেও ছিলেন। তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ‘দিলভি তেরে হামভি তেরে’ তেমনভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি। বিপরীতে নায়িকা ছিলেন কুমকুম। প্রতিষ্ঠার সোপান তিনি প্রথম সার্থকভাবে দেখতে পেলেন ওপি রালহান পরিচালিত ‘ফুল আউর পাত্থর’ ছবিতে (১৯৬৬)। এখানে তাঁর বিপরীতে মীনা কুমারী। ছবি সুপারহিট। এই ছবিটির সূত্র ধরে দু’জনে খুব কাছাকাছিও চলে এলেন। মীনাকুমারী বহু প্রযোজক-পরিচালককে অনুরোধ করতেন ধর্মেন্দ্রকে নায়ক হিসেবে নেওয়ার ব্যাপারে। তাঁরা একসঙ্গে কাজ করলেন চন্দনকে পালনা, মজলি দিদি, পূর্ণিমা, বাহারো কি মঞ্জিল, কাজল প্রভৃতি ছবিতে। এই সম্পর্ক নিয়ে পরবর্তীকালে যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়েছিলেন যে তিনি তখন এক নবাগত হিসেবে এসেছেন আর মীনাকুমারী অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়িকা। একজন ফ্যানের সঙ্গে একজন স্টারের কখনও কি ভালবাসা হতে পারে? তবে ফ্যানের সঙ্গে যদি স্টারের ভালবাসার কথা বলা হয় তাহলে নিশ্চয়ই তিনি সেই ভালবাসার মধ্যে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুন-অভিষেকদের বিরুদ্ধে আজ খেলবেন আকাশ, জয়ের হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে বাংলা

হিট নায়কের নায়িকারা
নায়ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম কয়েকটি দশক জুড়ে তিনি দাপটের সঙ্গে হিন্দি ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন সব বিখ্যাত নায়িকারা। স্মরণীয় প্রথম ছবি ‘বন্দিনী’ বিমল রায়ের পরিচালনায়। সেখানে তাঁর বিপরীতে নায়িকা নূতন। আশা পারেখের সঙ্গে কাজ করলেন ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘আয়া শাওন ঝুমকে’, ‘সমাধি’, ‘আয় দিন বাহার কে’ ছবিগুলিতে। বৈজয়ন্তীমালার বিপরীতে কাজ করলেন ‘পেয়ার কি পেয়ার’ ছবিতে। সায়রা বানুর বিপরীতে কাজ করলেন ‘আদমি আউর ইনসান’, ‘জোয়ার ভাঁটা’ ছবিগুলিতে। জিনাত আমানের সঙ্গে কাজ করলেন ‘ধরমবীর’, ‘শালিমার’ ছবিতে। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার বিপরীতে কাজ করলেন ‘ইজ্জত’ ছবিতে। মমতাজ-এর বিপরীতে কাজ করলেন ‘লোফার’, ‘ঝিলকে উসপার’ ছবিতে। রেখার বিপরীতে কাজ করলেন ‘ঝুটা সাচ’ ছবিতে। পদ্মিনীর বিপরীতে কাজ করলেন কাজল ছবিতে। সর্বোপরি রইলেন হেমামালিনী। এই জুটির প্রথম ছবি ‘তুমি হাসিম ম্যায় জোয়ান’। এ ছাড়া তাঁরা অভিনয় করলেন ‘শোলে’, ‘জুগনু’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘সীতা ঔর গীতা’, ‘নয়া জামানা’, ‘আজাদ’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘আশপাশ’, ‘দোস্ত’, ‘রাজা জানি’, ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’, ‘চাচা ভাতিজা’, ‘দিল্লাগি’ প্রভৃতি। এই জুটির বিয়ের পর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘রাজিয়া সুলতান’ দর্শকদের টানতেই পারেনি।
বাংলার সঙ্গে নিবিড় যোগ
তাঁর প্রতিষ্ঠার মূলে যে বিখ্যাত পরিচালক রয়েছেন তিনি বিমল রায়। যিনি সুযোগ দিলেন ‘বন্দিনী’ ছবিতে। কাজ করলেন নূতন এবং অশোক কুমারের সঙ্গে। তবে বড় ব্রেক পেয়েছিলেন হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। তাঁর ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সত্যকাম’, ‘অনুপমা’, ‘মজলি দিদি’, ‘চৈতালি’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘গুড্ডি’ প্রভৃতি ছবি। বোম্বাই প্রবাসী বাঙালি পরিচালক প্রমোদ চক্রবর্তীর সঙ্গে তিনি কাজ করলেন ‘তিনমূর্তি’, ‘নয়া জামানা’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘আজাদ’ প্রভৃতি ছবিতে। অসিত সেন তাঁকে নিয়েছিলেন ‘মমতা’, ‘খামোশি’, ‘শরাফৎ’ প্রভৃতি ছবিতে। দুলাল গুহের সঙ্গে কাজ করলেন ‘প্রতিজ্ঞা’ ছবিতে। বাসু চ্যাটার্জির সঙ্গে কাজ করলেন দিল্লাগি ছবিতে। অনুরাগ বসুর সঙ্গে কাজ করলেন লাইফ ইন এ মেট্রো ছবিতে। অনেকেই বলে থাকেন ‘পাড়ি’ শুধুমাত্র একটি ছবি যেখানে বাংলা ছবিতে ধর্মেন্দ্র কাজ করেছেন। সেটি সঠিক নয়। এ ছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন প্রমোদ চক্রবর্তী পরিচালিত বাংলা-হিন্দি ডাবল ভার্সনের ছবি ‘তিনমূর্তি’তে। এছাড়া একটি অতিথি শিল্পীর ভূমিকা তিনি পালন করেছিলেন পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত ‘জবান’ ছবিতে। সেখানে তিনি কাজটি করতে এসেছিলেন প্রযোজক-অভিনেতা শমিত ভঞ্জের অনুরোধে। বিশ্বজিতের অনুরোধে বিশ্বজিতের ছবি ‘কহেতে হে মুজকো রাজা’ ছবিতে ধর্মেন্দ্র, হেমামালিনী একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। এমনকী ইনডোর স্টেডিয়ামের একটি অনুষ্ঠানে বিশ্বজিতের অনুরোধেই ধর্মেন্দ্র এসেছিলেন এবং সেখানে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর সাক্ষাৎ ঘটেছিল। বহু বাঙালি নায়িকার বিপরীতেই তিনি কাজ করেছেন। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে কাজ করলেন ‘মমতা’ ছবিতে। সুপ্রিয়া দেবীর বিপরীতে দুটি ছবিতে তিনি নায়ক হয়েছেন ‘আপকি পরছাইয়া’, ‘বেগানা’য়। শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে ‘এক রাশ’ ছবিতে তিনি নায়ক হয়েছেন। ‘সত্যকাম’, ‘অনুপমা’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘দেবর’, ‘ইয়াকিন’ , ‘এক মহল হো সাপনে কা’। মালা সিনহার বিপরীতে তিনি নায়ক হয়েছেন ‘আঁখে’, ‘বাহারে ফিরভি আয়েঙ্গে’, ‘পূজা কে ফুল’, ‘আনপড়’ প্রভৃতি ছবিতে। রাখির বিপরীতে তিনি অভিনয় করলেন ‘জীবন মৃত্যু’, ‘ব্ল্যাকমেইল’ ছবিতে।

আরও পড়ুন-অভিষেকদের বিরুদ্ধে আজ খেলবেন আকাশ, জয়ের হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে বাংলা

অধরা ছিল পুরস্কার
প্রতিবছর ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি প্রত্যেকবারই সেজেগুজে উপস্থিত থাকেন যদি কখনও কোনও ছবি থেকে তিনি সেরা নায়কের পুরস্কারটি পেতে পারেন! অন্তত তিনি আশা করেছিলেন যে ‘সত্যকাম’ বা ‘অনুপমা’ থেকে কিংবা ‘চুপকে চুপকে’ থেকে তিনি শ্রেষ্ঠ নায়কের পুরস্কারটি পেতেও পারেন। কিন্তু কোনওভাবে পুরস্কার পাননি। তবে ১৯৯৭ সালে তাঁকে ওই ফিল্মফেয়ারের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছিল লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড (সারা জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার)। সেই পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন দিলীপ কুমার। মঞ্চে তখন একদিকে রয়েছেন শাহরুখ খান, অপরদিকে রয়েছেন সায়রা বানু।
ড্রিমগার্ল পর্বে
ধর্মেন্দ্র প্রথম তাঁর ড্রিমগার্ল হেমামালিনীকে দেখেন কে এ আব্বাসের একটি ছবির প্রিমিয়ারে। সেখানে তিনি হেমামালিনীকে দেখে এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে শশী কাপুরকে পাঞ্জাবি ভাষায় বলেছিলেন, ‘‘কুড়ি বড়ি চঙ্গি হ্যায়’’। এর অর্থটা দাঁড়ায় যে মেয়েটি অত্যন্ত সুন্দরী। এই মেয়েটিকে তিনি নায়িকা হিসেবে পেলেন ‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’ ছবিতে। ‘শোলে’র সময় থেকে তো তাঁদের জনপ্রিয়তে যে কী জায়গায় পৌঁছেছিল তা আপামর দর্শকমাত্রই জানেন। এদিকে, হেমামালিনীর জীবনে তখন এসে গেছেন সঞ্জীব কুমার। কিন্তু সেই প্রেম-ভালবাসা টেকেনি। তারপরে এলেন জিতেন্দ্র। সেই সম্পর্কও টেকেনি। অবশেষে ধর্মেন্দ্র। এই সম্পর্কে তাঁদের প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অবশ্যই হেমামালিনীর মা জয়া চক্রবর্তী। তিনি সর্বদাই মেয়েকে চোখে চোখে রাখতেন কিন্তু ভালবাসা যেখানে দুর্বার সেখানে মা কীভাবে প্রতিহত করতে পারবেন? ১৯৮০ সালের দু’জনের বিয়ে হল। ধর্মেন্দ্র-হেমামালিনীর দুই কন্যাসন্তান। প্রথম কন্যা এষার জন্ম হয় ১৯৮১ সালে। দ্বিতীয় কন্যা অহনার জন্ম হয় ১৯৮৫ সালে। সানি দেওল ও ববি দেওলের মতো এষা দেওল ছবির জগতে এসেছিলেন। এরকম জনশ্রুতি আছে যে যেহেতু ধর্মেন্দ্র বিবাহিত এবং তাঁর ডিভোর্স হয়নি তাই তাঁরা মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করেছিলেন।

আরও পড়ুন-জনসভায় বিজেপির সার-চক্রান্তের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ঋতব্রতর

আরও কিছু কথা
ধর্মেন্দ্রর গোড়ার দিকে নায়িকাদের মধ্যে আরও ছিলেন প্রিয়া রাজবংশ ‘হকিকৎ’ ছবিতে। ‘ইজ্জত’ ছবিতে তনুজা জয়ললিতার সঙ্গে ধর্মেন্দ্রকে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। জয়া ভাদুড়ীও আশা পারেখের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রকে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন ‘সমাধি’ ছবিতে। এমন এক-একদিন গেছে যে তিনি তিন-চার শিফটে কাজ করেছেন। যেমন বন্ধু দেবেন বার্মার ‘ইয়াকিন’ ছবিতে তিনি শ্যুটিং করতে ঢুকলেন রাত একটায়। সবাই ভেবেছিলেন তিনি আসবেন না। কিন্তু তিনি এলেন। সবাই দেখলেন ধর্মেন্দ্রর চেহারার মধ্যে কোনও ক্লান্তির ছাপ নেই। বাসু চট্টোপাধ্যায়ের অনুরোধে ধর্মেন্দ্র-হেমামালিনী একসঙ্গে একটি গানের দৃশ্যে অভিনয় করলেন। ছবিটির নাম ‘ছোটি সি বাত’। আর গানটি হল ‘জানেমান জানেমান তেরে দো নয়ন’। সিনেমার জন্য কতটা স্পিরিট তাঁর মধ্যে কাজ করত, যে শেষ বয়সেও করণ জোহরের ‘রকি ঔর রানি কি প্রেমকাহানি’ ছবিতে শাবানা আজমির সঙ্গে চুম্বনদৃশ্যে সাবলীল অভিনয় করলেন। ক্যামেরার সঙ্গে ছিল তাঁর অটুট বন্ধন।

Latest article