চায়ের দোকানে বইবাগান, বর্তমান প্রজন্মকে টানতে সুদীপের অভিনব উদ্যোগ

এ যেন আস্ত একটা বইয়ের বাগান। তাও আবার চায়ের দোকানে। অজানাকে জানার এবং অচেনাকে চেনার এক অন্যতম মাধ্যম হল বই।

Must read

তুহিনশুভ্র আগুয়ান, মহিষাদল: এ যেন আস্ত একটা বইয়ের বাগান। তাও আবার চায়ের দোকানে। অজানাকে জানার এবং অচেনাকে চেনার এক অন্যতম মাধ্যম হল বই। কিন্তু চায়ের দোকানে যে বইয়ের বাগান গড়ে উঠবে সেই ভাবনা জাগিয়ে দিয়েছেন মহিষাদলের তরুণ সুদীপ জানা। নিজের উদ্যোগেই সুদীপ গড়ে তুলেছেন আস্ত একটি চায়ের দোকান। সেই চায়ের দোকানের ভেতরে প্রবেশ করলে সেটি আদৌ চায়ের দোকান নাকি বইয়ের বাগান সেই ভাবনায় বুঁদ হবেন আপনিও। মহিষাদলের তেরপেখ্যা গ্রামের তরুণ সুদীপ একসময় বেসরকারি কোম্পানিতে মোটা মাইনের চাকরি করতেন। কিন্তু মনোমালিন্য হওয়ায় চাকরি ছেড়ে চায়ের দোকান করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে চায়ের দোকানের সঙ্গে অভিনব কিছু করার চিন্তা মাথায় আসে তাঁর। মা গায়ত্রী দেবী-সহ বাড়ির সকলেই প্রথম থেকে বইপ্রেমী।

আরও পড়ুন-ড্র করল জার্মানি

কিন্তু বর্তমানে নতুন প্রজন্ম বই থেকে যেন দূরে সরে যাচ্ছে। ক্রমশ সোশ্যাল মিডিয়ায় বুঁদ হয়ে পড়ছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে চায়ের দোকানেই বইয়ের লাইব্রেরি গড়ার ভাবনা মাথায় আছে সুদীপের। সেই অনুযায়ী মহিষাদলের ছোলাবাড়ি প্রাঙ্গণে গড়ে তোলেন একটি চায়ের দোকান। দেড় বছর আগে শ’খানেক বই নিয়ে শুরু হয় সুদীপের এই চায়ের দোকান। বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই। সকাল কিংবা সন্ধে সুদীপের চায়ের দোকান এখন আট থেকে আশির অবসরের অন্যতম ঠিকানা। এক কলেজছাত্র প্রত্যয় ঘড়ইয়ের কথায়, সত্যিই এ এক অভিনব উদ্যোগ। এর ফলে আমরা অবসর সময়ে নিজেদের জ্ঞানের বিকাশ ঘটাতে পারব।

আরও পড়ুন-আর্জেন্টিনার জয়, ব্রাজিলের ড্র

সুদীপের চায়ের দোকানে মাঝেমধ্যে বসে গানবাজনার আসরও। তার জন্য রয়েছে গিটার। গিটারের সুর আর চায়ের চুমুকের সঙ্গে হাতে বই নিয়ে এক অদ্ভুত মুহূর্তের সৃষ্টি হয় দোকানে। রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার থেকে এপিজে আবদুল কালাম, সকলের বই থরে থরে সাজানো সুদীপের এই চায়ের দোকানে। সুদীপের এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে হিন্দি কবি নিরালার নামে ‘নিরালা বুক ক্যাফে’। দোকানে রয়েছে কিছু বিধিনিষেধও। দোকানে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ধূমপান। এছাড়াও করা যাবে না ফোন ঘাঁটাঘাঁটি। তার বিনিময়ে অন্তত বইয়ের একটি পাতা পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুদীপ। আশপাশে বহু স্কুলকলেজ অবস্থিত। তাই নতুন প্রজন্মের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে সুদীপের এই বুক ক্যাফে। খুশি হয়ে বহু মানুষজন সুদীপের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুরনো বই দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে সুদীপের এই বইয়ের বাগান থেকে বহু কবি-সাহিত্যিকের বই প্রকাশ অনুষ্ঠানও হয়েছে। সুদীপের কথায়, ছোট থেকেই দেখে আসছি মা খুব বই পড়তে ভালবাসেন। তবে বর্তমান প্রজন্ম বই থেকে যেন দূরে সরে যাচ্ছে। আমি যখন চাকরি ছাড়ি তখন চায়ের দোকান করার সিদ্ধান্ত নেই। তখনই এখানে নতুন কিছু করার ভাবনা মাথায় আসে। চায়ের দোকানে আড্ডার ছলে যাতে নতুন প্রজন্ম বইমুখী হয়ে উঠতে পারে সেই জন্য এই ধরনের উদ্যোগ।

Latest article