লন্ডন: ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের পর এবার অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ বেলা-১ দখল করল আমেরিকা। আর সেই কাজে মার্কিন মেরিন কমান্ডো বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজে অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন স্টার্মার। এই ঘটনার পর নিশ্চিতভাবেই রাশিয়া-আমেরিকার সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হল, যা তেল-রাজনীতিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলির মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনীতিকেরা। প্রসঙ্গত, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাঠানো নৌবহরের পাহারা সত্ত্বেও বুধবার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল বহনের কাজে ব্যবহৃত ট্যাঙ্কার বেলা-১ দখল করেছিল মার্কিন মেরিন বাহিনী। পুতিন আর্জি জানিয়েছিলেন যাতে এশিয়াগামী তেলবাহী জাহাজগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। উল্টে, ক্যারিবিয়ান সাগরে সোফিয়া নামের অন্য একটি তেলবাহী জাহাজেরও দখল নেয় আমেরিকার উপকূলরক্ষীরা। দু’টি জাহাজই শেষবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহণের কাজ করছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেনার ইউরোপীয় কমান্ড জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণে ব্যবহৃত বেলা-১ নামের ওই ট্যাঙ্কারটিকে আইসল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যবর্তী এলাকায় আটক করা হয়। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব ক্রিস্টি নোয়েম ঘোষণা করেন সোফিয়া দখলের কথা। এই উত্তেজনার আবহে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মার্কিন অভিযানে সহায়তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এয়ার ফোর্স নজরদারি বিমান এবং রয়্যাল নেভির সহায়তা জাহাজ ‘আরএফএ টাইডফোর্স’ মোতায়েন করে মার্কিন অভিযানে সহায়তার অনুরোধে সাড়া দিয়েছে। স্টার্মারের এই ঘোষণার পর গোটা পরিস্থিতি নিয়ে মস্কো কী অবস্থান নেয় সেটাই দেখার।

