ঋণ ও অগ্রিম সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন রাজ্যে, বিজ্ঞপ্তি জারি

নাবার্ড বা অন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার অর্থায়নে দেওয়া ঋণ বাদে রাজ্যের আওতাভুক্ত সমবায় সমিতিগুলির ঋণের ক্ষেত্রেও এই হার কার্যকর হবে।

Must read

প্রতিবেদন : রাজ্য সরকারের ঋণ ও অগ্রিম সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনল অর্থ দফতর। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন খাতে যে সব ঋণ ও অগ্রিম দেওয়া হবে, তার সুদের হার ও শর্তাবলী নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নবান্ন থেকে জারি হওয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নতুন অর্থবর্ষে বিভিন্ন শ্রেণির ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ধার্য করা হয়েছে বার্ষিক ৭.২২ শতাংশ হারে। এই হার প্রযোজ্য হবে শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের সরকারি ও সমবায় সংস্থাগুলির বিনিয়োগ ঋণ, কার্যকরী মূলধন ঋণ এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে। একইসঙ্গে পুরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি, আবাসন বোর্ড-সহ বিভিন্ন স্থানীয় স্বশাসন সংস্থাকে দেওয়া ঋণেও এই হারেই সুদ নেওয়া হবে। নাবার্ড বা অন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার অর্থায়নে দেওয়া ঋণ বাদে রাজ্যের আওতাভুক্ত সমবায় সমিতিগুলির ঋণের ক্ষেত্রেও এই হার কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন-১০ কোটি ব্যয়ে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ও নজরদারি, ট্রাফিক নজরদারি বাড়াতে জোড়া প্রকল্প আনছে রাজ্য

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ঋণের মূল টাকা সাধারণত সমান বার্ষিক কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে এবং ঋণ তোলার এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকেই কিস্তি শুরু হবে, যদি না বিশেষ ক্ষেত্রে মোরাটোরিয়াম দেওয়া হয়। সাধারণভাবে কোনও ঋণের মেয়াদ দশ বছরের বেশি হওয়া উচিত নয় বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। কার্যকরী মূলধন ঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদ দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে তা সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সুদের অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রেও কড়া শর্ত আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণত সুদ মকুবের সুযোগ থাকবে না এবং ঋণ তোলার প্রথম বর্ষপূর্তির পর থেকেই বকেয়া টাকার উপর সুদ দিতে হবে। কিস্তি বা সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক সুদ আরোপের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ধার্য সুদের উপর আরও দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন-শেয়ার বাজারের ৭,৬০৫ কোটি টাকা সরাল বিদেশি বিনিয়োগকারীরা, নতুন বছরের শুরুতেই ধস

রাজ্যের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের আওতায় যে সব ঋণ দেওয়া হয়, কিংবা নাবার্ড, এনসিডিসি-র মতো সংস্থার অর্থায়নে দেওয়া ঋণের সুদের হার ও শর্ত আলাদাভাবে নির্ধারিত হবে। বন্ধ বা রুগ্ণ শিল্পগুলিকে দেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে পৃথক শর্ত ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে ঋণের মূল টাকা ও সুদ সময়মতো আদায়ের বিষয়টি কঠোরভাবে নজরে রাখতে হবে। যেসব সংস্থা আগে ঋণ শোধে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের নতুন করে ঋণ দেওয়ার আগে বকেয়া সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

Latest article